৩০ হাজার কোটি টাকার পদ্মা সেতু বাঁকা কেন! এর আসল কারণ সবাইকে চমকে দেবে

বাংলাদেশে (Bangladesh) শুরু হয়েছে পদ্মা সেতুর (Padma Multipurpose Bridge) ওপর যান চলাচল। কিভাবে দীর্ঘ ১১ বছর ধরে এই সেতু তৈরি করা হয়েছে সেই ব্যাপারে আগেই জানিয়েছি। কিন্তু অনেকের মনেই প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে যে, সেতু ওরকম আঁকাবাঁকা কেন? সরলরেখার মত সোজা হলে কি অসুবিধা হতো? রয়েছে কোনো বিশেষ বৈজ্ঞানিক কারণ? নাকি এমনিই সুন্দর লাগবে বলে বানানো হয়েছে? সব উত্তর পাবেন এই প্রতিবেদনে।

পদ্মা সেতু খুব বড় না হলেও প্রায় ৬.১৫ কিমি লম্বা। তবে গোড়া থেকে ধরলে অবশ্য এর দৈর্ঘ্য বেড়ে হয় ১৪ কিমি। বাংলাদেশের মুন্সিগঞ্জ এলাকার মাওয়া থেকে শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্ত পর্যন্ত দীর্ঘ এই সেতু। তো এই এতবড় সেতু চাইলেই তো সোজা করা যেত, তাহলে আঁকাবাঁকা করা হলো কেন? এই ব্যাপারে সেতু কর্তৃপক্ষ নিজেরাই দিলেন উত্তর। চলুন দেখি কি বললেন তারা।

   

সেতু কর্তৃপক্ষ নিজেরাই জানায় যে, এর আগে বাংলাদেশের অত্যুৎসাহী জনতা তো ভেবেই বসেছিল যে সেতুকে সুন্দর দেখানোর জন্য এইভাবে আঁকাবাঁকা করা হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে তাই নয়। ইচ্ছে করে বাঁকানো হয়েছে যাতে দুর্ঘটনা কম হয়। এবার আপনারা ভাবতেই পারেন আঁকাবাঁকা সেতুতে কিভাবে দুর্ঘটনা কম হতে পারে? সেতু নির্মাণের পরিচালক শফিকুল ইসলাম জানান, এই সেতু যদি খুবই দীর্ঘ হয়, তাহলে চালকদের হাত সবসময়ই স্টিয়ারিংয়ে নাও থাকতে পারে। বাঁকা সেতুতে চালকরা অনেক সতর্ক থাকেন, তাই দুর্ঘটনার সংখ্যায় কম হয়।

শুধু তাই নয়, সেতুর দায়িত্বে থাকা আধিকারিকরা এও জানান যে, এর আগে আমেরিকা বা জাপানেও দীর্ঘ সেতুগুলিতে দুর্ঘটনা এড়াতে এরকমই বাঁকিয়ে বানানো হয়েছে। এর আরেক কারণ হলো যে, বাঁকিয়ে সেতু তৈরি করলে সেতুর ওপর চাপ কম পড়ে। বাঁকিয়ে সেতু বানালে এই চাপ ছড়িয়ে যাবে আশেপাশে। এছাড়া আর কিছুদিন পর থেকেই এখানে শুরু হবে ট্রেন চলাচল, আর ট্রেনের ঝাঁকুনি আরো বেশি, তাই সেতুকে মজবুত রাখার জন্যই এভাবে আঁকাবাঁকা ভাবে তৈরি করা হয়েছে সেতু।

padma bridge 1024x538 1

আপনাদের জানিয়ে রাখি যে, সেদেশের আধিকারিকরা যতই বৈজ্ঞানিক উপায়ে সেতু বানিয়ে দুর্ঘটনা এড়াবার চেষ্টা করুননা কেন, বাংলাদেশের অতিউৎসাহী জনগণ সেই চেষ্টা পন্ডশ্রম করেই থাকেন। সেতু উদ্বোধনে পর থেকে ঘটে গিয়েছে একের পর এক দুর্ঘটনা, বাধ্য হয়ে বাইক চলাচল বন্ধ রাখতে হয়েছে সেখানে।

সম্পর্কিত খবর