একসময় মহুয়া ফুল খেয়ে কেটেছে দিন, আজ আমেরিকায় নাম করা বিজ্ঞানী আদিবাসী তরুণ ভাস্কর

সফলতা এক এমন জিনিস যার কোনো শর্টকার্ট হয়না। সাফল্য পেতে চাইলে তার পথ একটাই, আর তা হলো পরিশ্রম। জীবন কোনো যুদ্ধক্ষেত্রের চেয়ে কম নয়। বরঞ্চ এখানে প্রত্যহ এক নয়া যুদ্ধক্ষেত্রে প্রবেশ করতে হয়। এই যুদ্ধক্ষেত্রে জয়ী হতে গেলেও প্রয়োজন হয় জেদ, স্থৈর্য এবং কঠিন মানসিকতার। যারা এই কাজে সক্ষম হন, তারা বাকিদেরও অনুপ্রেরণা জোগান। আর আজ তেমনই একজনের সফলতার গল্প সম্পর্কে জানাবো আপনাদের।

অনেক ব্যবসায়ীর সফলতার গল্প সম্পর্কে জানিয়েছি আমরা। কিন্তু আজ যার সম্পর্কে আলোচনা করবো তিনি কোনো ব্যবসায়ী নন, তার কাজ বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাওয়া। হ্যাঁ ঠিকই ধরেছেন, তিনি একজন বিজ্ঞানী। মহারাষ্ট্রের গডচিরৌলির কুরখেড়া তহসিলে এক বনবাসী পরিবারে জন্ম হয় এই বিজ্ঞানীর, তার নাম ভাস্কর হলামি।

pfsdrodluiicrlta 1668324093

ছোট থেকেই ভাস্করের স্বপ্ন অনেক দূর অবধি চলার। প্রত্যন্ত গ্রামের এই যুবক বড় কিছু করার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকেন। এই কাজের মাঝে এসেছে হাজারো প্রতিবন্ধকতা, এসেছে বাধা, কিন্তু ভাস্কর তার লক্ষ্যে স্থির! আধপেটা খেয়েও সফলতার শীর্ষে উঠেছেন তিনি। আর এখন ভাস্কর হলামি দেশের মানুষের কাছে একজন আইকন।

ভাস্কর বর্তমানে আমারিকার মেরিল্যান্ডে এক বায়োফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির বিজ্ঞানী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। কিন্তু বিদেশ গিয়ে ভুলে যাননি নিজের মাতৃভূমিকে। নিজের অভাব দারিদ্র্যকেও ভোলেননি তিনি। তার কথায়, “আমাদের এমনও দিন গিয়েছে যেদিন একটা থালা থেকে পুরো পরিবার দুপুরের খাবার খেয়েছি। কোনো কোনো দিন আবার কিছুই না খেয়ে ঘুমোতে হয়েছে। আমি এবং আমার বাড়ির লোকেরা কিভাবে যে বেঁচে ছিলাম, এটা ভেবেই এখন অবাক হই।’’

ভাস্কর আরো যোগ করেন ‘‘অধিকাংশ দিন মহুয়া ফুল রান্না করে আমাদের সবাইকে খেতে হত। যদিও, সেই খাবার খাওয়া আদৌ সহজ ছিল না। পাশাপাশি এগুলি হজম করাও কঠিন ব্যাপার। তবে, ওইসব খেয়েই কোনোভাবে টিকেছিলাম আমরা।” কিন্তু এসবের মধ্যেও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ হারাননি তিনি।

নিজের গ্রামের স্কুলে চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেন তিনি। এরপর অনেক কষ্টে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক এবং তারপর কলেজ আর বিশ্ববিদ্যালয় পাস করেন তিনি। নাগপুরের ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে এমএসসি পাশ করেন ভাস্কর। আজ তার কাছে PhD ডিগ্রীও রয়েছে। গত ২০০৩ সালেই নাগপুরের লক্ষ্মীনারায়ণ ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে অধ্যাপক হিসাবে যোগদান করেন তিনি।

সেখানেই থেমে থাকেননি তিনি। এরপর মহারাষ্ট্র পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় পাশ করে গবেষণার কাজে লিপ্ত হন তিনি। মিশিগান টেকনোলজিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেছেন তিনি। পড়াশোনার বিষয়ে ভাস্কর বলেন, ‘‘আমার বাবা-মায়ের বেশিদূর পড়াশোনা ছিল না। তবে, তাঁরা নিজেদের সবটুকু দিয়ে আমার এবং ভাইবোনদের পড়াশোনা চালিয়ে নিয়ে গিয়েছেন।’’

➦ আপনার জন্য বিশেষ খবর

Back to top button