স্বামীর থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়ে শুরু করেছিলেন ব্যবসা, আজ এক লাখ কোটির কোম্পানির মালকিন

বৈদিক যুগ থেকেই হিন্দু ধর্মে নারীকে সর্বোচ্চ স্থান দিয়ে সকল শক্তির উৎস রূপে পুজো করা হয়েছে। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই গরিমা হারিয়ে যেতে শুরু করে। এরপর প্রথমে শুরু হয় বহিরাগত অত্যাচারীদের আক্রমন, লুণ্ঠন। একের পর এক দস্যুর আক্রমণে ছারখার হয়ে যায় আমাদের এই সোনার দেশ। কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দেয় ব্রিটিশরা। আর এরপরই শুরু হয় নারীদের গৃহবন্দি। কিন্তু বর্তমানে আবারো মাতৃশক্তির জয়ধ্বজা উড়ছে। তেমনই একজনার ওপর আমাদের আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদন।

নারীরা সবসময়ই অনুপ্রেরণার উৎস কিন্তু আজ যার কথা বলছি তাকে চেনেন না এমন খুব কমই আছেন। আজ আমরা বিখ্যাত লেখিকা সুধা মূর্তির কথা বলছি। তবে তাকে শুধু লেখিকা বলে ছেড়ে দিলে একটু ভুল হয়ে যাবে। তিনি তার সাথে একজন উদ্যোক্তা এবং পরোপকারী (philanthropist) ও জনহিতৈষী কাজে ব্রতী। তিনি ভারতের অন্যতম বড় টেক জায়ান্ট ইনফোসিস ফাউন্ডেশন এর চেয়ারপার্সন। তিনি ও তার ফাউন্ডেশন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষাদানে এবং বাকি সমস্ত সুযোগ সুবিধাদানে ব্রত।

কেমন ছিল তার জীবন?

১৯৫০ সালের ১৯শে আগস্ট তার জন্ম হয় কর্ণাটকের শিগগাঁওয়ে। তার বাবা ছিলেন একজন বিখ্যাত সার্জেন। ছোটো থেকেই সুশিক্ষিত পরিবেশে মানুষ হওয়া সুধা খুব অল্প বয়স থেকেই কিছু করে দেখানোর আবেগ নিয়ে বড় হয়েছিলেন। তার সেই শিক্ষা আজ তাকে এক বড় লেখিকা করে তুলেছে। ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে নিজের B.E. শেষ করে তিনি উচ্চ শিক্ষার কারনে ভর্ত্তি হন ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সে। সেখানে তিনি কম্পিউটার সায়েন্সে নিজের এমই সম্পূর্ন করেন।

লেখিকা হিসেবে কেমন সুধা মূর্তি?

ছোটবেলা থেকেই তিনি নিজের শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। এরপর ২৯ বছর বয়সে সুধা তার প্রথম বই প্রকাশের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গিয়েছিলেন। সেখানেই তিনি তার স্বামী এবং বন্ধু নারায়ণ মূর্তিকে তার লেখা প্রথম বই উৎসর্গ করেন। বর্তমানে তার লেখা অনেক বই ইংরেজি এবং দেশের বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করে প্রকাশিত হয়েছে।

sudha murthy

কি করেন তিনি?

সুধা মূর্তি ইনফোসিস ফাউন্ডেশনের মতো একটি বড় কোম্পানির চেয়ারপারসন এবং ট্রাস্টি। ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স, ব্যাঙ্গালোর থেকে ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর নিয়ে সুধা মূর্তি ১৯৯৬ সালে ইনফোসিস ফাউন্ডেশন শুরু করেন। তিনি তার ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বন্যা দুর্গত এলাকায় ২,৩০০ টিরও বেশি বাড়ি তৈরি করেছেন। তারা পাবলিক স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, শিল্প ও সংস্কৃতি এবং সর্বোপরি দারিদ্র্যকে মিটিয়ে ফেলার ওপর কাজ করে। আজ তার এই সাফল্যে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন আরো অনেক মহিলা।

➦ আপনার জন্য বিশেষ খবর

Back to top button