চলন্ত ট্রেনে চালক ঘুমিয়ে পড়লে কী হবে? ৯৯% মানুষ জানেন না ভারতীয় রেলের এই ব্যবস্থা

ভারতীয় রেল (Indian Railways) বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম এবং এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম রেল নেটওয়ার্ক। ট্রেন (Train) পরিবহনের এমন একটি মাধ্যম, যেখানে প্রতিটি শ্রেণির মানুষই নিজের সুবিধামত যাতায়াত করতে পারেন। আর এই পুরো ট্রেনটি একটিমাত্র ইঞ্জিন দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হয়। ট্রেনের চালককে বলা হয় লোকো পাইলট। কিন্তু একবার ভেবে দেখুন তো ট্রেনের চালক অর্থাৎ লোকো পাইলট ঘুমিয়ে পড়লে কী হবে?

ট্রেনে একইসাথে হাজার হাজার যাত্রী ভ্রমণ করেন। আর সেইজন্য ট্রেনের চালক যাতে কোনোভাবেই তন্দ্রাচ্ছন্ন না হয়ে পড়েন সেই ব্যাপারে বিশেষ ব্যবস্থা রেখেছে ভারতীয় রেল। চালক ছাড়াও ট্রেনে থাকেন আরেকজন সহকারী চালক।

চালক ঘুমিয়ে পড়লে বা অন্য কোনো সমস্যা হলে সহকারী চালক তাকে জাগিয়ে তোলেন। এছাড়া কোনো গুরুতর সমস্যা হলে পরের স্টেশনে জানানো হয় এবং সংশ্লিষ্ট ট্রেনকে থামানো হয়। এরপর স্টেশন থেকে ট্রেনে নতুন চালক দেওয়া হয়।

কিন্তু যদি তারা দুজনেই ঘুমিয়ে পড়ে তখন কী হবে : অনেকের মনে এটাও নিশ্চয়ই আসছে যে ট্রেনের দুজন চালকই যদি ঘুমিয়ে পড়েন তাহলে কী হবে! আসলে এটি হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। তবুও রেলওয়ে যাত্রীদের সুরক্ষায় ট্রেনের ইঞ্জিনে ‘ভিজিল্যান্স কন্ট্রোল ডিভাইস’ বসিয়েছে।

ট্রেনের ইঞ্জিনে ইনস্টল করা এই ডিভাইসে ড্রাইভার যদি এক মিনিটের জন্য প্রতিক্রিয়া না দেখান তবে ১৭ সেকেন্ডের মধ্যে একটি অডিও ভিজ্যুয়াল মেসেজ আসে। চালককে বোতাম টিপে সেটি গ্রহণ করতে হয়। ড্রাইভার যদি এই নির্দেশে সাড়া না দেয় তাহলে তার ১৭ সেকেন্ড পরে স্বয়ংক্রিয় ব্রেকিং শুরু হয়ে যায়।

rail train

ট্রেন চালানোর সময় চালককে বারবার গতি বাড়িয়ে হর্ন বাজাতে হয়। অর্থাৎ চালক ডিউটির সময় সম্পূর্ণ সক্রিয় থাকেন। যদি তিনি এক মিনিটের জন্য সাড়া না দেন, রেল এই অডিও ভিজ্যুয়াল ইঙ্গিত পাঠায়। চালকের কাছ থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় ট্রেনটি ১ কিলোমিটার দূরে অটোম্যাটিক থেমে যায়। ট্রেনের ভিতরে থাকা রেলওয়ের অন্যান্য কর্মচারীরা বিষয়টি সামলে নেন। এভাবে রেলওয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে বাধা দেয়।

➦ আপনার জন্য বিশেষ খবর

Back to top button