পদ্মা সেতু নির্মাণে অবদান রয়েছে ভারত সহ ২০ দেশের, কত ঘণ্টা লেগেছে জানলে ‘হাঁ” হয়ে যাবেন

মাত্র কয়েকদিন আগেই পড়শী দেশ বাংলাদেশে (Bangladesh) তৈরি হয়েছে তাদের স্বপ্নের পদ্মা সেতু (Padma Bridge)। ১৯৯৯ সাল থেকে আজ ২০২২, এই ২৩ বছরের স্বপ্ন পূরণ হলো বাংলাদেশীদের। এতদিনের বিচ্ছিন্ন থাকা পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ হওয়ায় অর্থনৈতিক জোয়ার আসবে বলে মত সেদেশের অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।

ঘটনার সূত্রপাত হয় ১৯৯৯ সালের মে মাসে। সবে তারা এই সেতু গড়ার বুনিয়াদ দেখতে শুরু করেছে। এরপর ২০০১ সালের ৪ জুলাই বঙ্গবন্ধু কন্যা হাসিনা, সেতুর ভিত্তপ্রস্তর স্থাপন করেন ২০০১ সালের ৪ জুলাই। এরপর স্রোতস্বিনী পদ্মার মধ্যে বয়ে যায় অনেক জল, এবং অবশেষে ২০০৯ সালে সেতুর নয়া নকশা তৈরির পর তা শেষ হয় ২০১০ সালে। বস্তুত সেই সালেই শুরু হয় পদ্মা সেতুর নির্মাণকার্য।

সেতুর নকশা তৈরি করেন রবিন শ্যাম, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। নকশা সম্পূর্ন হওয়ার পর ক্ষমতায় থাকা হাসিনা সরকার ঠিক করেন যে, তারা নিজেদের অর্থেই তৈরি করবেন এই সেতু। এরপর গড়িয়ে যায় আরো অনেকটা সময়, কাজ শুরু করতে লেগে যায় আরো ৪ বছর। অবশেষে ২০১৪ সালের ৮ ডিসেম্বর শুরু হয় সেতু তৈরির কাজ। প্রত ১০ কিলোমিটার লম্বা এই সেতুর ৬ কিমি রয়েছে জলের ওপর। আর এই প্রজেক্ট সম্পূর্ন করতে লেগে যায় প্রায় ৮ বছর।

২,৭৫৭ দিন অর্থাৎ ৬৬,১৬৮ ঘণ্টা নিরলস পরিশ্রমের পর তৈরি হয় বাংলাদেশের গর্বের এই সেতু। চার লাইনের এই সেতু চওড়ায় প্রায় ২২ মিটার এবং সেতু তৈরির জন্য ২৯৪ টি স্টিলের ফাঁপা পাইপ ব্যাবহার করা হয়। এই পাতগুলি তৈরি হয়েছে চিনের একটি কারখানায়। প্রথমে এই সেতুর দায়িত্বে ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার জামিলুর রেজা চৌধুরী। পরে তার মৃত্যু হলে সেই দায়িত্বভার গ্রহণ করেন অধ্যাপক শামীম জাহান বসুনিয়া।

এই সেতু ভারতের বগিবিল ব্রিজের মতোই দুই লেয়ারে বানানো, নিচের লেয়ারে থাকবে ট্রেন চলাচলের সুবিধা এবং ওপর যাবে বাস, ট্রাক, লরি ইত্যাদি। তবে এখনই শুরু হয়নি রেল চলাচল। জানিয়ে রাখি যে ভারত সহ ২০ টি দেশের সাহায্যে তৈরি হয়েছে এই সেতু। সেতুর নির্মাণ করেছে চিনা সংস্থা ‘চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি। এছাড়া নদীশাসনের কাজ করেছে চিনের সিনো হাইড্রো কর্পোরেশন।

padma bridge

সীমিত অর্থের মধ্যেই বাংলাদেশ যা করেছে তা প্রশংসাযোগ্য। ওই পুঁচকে বাজেট নিয়েও যে ভালো পরিকাঠামো ব্যবস্থা নির্মাণ করা যায় তাই যেন প্রমাণ করেছে তারা। যদিও ভারতে নির্মাণ হওয়া ব্রিজগুলোর সামনা সামনিও আসেবনা এই পদ্মা সেতু। বাংলাদেশের এই প্রজেক্টে সাফল্য পাওয়া, দেশটির এগিয়ে চলার পথে এক সুবর্ণ সময় নিয়ে আসল।

➦ আপনার জন্য বিশেষ খবর

Back to top button