সেদিন প্রসেনজিৎ হ্যাঁ করে দিলে আজ কেউ চিনত না সলমনকে! এভাবে ভাইজানের কেরিয়ার বাঁচান বুম্বাদা

জীবনের ৫৯ টি বসন্ত পার করে ৬০ বছরে পা দিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় (Prosenjit Chatterjee)। এমনিতে তো ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র তিনি ছিলেনই এবার থেকে খাতায় কলমেও সিনিয়র তকমা জুটে গেলো। ইন্ডাস্ট্রি থেকে শুরু করে গোটা বাংলা তাকে চেনে বুম্বাদা নামেই। কিন্তু জানেন কি আর একটু হলেই এই ডাকটা বলিউডের সবার মুখে থাকত।

সবে তখন ইন্ডাস্ট্রিতে এসেছেন। বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে নায়ক হিসেবে তার আত্মপ্রকাশ। আর এসেই বাজিমাত। একটার পর একটা হিট ছবি আর দূর্দান্ত অভিনয় দিয়ে মাত করছেন বক্স অফিস। ঠিক সেই সময়ই ডাক আসে বলিউড থেকে। খ্যাতনামা পরিচালক ডেভিড ধাওয়ান তাকে ডেকে পাঠান। ছবির নায়িকা ছিলেন আয়েশা জুলকা।

   

শুধু তাই নয়, এরপরেই ডাক আসে ‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’ ছবির। ছবির জনপ্রিয়তার কথা তো কারোরই অজানা নয়। জেনে অবাক হবেন এই ছবির জন্য পরিচালকের প্রথম পছন্দ ছিলেন প্রসেনজিৎই। কিন্তু এইরকম অফার হেলায় ছেড়ে দেন তিনি। কিন্তু কেন জানেন? টলিউডে কান পাতলেই শোনা যায়, সে সময়ে ‘বুম্বাদা’ ছেড়ে চলে গেলে এখানকার বহু প্রযোজক বিপদে পড়তেন। আর ইন্ডাস্ট্রির কথা ভেবেই নাকি এতোবড়ো সুযোগ হাত থেকে যেতে দিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে সেই ছবির অফার চলে যায় ভাইজেনের কাছে, আর তার পরের খবর তো সবার জানা।

তবে ‘ম্যায়নে প্যায়ার কিয়া’ ছবি ছেড়ে দিলেও বলিউডের সঙ্গে তার সম্পর্ক কিন্তু এখানেই শেষ হয়ে যায়নি। দিবাকর বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিচালনায় বেশ কিছু হিন্দি ছবিতেও কাজ করেছেন তিনি। আবার কাজ করেছেন হিন্দি ছবির বাংলা রিমেকেও। কিন্তু কী এমন হতো যদি তিনি টলিউড ছেড়ে চলে যেতেন? টলি পরিচালক পীযূষ সাহার কথায়, ‘আমি তখনও প্রযোজনায় আসিনি। এসেছি পরে। যদিও অনেকের কাছেই শুনেছি, বুম্বাদা বলিউডের হিট ছবির অফার পেয়েও যাননি। এখানে বোধহয় কিছু কথা দেওয়া ছিল।’

এইদিন কথাপ্রসঙ্গে উঠে এলো বুম্বাদার বলিউড সুযোগের কথা। পরিচালকের কথাতেই জানা গেলো, ‘কোনও কিছুই কারও জন্য থেমে থাকে না। বুম্বাদা যাননি, ফলে বাংলা ছবির বিরাট উন্নতি হয়েছে। এটা মেনে নিতেই হবে। কিন্তু বুম্বাদা না থাকলে হয়তো অন্য কেউ উঠে আসতেন। কেউ এগিয়ে নিয়ে যেতেন নায়ক হিসাবে। বিনোদনের চাহিদা তো মানুষের শেষ হত না। সেটা কেউ না কেউ পূরণ করতেনই।’

prosenjit dev video

এখানে আরো একটা প্রশ্ন আসে, যদি সেদিন ‘ম্যায়নে প্যায়ার কিয়া’ ছবির অফার প্রসেনজিৎ নিয়ে নিতেন তাহলে সলমন খানের কেরিয়ারের কী হতো? কারণ এই ছবির হাত ধরেই বলিউডে পরিচিতি পেয়েছিলেন ভাইজান। তাহলে কি সলমনের কেরিয়ার আদৌ শুরু হতে পারতো? প্রসেনজিৎ অনুরাগীরা তো বলেন, তাহলে ঐশ্বর্য থেকে ক্যাটরিনা সকলকেই আমরা বুম্বাদার নায়িকা হিসেবে দেখতে পেতাম।

সম্পর্কিত খবর