বাবা রিক্সা চালক, মা দিনমজুর! ২১ বছর বয়সে দেশের সর্বকনিষ্ঠ ‘IAS” হয়ে ইতিহাস গড়লেন ছেলে

যত অসুবিধাই হোক না কেন, লক্ষ্য অর্জনের ইচ্ছা যখন প্রবল হয়, তখন পৃথিবীর কোনো শক্তিই আপনাকে আপনার গন্তব্যে পৌঁছাতে বাধা দিতে পারে না। এটাই বাস্তবতা। আমাদের সমাজে এমন অনেক উদাহরণ রয়েছে যেখানে লোকেরা অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং পারিবারিক সমস্ত সমস্যা মোকাবেলা করে সাফল্যের দিকে এগিয়ে গিয়েছেন। আমাদের আজকের গল্পটিও এমন একজন ব্যক্তির ওপর, যিনি শৈশব থেকেই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন এবং হাল ছেড়ে না দিয়ে নিজেকে সক্ষম করে তুলেছেন। আজ সেই ব্যক্তি একজন সফল প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

মারাঠওয়াড়ার শেলগাঁও-এ জন্ম নেওয়া আনসার শেখ, দেশের অন্যতম কনিষ্ঠ আইএএস অফিসার। কিন্তু তাঁর সংগ্রামের গল্প খুবই অনুপ্রেরণাদায়ক। তার বাবা চালাতেন অটোরিকশা এবং তার মা অন্যের জমিতে কাজ করতেন। ছোটবেলা থেকেই খাবারের জন্য লড়াই করে বড় হয়েছেন তিনি। খরাপ্রবণ এলাকা হওয়ায় ঠিকঠাক কৃষিকাজ করাও সম্ভব হয়নি। এবং এরই সাথে গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মত তাদের গ্রামের প্রায় প্রত্যেকের ছিল মদের নেশা। মদের শিকারে ডুবে মারাও গিয়েছিল অনেকে। আনসারের বাবাও প্রতিদিন মদ খেয়ে বাড়িতে আসত এবং গালাগালি করত। এই এতসবের মাঝে বেড়ে ওঠা আনসার, তরুণ বয়সেই শিক্ষার গুরুত্ব উপলব্ধি করেছিলেন। দিন দিন তার বাবার অর্থনৈতিক অবস্থার অবনতি দেখে লোকজন আনসারকে লেখাপড়া ছেড়ে দিতে বলে।

সেই সময়ের কথা স্মরণ করে আনসার বলেন, “আমি যখন চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ি, তখন আমার আত্মীয়রা আমাকে পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছিল।” আনসার ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ছাত্র ছিলেন। যখন তার বাবা তার পড়াশুনা বন্ধ করার জন্য শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ করেন, তখন সবাই তার বাবাকে খুব বুঝিয়ে বলে যে, ভবিষ্যতে এই শিশুটি অনেক উঁচুতে উঠতে পারে এবং পারিবারিক পরিস্থিতি পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখে। এরপর তার বাবা তাকে তার লেখাপড়ার বিষয়ে কিছু বলেননি।

আনসার জানান যে, তিনি যখন জেলা পরিষদের স্কুলে পড়তেন, তখন মিড-ডে মিলই ছিল তার ক্ষুধা নিবারণের একমাত্র উপায়। এমনকি প্রায়শই খাবারে পোকামাকড় খুঁজে পেলেও তাদের ক্ষুধা মেটানোর জন্য মিড ডে মিল ছাড়া অন্য কোনো অবলম্বন ছিলনা। সময় অতিবাহিত হতে থাকে এবং দ্বাদশ শ্রেণিতে তিনি ৯১ শতাংশ নম্বর নিয়ে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এটাই ছিল তার সাফল্যের প্রথম ধাপ। এরপর দ্বাদশ শ্রেণিতে তার অসাধারণ পারফরম্যান্স, শুধুমাত্র তার পরিবারের সদস্যদের আস্থা অর্জন করেনি, বরং সারা গ্রামের মানুষ তাকে ভিন্ন চোখে দেখতে শুরু করে।

ইংরেজি ছিল আনসারদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা কারণ তিনি মারাঠি মিডিয়ামে পড়াশোনা করেছেন। কিন্তু তারপরও তিনি হাল ছাড়েননি। পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় তিনি পুনের বিখ্যাত ফার্গুসন কলেজে ভর্তি হন। তার বাবা তাকে প্রতি মাসে আয়ের একটি ছোট অংশ পাঠাতেন, যা দিয়ে তিনি চালিয়ে নিতেন তার যাবতীয় খরচ। কলেজের প্রথম বর্ষে, তিনি ইউপিএসসি পরীক্ষা সম্পর্কে জানতে পেয়েছিলেন এবং তারপরে UPSC কে তার লক্ষ্যে পরিণত করেছিলেন। কঠোর পরিশ্রম করার পর ২০১৫ সালে যখন ফলাফল ঘোষণা হয়, তখন তার যাবতীয় পরিশ্রম সার্থক হয়। ২১ বছর বয়সে তার প্রথম প্রচেষ্টায় সাফল্য অর্জন করেছিলেন এবং দেশের কোটি কোটি যুবকদের সামনে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।

➦ আপনার জন্য বিশেষ খবর

Back to top button