বাবা-মা দিনমজুর, ইন্টারভিউয়ে যাওয়ার জন্য হাতে ছিলনা টাকা! IAS হয়ে সম্মান বাড়ালেন মেয়ে

জীবনের চেয়ে বড় সংগ্রাম আর কিছুই হতে পারেনা। জীবনযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়ে জিততে চাইলে প্রয়োজন পড়ে কঠিন লড়াই করার মানসিকতা এবং আত্মবিশ্বাসের। নিজের গন্তব্যে পৌঁছাতে চাইলে মানসিক ধৈর্য্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজ সেরকমই একজনের কথা আপনাদের জানাতে চলেছি, যার জীবনযুদ্ধের কাহিনী আজ লাখো তরুণ তরুণীকে অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে।

আজকের এই গল্প কেরালার ওয়ানাড় জেলার এক আদিবাসী সমাজের মহিলার। তার নাম শ্রীধন্য সুরেশ। ২০১৮ সালে UPSC পরীক্ষাতে উত্তীর্ণ হয়ে আজ দেশের একজন IAS অফিসার হয়েছেন তিনি। এই যাত্রা মোটেই সুখকর থাকেনি তারজন্যে। কিন্তু তিনি নিজের সাফল্যে পৌঁছে প্রমাণ করেছেন লক্ষ্যের প্রতি স্থির থাকলে এবং সাথে কঠিন পরিশ্রম করে গেলে সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছানো শুধু সময়ের অপেক্ষা।

তিনিই কেরালার প্রথম আদিবাসী মহিলা যিনি IAS অফিসার হতে পেরেছেন। আজ তার জীবনকাহিনী আপনাদের সামনে তুলে ধরবো, কীভাবে তিনি পৌঁছলেন দেশের শীর্ষস্থানীয় আধিকারিক পদে। শ্রীধন্যার বাড়ির আর্থিক অবস্থা মোটেই ভালো ছিল না। তার বাবা দিনমজুর হওয়ার পাশাপাশি গ্রামের বাজারে বিক্রি করতেন তীর-ধনুক। তার মা ও ছিলেন মনরেগার শ্রমিক।

তাদের দুজনের রোজগারের পরও বাড়িতে চূড়ান্ত আর্থিক সমস্যা ছিল। বাড়ির অবস্থাও ছিল খুব খারাপ, বহুকষ্টে দিন গুজরান হয় তাদের। কিন্তু এতসবের মধ্যেও নিজেদের সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যাপারে কখনো আপস করেননি শ্রীধন্যার বাবা-মা। বাড়িতে ছেলে মেয়ের মধ্যে কোন পার্থক্য রাখেননি তারা। এমতবস্থায় বাড়ির অবস্থা দেখে শ্রীধন্য সুরেশ সিদ্ধান্ত নেন বড় কিছু করার। আর সেইজন্য UPSC, IAS কে বেছে নেন তিনি।

পড়াশোনা সম্পন্ন করেন গ্রামেরই একটি সরকারি স্কুল থেকে। এরপর সেন্ট জোসেফ কলেজ থেকে প্রাণিবিদ্যায় নিজের স্নাতক সম্পন্ন করেন তিনি। পরবর্তী পড়াশোনার জন্য তিনি চলে যান কোঝিকোড়ে। সেখানের কালিকট ইউনিভার্সিটি থেকে নিজের মাস্টার্স সম্পুর্ণ করার পর তিনি খুঁজতে শুরু করেন সরকারি চাকরি। এর কিছুকাল পরে তিনি কেরালায় তফসিলি উপজাতি উন্নয়ন বিভাগে কেরানি হিসাবে যোগ দেন।

এরপরই তিনি শুরু করেন UPSC পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে। ২০১৬ এবং ২০১৭ সালে UPSC পরীক্ষায় বসলেও সফল হতে পারেননি তিনি। এরপর ২০১৮ সালে আবার পরীক্ষা দিয়ে ৪১০ তম স্থান অর্জন করেন। শ্রীধন্যা এক সাক্ষাতকারে জানিয়েছিলেন যে, তিনি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন শুনে সারা গ্রাম তাকে নিয়ে উৎসাহ ফেটে পড়ে। কিন্তু তিনি এও জানান যে, ইন্টারভিউ এর জন্য তাকে যখন দিল্লী যেতে হয়েছিল তখন তার কাছে ছিলনা ট্রেনের ভাড়াও। এরপর তার বন্ধুরা তাকে সবাই মিলে ৪০,০০০ টাকা যোগাড় করে দেয়।

➦ আপনার জন্য বিশেষ খবর

Back to top button