বাদ দিন দিঘা-পুরী, ঘুরে আসুন পশ্চিমবঙ্গের কাছের এই হিল স্টেশন থেকে! হারিয়ে যাবেন সৌন্দর্যে

ঘুরতে যেতে ভালোবাসেন না এমন মানুষ বোধহয় পাওয়া যায় না। বাঙালির র তো আবার সারাবছরই ভ্রমণ পিপাসু। ঘুরতে যেতে না পেলে বাঙালির মন বেশ আনচান করতে থাকে। কিন্তু কোথায় যাওয়া যায়! যারা দীঘা (Digha) পুরী (Puri) সহ দার্জিলিং ঘুরে গিয়েছেন তাদের জন্য এ মহা সমস্যার ব্যপার! কিন্তু চিন্তা নেই আপনাদের জন্য আমরা দারুণ এক জায়গার খোঁজ নিয়ে এসেছি।
প্রথমেই বলে রাখি আপনি যদি পাহাড়ে ট্রেক করতে ভালোবাসেন তাহলে সোনায় সোহাগা। পাহাড়ের নাম শুনে নিশ্চয়ই মুখে হাসি ফুটেছে! কিন্তু এবার যে জায়গার ব্যাপারে জানাবো সেটা কিন্তু বেশ অন্যরকম জায়গা। যাওযার জন্য পাবেন না কোনো গাড়ি, পায়ে হেঁটে অর্থাৎ ট্রেক করেই উঠতে বলবে সেখানে। আজ আমরা বারসি রডোডেনড্রন অভয়ারণ্যর কথা জানাতে চলেছি আমরা।
সিকিমে (Sikkim) অবস্থিত এই অভয়ারণ্য। সেখানে যাওযার জন্য আপনাকে চিরাচরিত নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনেই নামতে হবে। এরপর সেখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে সোজা গ্যাংটক। সিকিমের রাজধানীতে একরাত অবশ্যই কাটাবেন, কারণ সেই স্থানের সৌন্দর্য্যও কম কিছুনা। গ্যাংটক থেকে ১৩০ কিমি দূরেই রয়েছে এই বারসি রডোডেনড্রন অভয়ারণ্য।
জায়গাটির আসল রূপ দেখার জন্য আপনাকে এপ্রিল থেকে মে মাসের মধ্যে এই স্থানে পৌঁছাতে হবে। সেইসময়ই এখানের প্রকৃতির রূপ মাধুর্য্য উপভোগ করতে পারবেন আপনি। এখানে রয়েছে ৩৮টি জাতির রডোডেনড্রন। এর মধ্যে ১৯ প্রকার ফুলের দেখা পাবেন আপনি। সিকিমের এই রডোডেনড্রন অভয়ারণ্য বিশ্বের যে সব স্থানে রডোডেনড্রন পাওয়া যায় তার মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। এশিয়া মহাদেশে একদম পয়লা নম্বর স্থান রয়েছে সেটির।
তবে শুধুই ফুল নয়, সেখানে পাখি তো বটেই সাথে আরেকটি জিনিস দেখতে পাবেন আপনি। সিকিমের এই অভয়ারণ্যের রেড পান্ডার দেখা মিলবে আপনাদের। উল্লেখ্য, এখানের ফুলের প্রচার করার জন্য রডোডেনড্রন ফেস্টিভ্যালেরও আয়োজন করে সিকিম সরকার। সুন্দরী কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা পেতে চাইলেও এই স্থান আদর্শ। তাহলে আর দেরি কিসের, সামনের এপ্রিল অথবা মে মাসে ঘুরে আসুন বারসি রডোডেনড্রন অভয়ারণ্য থেকে।