ভবিষ্যতে কী হবে জানিনা! কোন অশনি সংকেতের আভাস পেয়ে এই কথা বললেন ভুবন বাদ্যকর?

বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে যদি কারো জীবন সবচেয়ে বেশি বদলেছে তা হলো কাঁচা বাদাম খ্যাত ভুবন বাদ্যকারের। একটা গান গেয়েই যে তার জীবন বদলে যাবে তা তিনি নিজেও কল্পনা করতে পারেননি। ছোটবেলা থেকে আর্থিক অনটনের মধ্যে দিয়ে যাওয়াতে পড়াশোনা করার ও সুযোগ হয়নি তার। কিন্তু তিনি জানান যে, গানের প্রতি ঝোঁক ছিল তার খুব ছোট থেকেই। এবং কীর্তন যে তার খুব পছন্দের তাও জানান তিনি।

এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন যে, একটা গানের কারণে কোনোদিন এতটা বিখ্যাত হয়ে যাবেন, তা ভাবেননি কখনও। একসময় তিনি কাঁচা বাদাম বিক্রি করতেন আর থাকতেনও কাঁচা বাড়িতে। পরবর্তী সময়ে এই গানের জন্যই জীবনে আনন্দ ফিরে আসে তার। কিন্তু তিনি নিজের অতীত ভোলেননি, একটা সময় ছিল যখন তার নুন আনতে পান্তা ফুরাতো। আয়ের চেয়ে ব্যয়ের পরিমান ছিল অনেক বেশি।

এরমভাবে বাদাম বিক্রি করতে করতেই একদিন গান বেঁধে ফেললেন তিনি। এবার সেই গান আমূল বদলে দিল তার জীবন। তিনি জানান যে, “একদিন তিনি বাদাম বিক্রি করতে বেরিয়ে ওই বাদাম বাদাম গান গাইছিলেন, এবং সেই সময়ই কোনো একজন ভিডিয়োটি রেকর্ড করে দিয়ে দেয় ফেসবুকে।” তবে তিনি এও জানান যে, প্রথমেই কি হয়েছে তিনি বুঝতে পারেননি। কিন্তু এরপরই অনেকে তার খোঁজ করতে শুরু করে। তারপরে তিনি বুঝতে পারেন যে, তার গান ভাইরাল হয়েছে। বাদাম কাকু জানান, ‘জীবনটা বদলে গিয়েছে ঠিকই, কিন্তু ভবিষ্যৎ জানা নেই।” কোনও অশনি সংকেতের আভাস পেয়েছেন ভুবন বাদ্যকর?  তার এ কথা শোনার পর সবার মনে এই প্রশ্নই ঘুরঘুর করছে।

এরপর তার জীবনে ঘটেছে অনেক উন্নতি, সাইকেল ছেড়ে কিনেছেন মোটরবাইক, কাঁচা বাড়ি ছেড়ে বানিয়েছেন পাকা বাড়ি। তার মতে এসবই সম্ভব হয়েছে তার শুভাকাঙ্ক্ষীদের জন্যই। একসময় খড়ের চালের বাড়িতে থাকতেন , আর আজ তার উঠেছে পাকা বাড়ি। তবে খুব সহজে যে তাই হয়নি সেটাও জানান তিনি। তবে তিনি এতদিনের মধ্যে যত টাকা পেয়েছেন সব টাকা কাজে লাগিয়ে এবং সরকারি প্রকল্পের ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দিয়ে তৈরি করেছেন তার সাধের বাড়ি।

bhuban badyakar
মাটির বাড়ি ছেড়ে বিল্ডিংয়ে ভুবন বাদ্যকর, ভাইরাল নতুন বাড়ির ভিডিও

ইতিমধ্যে তার বাড়ির অন্দর সজ্জা নিয়েও প্রকাশিত হয়েছে বেশ কিছু রিপোর্ট। এক জনপ্রিয় ইন্টেরিয়র ডিজাইনার ডিজাইন করেছে তার বাড়ি। তবে সেই টাকা তার নয়, এক শো করতে গিয়ে সেখানে টাকা না নিয়ে তিনি বাড়ির অন্দরসজ্জার যাবতীয় কাজ তাদের দিয়ে দেন। একসময় চরম অন্ধকারে থাকলেও আজ তিনি আলোর মুখ দেখেছেন।

➦ আপনার জন্য বিশেষ খবর

Back to top button