চন্দ্রযান, আদিত্য L1 অতীত! এবার যা করতে চলেছে ISRO, শুধরে যাবে আপনার দৈনন্দিন জীবন

মহাকাশের (Space) দুনিয়ায় ফের একবার নতুন নিজের দৌরাত্ম্য দেখতে চলেছে ভারত (India)। বিগত বছর অর্থাৎ ২০২৪৩ সালটা ছিল ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বিগত বছরে ভারত এক ধাক্কায় আরো বেশ খানিকটা এগিয়ে গিয়েছে যেন। আর ভারতের এহেন এগিয়ে যাওয়ার পেছনে পেছনে অনেকটাই হাত রয়েছে ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর (Indian Space Research Organisation)।

২০২৩ সালের মতো নতুন বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালেও অনেক বড় বড় কাজ করতে চলেছে। ২০২৩ সালে চন্দ্রযান ৩ (Chandrayaan-3), আদিত্য এল ১ (Aditya-L1) স্যাটেলাইট উৎক্ষেপন করে সকলকে চমকে দিয়েছিল ISRO। যদিও ফের একবার বড়সড় চমক দিতে চলেছে এই সংস্থা। এবার ইসরোর নজরে রয়েছে আবহাওয়ার (Weather) ভাবগতিক।

   

ইসরো বৃহস্পতিবার আবহাওয়া উপগ্রহ INSAT -3 ডি এস চালু করতে চলেছে যা প্রতিবার আবহাওয়া সম্পর্কে তথ্য দেবে। এই স্যাটেলাইটের সাহায্যে আরও ভাল আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাওয়া যাবে এবং দুর্যোগের সতর্কবার্তা পেতেও সাহায্য করবে। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করবে ইসরো। এই উপগ্রহটি জিওসিনক্রোনাস স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল এফ ১৪ (GSLV F14) এ উৎক্ষেপণ করা হবে। জানা যাচ্ছে, এটি হবে জিএসএলভির ১৬তম মিশন। এই অভিযানে জিএসএলভি-র লক্ষ্য ইনস্যাট-৩ডিএসকে জিওসিনক্রোনাস ট্রান্সফার অরবিটে স্থাপন করা। উৎক্ষেপণের পর স্যাটেলাইটটিকে ধীরে ধীরে তার কক্ষপথে নিয়ে যাওয়া হবে, তারপরেই স্যাটেলাইটটি তার কক্ষপথে সঠিকভাবে ইনস্টল করা হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করা হবে।

ইসরোর মতে, ইনস্যাট-৩ডি এস ভারতের তৃতীয় প্রজন্মের আবহাওয়া উপগ্রহ। এই স্যাটেলাইট প্রকল্পের পুরো অর্থায়ন ভূবিজ্ঞান মন্ত্রক দ্বারা করা হয়েছে। এই স্যাটেলাইটটি আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং সম্ভাব্য দুর্যোগ সম্পর্কে সতর্ক করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ভূমি ও সমুদ্রের উপরিভাগও পর্যবেক্ষণ করা যাবে। ইসরোর বিজ্ঞানীরা বলছেন যে শীঘ্রই উৎক্ষেপণ করা এই উপগ্রহটি বর্তমানে মহাকাশে থাকা INSAT -3D এবং INSAT -3 DR উপগ্রহগুলির সাথে আবহাওয়া পরিষেবা বাড়িয়ে তুলবে।

isro insat

ভূবিজ্ঞান মন্ত্রকের মধ্যে ইন্ডিয়া মেটিওরোলজিক্যাল ডিপার্টমেন্ট (আইএমডি), ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিডিয়াম-রেঞ্জ ওয়েদার ফোরকাস্টিং (এনসিএমআরডব্লিউএফ), ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ট্রপিক্যাল মেটেরোলজি (আইআইটিএম), ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ওশান টেকনোলজি (এনআইওটি) এবং ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল সেন্টার ফর ওশান ইনফরমেশন সার্ভিসেস (আইএনসিওআইএস) এর মতো বিভিন্ন বিভাগ রয়েছে। এই স্যাটেলাইট এসব বিভাগসহ বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানকে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিতে সহায়তা করবে।

ভারতীয় মহাকাশ সংস্থা জানিয়েছে, এই মিশনের প্রাথমিক উদ্দেশ্য হল পৃথিবীর পৃষ্ঠ পর্যবেক্ষণ করা, সমুদ্রের উপরে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ করা, তথ্য সংগ্রহ করা এবং উদ্ধার পরিষেবা সরবরাহ করা। এটি দেশটিকে দুর্যোগের ক্ষেত্রে আগাম পূর্বাভাস দিতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি সময়মতো ব্যবস্থা করে উদ্ধার কাজও শুরু করতে পারবেন।

সম্পর্কিত খবর