আমি মহিলাবাজ, দুশ্চরিত্র! হাসপাতাল থেকে ফিরেই বিস্ফোরক কবীর সুমন

কয়েকদিন আগে অবধি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল কবীর সুমনকে (Kabir Suman)। তাঁকে হাসপাতালে দেখতে অবধি গিয়েছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এমনকি হাসপাতালের বেডে শুয়ে স্যান্ডউইচ খাওয়ার ইচ্ছা অবধি প্রকাশ করেছিলেন। এবার এই কবীর সুমনই ফের একবার শিরোনামে উঠে এলেন।

এখন আপাতত বেশ কনেকটাই সুস্থ কবীর সুমন। আর সুস্থ হয়েই রীতিমতো স্বমহিমায় যেন ফিরে এলেন তিনি। কবীর সুমন বরাবরই নিজের ঠোঁটকাটা মন্তব্যের জেরে সংবাদ শিরোনামে উঠে আসেন। এবারও কিন্তু তার ব্যতিক্রম ঘটল না। তিনি এমন এক মন্তব্য করেছেন যে শুনে সকলেই কার্যত চমকে গিয়েছেন।

   

এখন আপনিও নিশ্চিয়ই ভাবছেন যে কবীর সুমন কী এমন মন্তব্য করেছেন? তাহলে বিস্তারিত জানতে ঝটপট পড়ে ফেলুন এই প্রতিবেদনটি। বর্তমানে তিনি হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে এসেছেন। এদিকে বাড়ি ফিরে এসেই নিজেকে দুশ্চরিত্র আখ্যা দিলেন সুমন।

সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, ‘এই কন্ঠশিল্পীকে চেনেন কি? যে তাঁকে পরিচালনা করছে তাকে চেনেন বিলক্ষণ – “দুশ্চরিত্র, মহিলাবাজ”, ইত্যাদি ইত্যাদি। ঐ কন্ঠশিল্পী বাংলার, উপমহাদেশের, বিশ্বের গর্ব। তাঁকে ভারতরত্ন না দিয়ে পদ্মশ্রী দিয়ে অপমান করা হয়েছিল। কলকেতার এক পদ্মপণ্ডিত “শিল্পী” তখন বলেছিল “একটা পদ্মভূষণ দেওয়া যেত।” সেই প্রাণীটাও ঐ খেতাব পেয়েছে যে! “ভারতরত্ন” কথাটা তার মুখ দিয়ে বেরোতে চায়নি। এইচ এম ভি স্টুডিয়োয় রেকর্ডিংরতা এই মহাশিল্পী সেই পদ্মশ্রী প্রত্যাখ্যান করায় ভারতের এক চ্যানেল তাঁকে “দেশদ্রোহী” বলেছিল। তাদেরই এক খোকা রিপোর্টার আমায় সমানে উত্যক্ত করায় তাকে আমি খিস্তি করেছিলাম। বেশ করেছিলাম।’

kabir suman

ফেসবুক পোস্টে এই শিল্পী আরো লেখেন, আরও লেখেন, ‘ভাষার মাস! আমার মাভাষা ঐ মহাশিল্পীরও মাভাষা। এই ভাষায় আমি তাঁর জন্য ১২ টি গান লিখে সুর করেছিলাম। আমায় যে বঙ্গজরা সমানে গাল দেয় তারা এখবর রাখে কি? রেকর্ডগুলি প্রকাশ করেছিলেন এইচ এম ভি/ সা রে গা মা। বাহান্নর একুশের ডাক! এই মহাশিল্পীকে দিয়ে আমি গাইয়েছিলাম আমার রচনা: “রংধনুটানা সেতু/ চলে গান স্বপ্নের মতো”। “রংধনু” কথাটি আমার জীবনে বাংলাদেশের দান। ভাগ্যিস বাংলাদেশ হয়েছিল, ভাগ্যিস বাহান্নয় ঘটেছিল একুশ, ভাগ্যিস একদিন শুনেছিলাম বাংলার বজ্রকন্ঠ। এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম! ভাগ্যিস আমার মাভাষা বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা!’

কবীর সুমন আরও লেখেন, ‘আসছে ১৬ মার্চ ৭৫ পূর্ণ করে ৭৬ এ পড়ব। জীবন ফুরোতে চলল। অনেক কিছুই শুকিয়ে এসেছে। তাও এখনও আমার মাভাষার ডাকে, আমার মাভাষার জন্য চোখে বান ডাকে। অহিংসায় বিশ্বাসী এই আমি আমার মাভাষার জন্য অন্তত ইঁটপাটকেল, মলোটভ ছুঁড়তে পারি। বন্দুক ধরার শক্তি আমার নেই।’

সম্পর্কিত খবর