বাংলায় প্রথম! চালু হল পাইপের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গ্যাস সরবরাহ, আপনি কবে পাবেন?

জল্পনা ছিলই, এবার সেই জল্পনায় রীতিমতো শীলমোহর পড়ল। যা এটসিন ঘটেনি তা এবার ঘটতে দেখলেন বাংলার (West Bengal) মানুষ। বর্তমান সময়ে এমন কোনো বাড়ি বা রেস্তোরাঁ হয়তো নেই যেখানে গ্যাস সিলিন্ডারের (Gas Cylinder) ব্যবহার হয় না। এবার এই গ্যাস নিয়েই বাংলায় ঘটে গেল এক বড় ঘটনা, সকলের মুখ একপ্রকার হাঁ হয়ে গিয়েছে। এখন আপনিও নিশ্চিয়ই ভাবছেন কী হয়েছে? তাহলে বিস্তারিত জানতে ঝটপট পড়ে ফেলুন আজকের এই প্রতিবেদনটি। এতদিন ধরে পাইপলাইনে করে গ্যাস পৌঁছে যাওয়ার ঘটনা ঘটছিল গুজরাটে। তবে এবার বাংলাতেও একই দৃশ্যের দেখা মিলল। অর্থাৎ সিলেন্ডার নয় এবার পাইপ লাইনে করে গ্যাস পৌঁছে যাচ্ছে সকলের রান্নাঘরে। হ্যাঁ শুনতে অবাক লাগলো এটাই সত্যি।

এতদিন ধরে এই কাজ চলছিল বাইপাস সংলগ্ন এলাকায়। রুবি থেকে শুরু করে নিউ টাউন এলাকায় জোর কদমে চলছিল কাজ। যদিও এবার পাইপ লাইনে মাধ্যমে গ্যাস পরিষেবা শুরু হল দুর্গাপুরে। জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সেল কো-অপারেটিভ এলাকার একটি বাড়িতে সংযোগ দিয়ে পরিষেবার সূচনা করেন ডিএসপি-র ডিরেক্টর ইন-চার্জ বিপি সিংহ। ছিলেন গ্যাস সংস্থার আধিকারিকেরাও।

   

জানা গিয়েছে, বর্তমান সময়ে দুর্গাপুর শহরে বাড়িতে বাড়িতে ‘পাইপড ন্যাচরাল গ্যাস’-এর (Piped Natural Gas) সংযোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বর্তমান সময়ে একের পর এক বাড়ি সেই সঙ্গে কিছু হোটেলে রেস্তোরাঁতে এই নতুন সংযোগের মাধ্যমে রান্নাবান্না হচ্ছে। বছরখানেক আগে কাঁকসার গোপালপুরে প্রথম PNG গ্যাসের সংযোগ দেওয়ার কাজ শুরু হয়। প্রায় দেড় হাজার বাড়িতেই বর্তমানে পিএনজির মাধ্যমে রান্না হচ্ছে। বা বলা ভালো এই পিএনজি পরিষেবা পৌঁছে গেছে। প্রশ্ন উঠছে এতে করে কি মানুষের টাকা সাশ্রয় হচ্ছে?

সরকারি হিসেব অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশের জগদীশপুর থেকে হলদিয়া পর্যন্ত গ্যাসের পাইপলাইন পাতার কাজ করছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা গেইল। সেই পাইপলাইন থেকে বিভিন্ন জেলার বাসিন্দাদের বাড়ি বাড়ি গ্যাস পৌঁছে দিতে ২০১৮ সালে দরপত্র চায় কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস নিয়ন্ত্রক পর্ষদ। এ রাজ্যে দুই বর্ধমান জেলায় গ্যাস সরবরাহের জন্য যৌথ ভাবে বরাত পায় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ইন্ডিয়ান অয়েল ও একটি বেসরকারি সংস্থা। পানাগড়ে ‘সোর্স পয়েন্ট’ তৈরি করা হয়েছে। সেখান থেকে পাইপলাইন পাতা হচ্ছে জেলা জুড়ে।

png services

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক আগামী ২০৩০ সাল পর্যন্ত আড়াই লক্ষ বাড়িতে সংযোগের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে। দুই জেলার ৩১টি ব্লকেই পৌঁছতে হবে। দুর্গাপুর শহরে ২০২৫ সালের মার্চের মধ্যে ২০ হাজার সংযোগ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। যাঁর বাড়িতে শহরের প্রথম পিএনজি গ্যাসের সংযোগ চালু হল, সেই বাড়িতে সদস্য সুশান্তকুমার রায় আনন্দে আটখানা হয়ে গিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘দারুণ অভিজ্ঞতা। বড় বড় শহরে এমন ব্যবস্থা আছে জানতাম। এ বার আমাদের এখানেও চালু হয়ে গেল। আমি অন্যদের বলব, নতুন এই সংযোগ নিতে।’’

এদিকে ডিএসপি-র ডিরেক্টর ইন-চার্জ বিপি সিংহ বলেন, ‘‘নানা বড় শহরে এমন গ্যাসের সংযোগ আমরা দেখেছি। এ বার দুর্গাপুরেও শুরু হল। মাঝে সামান্য বিলম্ব হয়েছে। তবে এখন খুব দ্রুত কাজ এগোচ্ছে। আশা করি দ্রুত গ্রাহকদের ঘরে নতুন সংযোগ পৌঁছে যাবে।’’

অন্যদিকে ওই যৌথ সংস্থার প্রকল্প প্রধান শুভজিৎ চক্রবর্তী বড় মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, “সংযোগ পেতে গ্রাহককে ৭,১১৮ টাকা জমা দিতে হয়। এর মধ্যে ৭ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য। গ্রাহককে একটি মিটার দেওয়া হয়। গ্যাস খরচের হিসাব মিলবে মিটারের কাঁটায়। সেই অনুযায়ী বিল দিতে হয় গ্রাহককে। বিল আসে প্রতি দু’মাসে। গ্যাস বুকিং করে সিলিন্ডারের জন্য হাপিত্যেস করে অপেক্ষা করা, সিলিন্ডার তোলা-নামানোর সমস্যা বা গ্যাসের সিলিন্ডারের ওজন কম থাকার মতো পরিস্থিতি আর তৈরি হবে না। আবার চোখের সামনে মিটারের কাঁটা থাকায় গ্যাসের খরচ নিয়ন্ত্রণ করাও সম্ভব হবে। এই প্রক্রিয়ায় সিলিন্ডার থেকে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কাও দূর হবে। কারণ, এলপিজি গ্যাস নীচে থিতু হয়ে যায়। সেখানে পিএনজি জানলার ফাঁক দিয়ে বা ঘুলঘুলি দিয়ে বেরিয়ে বাতাসে মিশে যায়।”

তিনি আরো বলেন, ‘‘গ্রাহকদের আর্থিক ভাবেও অনেক সাশ্রয় হবে। এলপিজি-র থেকে পিএনজি দামে প্রায় ১৫ শতাংশ সস্তা। এলপিজি সিলিন্ডার শেষ হয়ে গেলেও নীচে কিছু গ্যাস রয়ে যায়, যা কাজে আসে না। পিএনজি সংযোগে সে সবের বালাই নেই।’’

সম্পর্কিত খবর