‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ মাধ্যমিকের সময় এগোনয় রাজ্য সরকারকে ভর্ৎসনা হাইকোর্টের! পিছোবে পরীক্ষা?

চলতি বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষা (Madhyamik Pariksha) নিয়ে দীর্ঘ টানাপড়েন চলছে। এদিকে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (West Bengal Board Of Secondary Education), শিক্ষক শিক্ষিকাদের (Teacher) মধ্যে দড়ি টানাটানির জেরে প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়েছে মাধ্যমিক পরীক্ষা ও লাখ লাখ পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ। লাখ লাখ পড়ুয়ার স্কুল জীবনের সবথেকে বড় পরীক্ষা, আর এই নিয়েই কিনা শুরু হয়েছে ছিনিমিনি খেলা?

কলকাতা হাইকোর্টে মাধ্যমিক পরীক্ষা নিয়ে মামলা

আসলে এই বছরে নবান্নে (Nabanna) দীর্ঘ বৈঠকের পর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার সময় এক ধাক্কায় অনেকটাই এগিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। আর এই নিয়েই শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার ঘটেছে। এমনকি এই ঘটনা কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court) অবধি গড়ায়। গতকাল ছিল এই নিয়ে শুনানি। হাইকোর্টের রায়ের দিকে সকলের নজর ছিল। যদিও কলকাতা হাইকোর্ট এমন রায় দিয়েছে যা শুনে সকলেই কার্যত অবাক হয়ে গিয়েছেন বৈকি।

   

এক কথায় পর্ষদের সিদ্ধান্তকেই মান্যতা দিল হাইকোর্ট। অর্থাৎ সকাল ৯:৪৫ নাগাদই শুরু হবে মাধ্যমিক পরীক্ষা। এদিকে পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে একগুচ্ছ পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর। আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে আদালতকে রিপোর্ট দিতে হবে পর্ষদ ও রাজ্য সরকারকে (Government Of West Bengal)। কিন্তু পর্ষদের মাধ্যমিক পরীক্ষার সময়সীমা এগোনোর বিষয়টিকে দায়িত্বজ্ঞানহীন-এর তকমা দিল কলকাতা হাইকোর্ট।

বড় রায় হাইকোর্টের

বৃহস্পতিবার বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর এজলাসে মামলাটির শুনানির সময় একাধিক যুক্তি খাড়া করে রাজ্য সরকার। রাজ্যের তরফে বলা হয়, বেলা বাড়লে যানজট বাড়ে। তাই সকাল সকাল পরীক্ষা শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের আইনজীবীর সওয়াল শুনে বিচারপতি বলেন, ‘ফালতু যুক্তি। এবছর মনে পড়ল যানজট হয়? পরীক্ষার ১৫ দিন আগে একথা মনে পড়ল কেন? আপনাদের কর্তারা এরকম ফালতু যুক্তির ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেন না কি?’ এর পরই বিচারপতি বলেন, মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরুর সময় এগিয়ে আনা অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত। তবে পরীক্ষার কয়েকদিন আগে নতুন কোনও নির্দেশ দেবে না আদালত।

students

এই মুহূর্তে সময়সূচী বদল করলে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে নানা অসুবিধা হতে পারে বলে মত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর। আদালতের নির্দেশ, প্রতিটি থানাতে মাইকিং করতে হবে যাতে পরীক্ষার্থীরা অসুবিধার পড়লে পুলিশ বা প্রশাসন তাদের সঠিক সময়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে দিতে পারে। সকলের সুবিধার জন্য পর্ষদকে একাধিক হেল্পলাইন নম্বর চালু করতে হবে।

সম্পর্কিত খবর