অবশেষে ধরা পড়ল মাধ্যমিকের প্রশ্ন ফাঁসের মূলচক্রী! তার পরিচয় জানলে অবাক হবেন

শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি (Teacher recruitment scam) মামলা কি ঘিরে শিরোনামে রয়েছে রাজ্য (West Bengal)। এদিকে এ বিতর্কের মধ্যেই চলতি বছরে নিশ্চয় নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শুরু হয় মাধ্যমিক পরীক্ষা (Madhyamik Pariksha)। প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়াকে যেনতেন প্রকারে রুখতে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের (West Bengal Board Of Secondary Education) তরফে প্রশ্নপত্রে একটি বিশেষ কোডের অবধি ব্যবস্থা করা হয়েছিল চলতি বছরে। কিন্তু তার পরেও শেষ রক্ষা হল না।

মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রথম দিন থেকেই অর্থাৎ বাংলা তার পরের দিন ইংরেজি এবং তার পরের দিন ইতিহাস পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যায়। এই ঘটনাকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় গোটা রাজ্যজুড়ে। ইতিমধ্যে প্রশ্নপত্র সহ বেশ কিছু পড়ুয়াকে আটক অবধি করা হয়েছে। তবে এবার এই ঘটনার মূল পান্ডাকে গ্রেফতার করল পুলিশ । হ্যাঁ ঠিকই শুনেছেন।

   

অন্যান্য বছরের মতন চলতি বছরেও তীব্র ঘেরাটোপ এর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল মাধ্যমিক পরীক্ষা। তারপরেও কোনো না কোনোভাবেই প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে গিয়েছিল। আর এবারে প্রশ্নপত্র পড়ুয়াদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য তৈরি হয়েছিল একটি বিশেষ Whatsapp গ্রুপ। আর এই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের এবার মূল অ্যাডমিনকেই গ্রেফতার করল মালদা পুলিশ। জানা গিয়েছে মালদা পুলিশ গ্রেফতার করেছে জীবন দাস নামে এক ব্যক্তিকে। সে পেশায় একজন গৃহ শিক্ষক।

সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, জীবন দাস গৃহ শিক্ষকতা ছাড়াও নিজের কোচিং সেন্টার চালাতেন। মালদহের মানিকচকের গোপালপুরের বালুটোলা থেকে গ্রেফতার  করা হয় জীবন দাসকে। গত শনিবার ইংরেজি পরীক্ষার দিন এনায়েতপুর হাইস্কুল থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। পরীক্ষা শুরু হওয়ার কিছুক্ষনের সোশ্যাল মিডিয়ায় মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে প্রশ্নপত্র। এরপরেই নড়েচড়ে বসে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

madhyamik students

তড়িঘড়ি তল্লাশি চালিয়ে সাত জন পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে সাতটি মোবাইল উদ্ধার হয়। মোবাইল বাজেয়াপ্ত করা হয়। এমনকি ওই সাত জন পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা বাতিল করা হয়। প্রত্যেকেই গোপালপুর হাইস্কুলের। যে হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ থেকে এই প্রশ্ন ফাঁস হয় বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল,  সেই গ্রুপেরই অ্যাডমিন ছিলেন ধৃত জীবন দাস। যে স্কুলে ঘটনাটি ঘটেছে অর্থাৎ এনায়েত হাইস্কুলের হেডমাস্টার বদিউজ্জামাল সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন।

তিনি জানান, ওই পরীক্ষার্থীর স্কুলে তিনি একটি হোয়াটসঅ্যাপে গ্রুপের কথা জানতে পেরেছিলেন। ‘MP 2024 QUESTION OUT’ এরকম নাম দিয়ে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ছিল ওই পরীক্ষার্থীর মোবাইলে। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সদস্যের সংখ্যা ১৫১ জন।

সম্পর্কিত খবর