অপেক্ষার অবসান, এই দিন আসছে ‘বন্দে মেট্রো’! বাংলা পাবে? জানুন কী বলছে রেল

বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের (Vande Bharat Express) নেটওয়ার্ক বাড়াতে দ্রুত কাজ করছে ভারতীয় রেল (Indian Railways)। এর পাশাপাশি, রেলওয়ে দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন এবং বন্দে মেট্রো (Vande Metro) চালানোর প্রস্তুতিও নিচ্ছে। খুব শীঘ্রই বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন এবং বন্দে মেট্রো চলতি আর্থিক বছরে চালু করা হবে।

চলতি আর্থিক বছরেই শুরু হবে বন্দে ভারতের স্লিপার কোচ। বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন চলার ফলে দীর্ঘ যাত্রায় স্বস্তি পাবেন যাত্রীরা। এতে যাত্রীরা আরামে ঘুমিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে যাত্রা শেষ করতে পারবে। এদিকে প্রথম বন্দে মেট্রো ট্রেনটি ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে আসবে বলে আশা করা হচ্ছিল, তবে এবার এই ট্রেন পেতে আর কয়েকটি দিন অপেক্ষা করতে হবে। বন্দে মেট্রো একটি ১২ কোচের ট্রেন হবে, যা স্বল্প দূরত্বের ভ্রমণের জন্য ব্যবহৃত হবে। পঞ্জাবের কাপুরথালায় রেল কোচ ফ্যাক্টরি (আরসিএফ) চলতি বছরের এপ্রিলের মধ্যে আন্তঃনগর ভ্রমণের জন্য বন্দে মেট্রো কোচের প্রথম প্রোটোটাইপ বের করার লক্ষ্য নিয়েছে। আর এমনই জানিয়েছেন জেনারেল ম্যানেজার এস শ্রীনিবাস।

   

২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের শেষের দিকে এই ধরনের মোট ১৬টি কোচ প্রস্তুত হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বন্দে মেট্রো, যা ভারতের প্রথম দেশীয় সেমি-হাই-স্পিড ট্রেন বন্দে ভারতের ধারণার উপর ডিজাইন করা হয়েছে, যা ২৫০ কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত আন্তঃনগর যাত্রীদের সরবরাহ করবে।
বন্দে মেট্রো ট্রেনে ১৬টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোচ থাকবে এবং এটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৩০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারবে।

শ্রীনিবাস সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “এই ট্রেনটি আন্তঃনগর ট্র্যাফিকের জন্য। আমরা এপ্রিলের মধ্যে প্রথম প্রোটোটাইপ প্রস্তুত করার লক্ষ্য রাখছি। ট্রায়ালের পরে, আরসিএফ তার উত্পাদন শুরু করবে।” বন্দে মেট্রো ট্রেনগুলি যাত্রীদের অভিজ্ঞতা এবং অ্যাক্সেসযোগ্যতা বাড়িয়ে তুলবে, তিনি আরও বলেন, প্রতিটি কোচে ২৮০ জন যাত্রী বহন করার ক্ষমতা থাকবে – ১০০টি আসন থাকবে।

জেনারেল ম্যানেজার এস শ্রীনিবাস বলেন, ৩x৩ স্টাইলে বসার ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া থাকবে আরামদায়ক বসার ব্যবস্থা। কেউ যদি স্বল্প দূরত্বে ভ্রমণ করতে চান তাদের ক্ষেত্রে এই ট্রেন একদম আদর্শ হবে। জরুরি পরিস্থিতিতে ট্রেন চালকের সাথে যোগাযোগের জন্য বন্দে মেট্রো কোচগুলিতে যাত্রী টকব্যাক সিস্টেম থাকবে। প্রতিটি কোচে আগুন ও ধোঁয়া শনাক্তকরণের জন্য ১৪টি সেন্সর থাকবে।আরসিএফ ইঞ্জিনিয়াররা শীতের মাসগুলিতে শৌচাগারগুলিতে গরম জল সরবরাহ করার জন্য এই কোচগুলিতে একটি বিশেষ ফিচার যুক্ত করেছেন।

চলতি বছরের মার্চ মাসে ২৪টি কোচের পরবর্তী রেক চালু করা হবে এবং আগামী আর্থিক বছরে আরও দুটি রেক প্রস্তুত করা হবে। ঐতিহ্যবাহী কালকা-সিমলা রুটের জন্য ভিস্তাডোম কোচ সম্পর্কে জেনারেল ম্যানেজার জানিয়েছেন যে ট্রায়ালগুলি সফলভাবে শেষ হয়েছে এবং রেলওয়ে সুরক্ষা কমিশনারের ছাড়পত্রের পরে এই কোচগুলি শীঘ্রই এই ন্যারো গেজ বিভাগে চলবে। সুরক্ষা ছাড়পত্রের পরে আরসিএফ আগামী আর্থিক বছরে আরও ৩০ টি ভিস্তাডোম কোচ তৈরি করবে। আরসিএফ-এর সাফল্যের কথা তুলে ধরে শ্রীনিবাস বলেন, একটি ডাবল ডেকার কার্গো লাইনার কোচ, যা ৪৬ জন যাত্রী এবং ছয় টন বোঝা বহন করতে পারে, বর্তমানে আম্বালা-সাহনেওয়াল বিভাগে পরীক্ষামূলকভাবে রয়েছে।

সম্পর্কিত খবর