চলল কিল, ঘুষি, লাথি! ভারতের পিছনে লেগে বিপাকে মলদ্বীপের প্রেসিডেন্ট, খোয়াতে চলেছেন গদি

দীপরাষ্ট্র মলদ্বীপ (Maldives) নিয়ে বিতর্কের যেন শেষ নেই। ভারতের (India) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে (Narendra Modi) নিয়ে মলদ্বীপের তিন সাংসদের বিতর্কিত মন্তব্যকে ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এরপর আরো বেশ কিছু ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্ক একপ্রকার তলানিতে গিয়ে থেকেছে এরই মাঝে ফের একবার শিরোনামে উঠে এলো এই দ্বীপরাষ্ট্রটি।

মলদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মহম্মদ মইজ্জু (Mohamed Muizzu), যিনি একসময় ভারতের দিকে চোখ তুলে তাকিয়েছিলেন এবং ভারতকে তীব্র কটাক্ষ করেছিলেন এখন তিনিই নিজের গদি বাঁচাতে প্রাণপণে চেষ্টা করছেন।, জানা যাচ্ছে, মলদ্বীপের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রধান বিরোধী দল এমডিপি প্রেসিডেন্ট মইজ্জুকে ইমপিচমেন্ট বা অভিশংসনের প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

   

এর আগে রবিবার চীনপন্থী প্রেসিডেন্টের মন্ত্রিসভার চার সদস্যের অনুমোদন নিয়ে মতপার্থক্য নিয়ে পার্লামেন্টে সরকারপন্থী আইনপ্রণেতা ও বিরোধী দলীয় আইনপ্রণেতাদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ হয়। চলে কিল, লাথি, ঘুষি। এক আইনপ্রণেতা জানান, ‘এমডিপি ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে অভিশংসন প্রস্তাবের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বাক্ষর গৃহীত হয়েছে। তবে তারা এখনও তা জমা দেয়নি। সোমবার এমডিপির পার্লামেন্টারি গ্রুপের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে অভিশংসন প্রস্তাব দাখিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

৪৫ বছর বয়সী মইজ্জুকে গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মদ সলিহকে পরাজিত করেন। চীনপন্থী প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মইজ্জুর মন্ত্রিসভায় চার সদস্যের অনুমোদন নিয়ে মতবিরোধকে কেন্দ্র করে রবিবার মলদ্বীপের পার্লামেন্টে সরকারপন্থী আইনপ্রণেতা ও বিরোধী দলীয় আইনপ্রণেতাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।

maldives

স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, প্রধান বিরোধী দল মালদিভিয়ান ডেমোক্রেটিক পার্টি (Maldivian Democratic Party) মন্ত্রিসভায় ভোটের আগে প্রেসিডেন্ট মুইজুর মন্ত্রিসভার চার সদস্যের পার্লামেন্টের অনুমোদন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর পর সরকারপন্থী আইনপ্রণেতারা বিক্ষোভ শুরু করলে সংসদের বৈঠকের কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

জানা গিয়েছে, সংঘর্ষের সময় কান্দিথিমুর এমপি আবদুল্লাহ শাহিম আবদুল হাকিম শাহিম এবং কেন্দিকুলহুধুর এমপি আহমেদ ইসার মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। ধস্তাধস্তির সময় দুই সাংসদ চেম্বারের কাছে পড়ে যান, যার জেরে শাহিমের মাথায়ও আঘাত লাগে। সংখ্যালঘু নেতা মুসা সিরাজ বিতর্ক ঘোরানোর চেষ্টা করেন। জানা গিয়েছে, শাহিমকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, স্পিকারের চেয়ারের কাছে জড়ো হয়ে ধস্তাধস্তি করছেন সাংসদরা।

সম্পর্কিত খবর