পড়াশোনা ছেড়ে ফুলের ব্যবসা, আজ কোটি টাকা আয়! বাংলার এই চাষির সফলতা দেখে গর্ব হবে

কথাতেই আছে, ইচ্ছে থাকলেই উপায় হয়। শুধু তাই নয় পড়াশোনার (Education) বাইরেও যে আলাদা একটা জগত আছে, তা বারবারই প্রমাণিত হয়েছে। ঠিক তেমনি বাংলার (West Bengal) এক চাষী প্রমাণ করে দিয়েছেন যে পুঁথিগত বিদ্যাই সবকিছু নয়। তিনি ফুল চাষের একটা সঙ্গাই বদলে দিয়েছেন। আজ এই প্রতিবেদনে আলোচনা হবে কোলাঘাটের (Kolaghat) এক ছাপোষা ফুল চাষিকে (farmer) নিয়ে যিনি জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে যথেষ্ট সংগ্রাম করেছেন। কিন্তু এখন তিনি মাত্র ফুলের ব্যবসা (Business) করে কয়েক কোটি টাকা উপার্জন করছেন।

কোলাঘাটে বেড়ে উঠেছেন অরূপ

পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম বৃহৎ ফুল উৎপাদক কোলাঘাটে বেড়ে ওঠা অরূপ কুমার ঘোষ ফুল চাষ নিয়ে বরাবরই আগ্রহী ছিলেন। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কোলাঘাট ফুলের বাজার সারা ভারত জুড়ে পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের কাছে ফুল সরবরাহ করে।

   

অরূপ উল্লেখ করেছেন যে কৃষকরা নতুন জাতের ফুলের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারেন না এবং চাষের পদ্ধতিগুলি উন্নত করার বিষয়ে সচেতনতার অভাব রয়েছে সকলের মধ্যে। ২০১০ সালে, বাণিজ্যে স্নাতকের দ্বিতীয় বছর শেষ করার পরে, তিনি কলেজ ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন। ৩২ বছর বয়সী অরূপ কুমার জানান, “দ্বিতীয় বর্ষের পর আমি পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছিলাম। বেশির ভাগ মানুষই চাকরি পাওয়ার জন্য পড়াশোনা করেন, কিন্তু ৯-৫টা রুটিন কাজের প্রতি আমার কোনওদিনই কোনও আগ্রহ ছিল না।”

পরিবারের উল্টো পথে হাঁটেন অরূপ

যদিও অরূপ কুমারের পরিবার নিজেদের জমিতে ধান চাষ করতেই আগ্রহী ছিলেন। তবে অরূপ লক্ষ্য করেছিলেন যে সেই গতে বাঁধা চাষ খুব বেশি লাভজনক নয় এবং প্রচুর পরিশ্রমের পরেও কৃষক এবং তাঁর পরিবারের জন্য যথেষ্ট অবশিষ্ট থাকছে না। তাই তিনি ফুল চাষের দিকে মনোনিবেশ করেন।

arup

স্থানীয় ফুলের ব্যবসা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার পরে, অরূপ হায়দ্রাবাদের গুড়িমালকাপুর ফুলের বাজারে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি সেখানে গিয়ে চমকে যান রীতিমতো। এখানে কোলাঘাট থেকে গাঁদা ফুল, টিউব গোলাপ এবং অন্যান্য ফুল সংগ্রহ করা হয়। হায়দ্রাবাদে, তিনি ফুলের ব্যবসাকে আরও ভালভাবে বোঝার জন্য একটি দোকানে চাকরি অবধি নিয়েছিলেন। অরূপ বলেন, “আমি প্রতি মাসে ৩৫০০ টাকা বেতনে দোকানে কাজ করতাম। যদিও বেতন কম ছিল, এটি একটি ভাল শেখার সুযোগ ছিল। আমি যখন তিন মাস পরে ফিরছিলাম, তখন মালিক আমাকে মাসিক ৬০,০০০ টাকা বেতন দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু আমি বাড়ি ফিরে যেতে চেয়েছিলাম।“

কত টাকা লাভ? জানান অরূপ

ফলে যেমন ভাবা তেমন কাজ, ফুল ব্যবসায়ী অরূপ কোলাঘাটে ফিরে যান এবং অন্যান্য শহরের ফুলের দোকানগুলিতে গাঁদা এবং গ্ল্যাডিওলাস প্যাক এবং বিক্রি করতে শুরু করেন। গাঁদা ফুলের চাহিদা সারা বছর জুড়ে থাকে কারণ এটি সামাজিক এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। অরূপবাবু জানান, “আমি প্রতি পিস ১২০ টাকায় গাঁদা স্ট্রিং কিনতাম এবং ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি করতাম, ১০০ টি স্ট্রিং থেকে ২,০০০ থেকে ৩,০০০ টাকা লাভ করতাম।“

থাইল্যান্ডেও গিয়েছিলেন অরূপ

তিনি জানান, “২০১১ সালে আমি স্থানীয় গাঁদা গাছের চারা কিনে জমিতে রোপণ করি এবং স্থানীয় চাষপদ্ধতি অনুসরণ করি। ফলস্বরূপ ফুলগুলি ছোট ছিল এবং আমি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিলাম। কিন্তু এখানেই আমার জীবনের মোড় ঘুরে যায়।“

আপনি জানলে অবাক হবেন, তিনি আরও ভালো মানের ফুলের আশায় থাইল্যান্ডে পাড়ি দেন। থাইল্যান্ড থেকে ২৫ গ্রাম গাঁদা ফুলের বীজ নিয়ে আসেন। তারপর তিনি তাদের এক বিঘা জমিতে শুরু করেন গাঁদা ফুলের চাষ। আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয় না অরূপকে। মাঝপথে কলেজ ছেড়ে দেওয়া অরূপ আজ চার কোটি টাকার ফুলের ব্যবসা করছেন। তিনি ফুলের চাষ নতুন মাত্রা আনেন। বাজার গবেষণা সংস্থা আইএমএআরসি-র মতে, ২০২২ সালে ভারতের ফুলচাষের বাজারের মূল্য ছিল ২৩,১৭০ কোটি টাকা এবং ২০২৮ সালের মধ্যে এটি ৪৬,০০০ কোটি টাকায় পৌঁছবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সম্পর্কিত খবর