উঠতি অভিনেত্রীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে কেন! কারণ জানালেন শ্রীলেখা মিত্র

পল্লবী-বিদিশার পর একই রাস্তায় অভিনেত্রী মঞ্জুষা‌ নিয়েগীও। শুক্রবার সকালে পাটুলির ফ্ল্যাটে অভিনেত্রীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরপর তিনটে রহস্য মৃত্যুতে কার্যত হতভম্ব হয়ে রয়েছে সমস্ত বিনোদন জগত। ঠিক কী কারণে আজকের তরুণ প্রজন্ম এই চরম পথ বেছে নিচ্ছে তা নিয়ে ধোঁয়াশা সকলের মনেই। এমতাবস্থায় এই প্রসঙ্গে এবার কলম ধরলেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র।

টলিউডের অভিজ্ঞ অভিনেত্রীদের মধ্যে শ্রীলেখা অন্যতম। নিজের অসাধারণ অভিনয় প্রতিভা দিয়ে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। জীবনে চড়াই উৎরাই কম দেখেননি তিনি। তার মতে বর্তমান প্রজন্ম ইঁদুর দৌড়ে আটকা পড়েছে। হঠাৎ করে হাতে অনেক পয়সা পেয়ে যাওয়ায়, গ্ল্যামারাস জীবনের হাতছানি, তারসাথে রয়েছে জীবনের টানাপোড়োন। এই সবকিছু মিলিয়েই আত্মহননের কথা মাথায় চাড়া দিচ্ছে তাদের। শ্রীলেখার কথায়, “তাঁরা মন খারাপের কথা বলবেন কাকে?”

এই গ্ল্যামার জগতে আত্মহত্যার কথা নতুন কিছু নয়। কিন্তু একই বয়সী তিনজন অভিনেত্রী-মডেল’এর পরপর আত্মঘাতী হওয়ার ঘটনা সকলকে ভাবিয়ে তোলে বৈকি। প্রথমে পল্লবী তারপর বিদিশা, এখানেই শেষ নয়, এরপরই বৃহস্পতিবার বাঘাযতীনের ফটোশ্যুট থেকে ফিরে এসে মঞ্জুষা তাঁর মাকে বলেছিলেন—‘কালকে তোমার বাড়িতেও বিদিশার বাড়ির মতো সাংবাদিকরা আসবে।’ আর তার কয়েকঘন্টা পরেই তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একের পর এক রহস্যময় মৃত্যুর ঘটনা সকলের মনেই চিন্তার উদ্রেক করেছে বৈকি। ভবিষ্যতে এই পরিস্থিতি যাতে না হয় তার জন‍্য শুটিং ইউনিটে মনস্তাত্বিক মূল‍্যায়ণের ব‍্যবস্থা রাখা উচিত বলে পরামর্শ শ্রীলেখার।

এর সাথে তিনি আরও বেশ কিছু সম্ভাব্য কারণের কথা উল্লেখ করেছেন। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিযোগিতা এর অন্যতম প্রধান কারণ বলে ধারণা তার। শ্রীলেখা বলেন, এখন জনপ্রিয়তার মাপকাঠি তৈরি করে সোশ‍্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম গুলি। কার কত বেশি ফলোয়ার, কে বেশি লাইক, ভিউ পেলেন তা নিয়ে চলতে থাকে রেষারেষি। সোশ্যাল মিডিয়ার এই চাপ সহ্য করতে না পারলেই ঘিরে ধরে ডিপ্রেশন। তার কথায়, অনেকেই মফস্বল থেকে নিজের কেরিয়ার গড়তে আসে এখানে। কলকাতা শহরের জীবনযাত্রার সাথে খাপ খাওয়াতে পারেনা সবাই। এখানে আসার পর থেকেই রেসে টিকে থাকার যে চাপ সৃষ্টি হয় তার থেকেও নিজেকে হারিয়ে ফেলছে অনেকেই।

এছাড়াও সম্পর্কের টানাপোড়েন তো রয়েছেই। শ্রীলেখার কথায়, “আমি মনে করি লিভ ইন করা বিজ্ঞানসম্মত। একসঙ্গে থাকার শ্রেষ্ঠ উপায়। কিন্তু অনেকেই ব্যাপারটা হ্যান্ডল করতে পারছেন না।” সমাজের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সমাজ সবসময় জাজ করতে চায়। একটা সম্পর্ক ভাঙলে ছেলেটা খারাপ, কিংবা মেয়েটা অনেকের সঙ্গে ঘুরতো—ইত্যাদি, প্রভৃতি বলে কিছু একটা দেগে দেওয়া হয়।” শ্রীলেখার ধারণা এতোকিছু চাপ একসাথে হ্যান্ডেল করতে পারছেনা সবাই।

sreelekha mitra 3

এছাড়াও আরও একটি বিষয়ের উপর আলোকপাত করেছেন তিনি। হঠাৎ করে টাকার যোগানকেও দায়ী করছেন শ্রীলেখা। তার বক্তব‍্য, হঠাৎ করেই বিপুল পরিমাণ টাকা হাতে পেয়ে যাচ্ছেন তারা। বিলাসবহুল জীবনে অভ‍্যস্ত হয়ে পড়ছেন। তারপর যখন টাকার যোগানটা কমতে থাকছে তখন জীবনটাই ব্যর্থ বলে মনে হচ্ছে এদের কাছে। একারণেই শ্রীলেখা মনে করেন, প্রতিটা শ্যুটিং ইউনিটে অভিনেতা-অভিনেত্রী সহ ক্রিউ টিমের মনস্তাত্বিক মূল্যায়ণ বাধ্যতামূলক করা উচিত।

➦ আপনার জন্য বিশেষ খবর

Back to top button