যেতে পারে প্রাণও! দিঘার সমুদ্র সৈকতে নয়া আতঙ্ক, তঠস্থ প্রশাসন থেকে পর্যটকরা

দিঘা (Digha)…এই জায়গাটা ভ্রমন প্রিয় বাঙালির মনে প্রাণে একটা আলাদাই জায়গা করে নিয়েছে। সকলের কাছে বিশেষ করে যারা একটু সমুদ্রপ্রেমী তাদের কাছে দিঘা একটা আলাদাই আবেগের জায়গা। বছরে যেকোনো সময় ভ্রমণপ্রিয় বাঙালি এই জায়গায় ঘুরতে যেতে পছন্দ করেন।

ওল্ড দিঘা থেকে শুরু করে নিউ দীঘা, মন্দারমণি (Mandarmani) ঢেউ সাগর সহ বেশ কিছু জায়গা আছে যেখানে মানুষ ঘুরতে যেতে পছন্দ করেন। এদিকে সাধারণ পর্যটকদের কথা ভাবনা চিন্তা করে দিঘাকে এক প্রকার ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নিয়েছে প্রশাসন। কিন্তু এই দিঘা ঘুরতে গিয়েই যখন কোনও বিপত্তি ঘটে যায় তা মোটেই কারো কাছে সুখকর হয় না। হ্যাঁ সম্প্রতি দীঘায় এমনই কিছু ঘটনা ঘটেছে যা কারোরই এক কথায় কাম্য নয়।

   

দিঘায় ঘুরতে যাওয়া পর্যটকদের কাছে এখন মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে শ্যাওলা। দিঘার বহু সমুদ্র ঘাটে এমন শ্যাওলা জমে গিয়েছে যেখানে পর্যটকরা একটুখানি যদি সতর্ক না হন সেক্ষেত্রে বড় বিপত্তি ঘটে যাচ্ছে। ওল্ড দিঘা থেকে নিউ দিঘা পর্যন্ত অনেকগুলি স্নানঘাট রয়েছে।  যে ঘাটে নেমে পর্যটকরা সমুদ্র স্নানের আনন্দ উপভোগ করেন। কিন্তু এই সমুদ্র স্নান উপভোগ করতে গিয়ে অনেকের সঙ্গে খুব খারাপ কিছু ঘটনা ঘটছে। অনেকেই আছেন যারা পা পিছলে পড়ে যাচ্ছে। ঘটছে বিপত্তি।

স্থানীয়রা বলছেন, ঘাটগুলি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার বা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়নি। এর জন্য জমে গিয়েছে শ্যাওলা। এতে পিছলে পড়ে আহত হচ্ছেন পর্যটকেরা। সম্প্রতি দিঘায় ঘুরতে আসা এক পর্যটক বলছেন, ‘‘একদল যুবক-যুবতী সেলফি তুলছিলেন। ঘন শ্যাওলাতে আচমকা পা ফসকে একটি মেয়ে পড়ে যায়।’’ এদিকে হুগলি থেকে দিঘায় ঘুরতে আসা এক পর্যটক বলছেন, ‘‘স্নান ঘাটগুলির যে অংশ সমুদ্রের দিকে রয়েছে, তার অবস্থা মারাত্মক। যে কোনও মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। প্রশাসনের উচিত সমস্ত স্নানঘাট অবিলম্বে সংস্কার করা।’’

digha sa

অনেকেই হয়তো জানেন না যে কয়েক বছর আগে ওল্ড দিঘার সি হক থেকে জগন্নাথ ঘাট পর্যন্ত প্রায় আধ কিলোমিটার এলাকা স্নানের জন্য বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করেছিল দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদ। পুলিশ এবং পর্ষদ যৌথভাবে সেখানে বোর্ড লাগিয়ে পর্যটকদের স্নানে নামতে নিষেধ করেছিল। যদিও একের পর এক ঝড়, ঘূর্ণিঝড় সেই বোর্ডকে সরিয়ে দেয়। ফলে সেখানে নতুন করে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়তে থাকে। তবে ঘটছে বেশ ঘটনাও। ফলে প্রশাসনের কাছে সকলের আর্জি যেন দ্রুত এই শ্যাওলা সরিয়ে দেওয়া হয়।

বিগত ৭ বছর ধরে সাংবাদিকতার পেশার সঙ্গে যুক্ত। ডিজিটাল মিডিয়ায় সাবলীল। লেখার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার নেশা।

সম্পর্কিত খবর