মাত্র ২০০ টাকায় থাকুন ট্রি হাউজে! মায়াপুরে পর্যটকদের জন্য দারুণ ব্যবস্থা, কীভাবে করবেন বুক?

একদিনের ছুটিতে আপনিও কি কোথাও কাছে পিঠে ঘুরতে যাওয়ার জন্য মুখিয়ে রয়েছে? কিন্তু কোথায় যাবেন বুঝতে পারছেন না? তাহলে আজকের এই প্রতিবেদনটি রইল শুধুমাত্র আপনার জন্য। আপনিও যদি স্নিগ্ধতায় ভরপুর কোনও জায়গায় যাওয়ার কথা ভেবে থাকেন তাহলে উইকএন্ডে অনায়াসে ঘুরে আসতে পারেন মায়াপুর (Mayapur)।

এই জায়গাটি ভীষণ সুন্দর। এই মায়াপুরে যে একবার গিয়েছে সেই জানে এখানকার মাহাত্ম্য। এই জায়গায় আপনিও যদি প্রথমবার যান তাহলে প্রেমে পড়ে যাবেন। মায়াপুর হল পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলায় দুটি নদীর সঙ্গমস্থলে অবস্থিত। এখানে জলঙ্গি নদী গঙ্গার একটি শাখা নদী ভাগীরথীর সাথে মিশেছে। এটি কলকাতা থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। নবদ্বীপের পাশাপাশি গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্মের অনুসারীরা এটিকে একটি আধ্যাত্মিক স্থান হিসাবে বিবেচনা করেন। কথিত আছে, এটি নাকি চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মস্থান। আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের (ইসকন) সদর দফতর মায়াপুরে অবস্থিত সহ মায়াপুরে বেশ কয়েকটি গৌড়ীয় বৈষ্ণব সংগঠন রয়েছে।

   

যাইহোক, সারাবছর বহু পর্যটকের সমাগম এখানে চোখে পড়ে। দেশ, বিদেশ থেকে বহু মানুষ এই মায়াপুরের টানে ছুটে আসেন। তবে এবার এই মায়াপুরে আগত পর্যটকদের জন্য রইল আরও একটি বড় চমক। এখানে একটি নতুন পার্ক উদ্বোধন হয়েছে। মায়াপুরের ইস্কন মন্দির থেকে এই পার্কটির দূরত্ব খুব একটা নয়। মাত্র ৫ মিনিট হাঁটলেই এই পার্কটিতে পৌঁছে যেতে পারবেন আপনি। সবথেকে বড় কথা, এই পার্কটিতে রয়েছে একটি ট্রি হাউস, যেটি দেখলে আপনারও মন খুশ হয়ে যাবে।

প্রিয়জন হোক পরিবার, আপনি এখানে সকলকে নিয়ে আসতে পারেন। রাতে এখানে থাকারও সুব্যবস্থা রয়েছে। এই পার্কে প্রবেশ করতেই আপনি প্রথমে তুলসী মহারানীকে দেখতে পেয়ে যাবেন। এখানে রয়েছে একটি সুন্দর মন্দির ও টাওয়ার। যেখানে উপরে উঠে আপনি গোটা জায়গাটির আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন। এখানে থাকা নদীকে দেখলে আপনার শরীর ও মন দুটোই একদম চাঙ্গা হয়ে যাবে। বসার জন্য বেশকিছু জায়গা আছে।

এখানে রয়েছে ট্রি হাউস যেখানে আপনি থাকতে পারেন। মায়াপুরের মতো জায়গায় ট্রি হাউসে থাকা যাবে এটা ভাবতেও পারেন না হয়তো অনেকে। কিন্তু এটাই বাস্তব। বাঁশের সাঁকো পেরিয়ে আপনাকে প্রথমে এই ট্রি হাউসে যেতে হবে। এখানে রুম রেন্ট মাত্র ২০০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে। ২ জন থাকতে পারবেন। অনলাইন বুকিং ব্যবস্থা নেই। এখানে এসে আপনাকে এই ট্রি হাউসে থাকার জন্য যাবতীয় কাজ করতে হবে।

কীভাবে যাবেন?

মায়াপুরের ইস্কন মন্দিরের এক নম্বর গেট দিয়ে বেরোবেন। এরপর হুলোর ঘাটের দিকে হাঁটা লাগাতে হবে। ১০ টাকা খরচ করে আপনি টোটোতেও যেতে পারেন এই ট্রি হাউস বা পার্কে।

বিগত ৭ বছর ধরে সাংবাদিকতার পেশার সঙ্গে যুক্ত। ডিজিটাল মিডিয়ায় সাবলীল। লেখার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার নেশা।

সম্পর্কিত খবর