আগস্টের আগে সিকিমে যাওয়া মানেই …! খড়গপুর IIT-র অধ্যাপকের বিরাট সাবধানবাণী

ভ্যাপসা গরমে নাজেহাল বাংলার মানুষ। মাঝে মধ্যে বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া বইছে, তাতে সাময়িক স্বস্তি মিললেও পরে ফের যে কে সেই অবস্থা। এহেন অবস্থায় অনেকেই আছেন যারা পাহাড়ে গিয়ে একটু ঠান্ডা আবহাওয়ার আনন্দ উপভোগ করতে চান। অনেকেই আছেন যারা দার্জিলিং নয়তো সিকিমে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ট্রেনের টিকিট কাটছেন। আপনিও কি বিশেষ করে সিকিম যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন? তাহলে দাঁড়ান।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ এই সিকিম নিয়ে এবার ভয়ঙ্কর তথ্য দিলেন IIT-র অধ্যাপক, যা শুনলে আপনারও পিলে চমকে যেতে পারে বৈকি। দুদিন আগেই ব্যাপক বৃষ্টির জেরে শিলিগুড়ি ও ডুয়ার্সের সংযোগকারী ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক এবং কালিম্পং ও সিকিমের সঙ্গে শিলিগুড়ির সংযোগকারী ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ক্ষয়ক্ষতির জেরে রবিবার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক বরাবর যান চলাচল বন্ধ করে দেয় প্রশাসন।

   

শনিবার থেকে রবি, ঝোরা ও লিখুতে ভূমিধসের জেরে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কালিম্পং ও সিকিমের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। যাইহোক, তবে এবার সিকিম নিয়ে সাবধান করলেন আইআইটির এক অধ্যাপক। আর অধ্যাপকের এহেন সাবধানবাণী শুনে সকলেরই চোখ কপালে উঠেছে।

গ্যাংটক থেকে লাচুং যাওয়ার রাস্তায় ধস নেমে বিপত্তি ঘটেছে। পড়ছে পাথরও। স্বাভাবিকভাবেই সকলের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে, তবে কি আর সিকিমে যাওয়া উচিৎ নয় পর্যটকদের? এই বিষয়ে বড় মন্তব্য করেছেন IIT খড়গপুরের জিওলজি এবং জিওফিজিক্স বিভাগের সিনিয়র অধ্যাপক শংকর কুমার নাথ। তিনি বলেন, ‘ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে অগাস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত সিকিমের মতো পাহাড়ি এলাকায় পর্যটকদের যাওয়া একেবারেই নিরাপদ নয়। অগাস্টের শেষ থেকে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত এই জায়গাগুলি নিরাপদ। তবে যেই বর্ষা নামে, পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। স্থলভাগের বর্ষাকাল এবং পাহাড়ের বর্ষাকাল একদম আলাদা। আমি জানি এর মধ্যে গরমের ছুটি পড়ে, তখন পর্যটকদের ঢল নামে পাহাড়ে। কিন্তু, এই সময়টা ওয়েদার লেয়ার স্পর্শকাতর হয়ে যায়, একটু কম্পন হলেই গ্র্যাভিটি ফেলিওর হয়।’

তিনি আরও জানান, ‘বিন্দুমাত্র ছোট কম্পনও যদি হয়, ধস নামতে পারে সিকিমে। এটি পুরোটিই একটি ধস প্রবণ এলাকা। ফলে যে কোনও সময় এই ধরণের বিপর্যয় ঘটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। লাচুংয়ের মতো টুরিস্ট স্পটে ঘন ঘন কম্পন হয়। দার্জিলিং, সিকিম সবসময়ই ভূমিকম্প প্রবণ। সাড়ে চার, পাঁচ মাত্রার কম্পন এখানে প্রায়শই হতে থাকে।  প্রকৃতিকে আরও রুষ্ট করছি আমরা।’

বিগত ৭ বছর ধরে সাংবাদিকতার পেশার সঙ্গে যুক্ত। ডিজিটাল মিডিয়ায় সাবলীল। লেখার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার নেশা।

সম্পর্কিত খবর