কাশ্মীরেও সাঁই সাঁই করে ছুটবে ইলেকট্রিক ট্রেন, ভ্রমণ হবে আরও সহজ! দিনক্ষণ ঘোষণা রেলের

আপনিও কি ট্রেনে (Train) ভ্রমণ করতে ভালোবাসেন? তাহলে আপনার জন্য রইল এক খুশির খবর। যেটি শুনে আপনিও লাফাতে শুরু করবেন বৈকি। ভারতীয় রেলকে (Indian Railways) দেশের মেরুদন্ড বলা হয়। আর সাধেই কিন্তু তা বলা হয় না। প্রত্যেকদিন কয়েক লক্ষ মানুষ দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাওয়ার জন্য ভারতের রেল ব্যবস্থার উপর চোখ বন্ধ করে ভরসা করেন।

কেউ ট্রেনে যান কাজের তাগিদে তো কেউ যান ঘুরতে যাবার জন্য। অনেকেই আছেন যারা বাস বা বিমান ছেড়ে ট্রেনে ভ্রমণ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন। এদিকে সাধারণ মানুষের কথা ভাবনা চিন্তা করে একের পর এক নতুন ট্রেন আনা হচ্ছে, সেই সঙ্গে বেশ কিছু নতুন পুরনো মিলিয়ে রুট চালু করা হচ্ছে। এবারে কিন্তু তার ব্যতিক্রম ঘটল না।

   

জানা গিয়েছে, আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি কাশ্মীরে (Kashmir) প্রথম বৈদ্যুতিক ট্রেনের (Electric Train) উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বানিহাল থেকে উপত্যকায় সাঙ্গলদান পর্যন্ত ৪৮ কিলোমিটার দীর্ঘ রেল সংযোগেরও উদ্বোধন করবেন তিনি। ২০১৯ সালে ৩৭০ ধারা বিলোপের পর এই প্রথম এই এলাকায় একটি প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রেলের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, একটি ঐতিহাসিক দিনের সাক্ষী থাকতে চলেছেন সকলে। একসঙ্গে প্রায় ২ হাজার প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাসের জন্য সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে।

এর আওতায় ৫০০-র বেশি রেল স্টেশনকে ঢেলে সাজানো হবে। ওভার ব্রিজ ও আন্ডার ব্রিজ নির্মাণ করা হবে। মে-জুনে প্রস্তাবিত লোকসভা নির্বাচনের আচরণবিধি লাগু হওয়ার আগেই এই বড় কাজগুলি ঘোষণা করবে কেন্দ্রীয় সরকার। রেল কর্মকর্তারা অবশ্য আশা প্রকাশ করেছেন যে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে শ্রীনগর থেকে জম্মু পর্যন্ত ট্রেন চলাচল শুরু করবে। এর সঙ্গে উপত্যকাকে ট্রেন দিয়ে যুক্ত করার সরকারের পুরনো প্রতিশ্রুতিও পূরণ হবে।

সাঙ্গলদান এবং কাটরার মধ্যে দুটি টানেলের সমাপ্তিতে সময় নেওয়ার কারণে এটি বিলম্বিত হতে পারে। আধিকারিকরা জানিয়েছেন, দুগ্গা থেকে রিয়াসির মধ্যে ১৮ কিলোমিটার রাস্তার কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু যতক্ষণ না দু’পক্ষের কাজ শেষ হচ্ছে, ততক্ষণ ট্রেন চালু করা যাবে না।

অপর এক আধিকারিক জানিয়েছেন, জম্মু ও কাশ্মীরের মধ্যে ননস্টপ ট্রেন পরিষেবা এই বছরের জুলাই-আগস্টের মধ্যে শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে ১৩৮ কিলোমিটার দীর্ঘ বারামুল্লা-বানিহাল শাখায় ডিজেলচালিত ট্রেন চলাচল করে। নতুন রেলপথ চালু হওয়ার পরে, যাত্রীরা বারামুল্লা থেকে সাঙ্গলদান পর্যন্ত ট্রেনে ভ্রমণ করতে পারবেন। এই রুটে ১৯ টি স্টেশন রয়েছে এবং এই বিভাগের বৈদ্যুতিকীকরণ ৪৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে করা হয়েছে। এই বিভাগটি বৈদ্যুতিকীকরণের সাথে, বন্দে ভারত ট্রেনও আগামী সময়ে পরিচালিত হবে।

বিগত ৭ বছর ধরে সাংবাদিকতার পেশার সঙ্গে যুক্ত। ডিজিটাল মিডিয়ায় সাবলীল। লেখার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার নেশা।

সম্পর্কিত খবর