খরচ মাত্র ১০ টাকা, কলকাতার কাছেই রয়েছে ৫০০ বছরের পুরনো মন্দির! ইতিহাস চমকে দেবে

কলকাতার (Kolkata) দুর্গাপুজো ভারতে তো বিখ্যাতই, কিন্তু এখন এর খ্যাতি ছড়িয়েছে গোটা বিশ্বেই। এখন এটি ইউনেস্কো কর্তৃক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসাবেও স্বীকৃত, তবে কলকাতা থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরে হুগলি (Hooghly) জেলার একটি ছোট শহর চন্দননগরের (Chandannagar) জগদ্ধাত্রী পুজোও কিন্তু কম কিছু নয়।

আলোকসজ্জার দিক থেকে এই চন্দননগর কলকাতার চেয়ে অনেক এগিয়ে। এর ইতিহাস কলকাতার দুর্গাপুজোর চেয়েও প্রায় ৩৫০ বছরের পুরনো। এই চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো দেখতে দেশ, বিদেশ থেকে বহু মানুষ ভিড় জমান। যদিও আজ এই প্রতিবেদনে জগদ্ধাত্রী পুজো নিয়ে আলোচনা হবে না। আজ এই প্রতিবেদনে চন্দননগরের বুকে থাকা ৫০০ বছরের পুরনো এক মন্দিরকে নিয়ে আলোচনা হবে।

   

আপনিও হয়তো চন্দননগর ও স্ট্র্যান্ড রোডে (Chandannagar Strand) নিশ্চয়ই গিয়ে থাকবেন। কিন্তু এই মন্দির সম্পর্কে খুব কম মানুষ রয়েছেন যিনি পুরোটা জানেন। শীতকাল পড়ে গিয়েছে। আর শীতে কমবেশি সব মানুষই এখানে সেখানে ঘুরতে যেতে চাইছেন। অনেকেই আছেন যারা ডে ট্যুর অর্থাৎ কাছেপিঠে দিনের দিন ঘুরে আসতে পছন্দ করেন। অনেকেই আছেন যারা এই শীতে চন্দননগর ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান করছেন নিশ্চয়ই।

তবে সেখানে যাওয়ার আগে ৫০০ বছর পুরনো মন্দির নিয়ে বিস্তারিত জেনে নিন। বোড়াই চণ্ডীতলা। শোনা যায় এই চণ্ডী নাম থেকেই নাকি চন্দননগর নামের উৎপত্তি। যদিও এই নামের উৎস নিয়ে অনেক মতভেদ রয়েছে। বাংলা সাহিত্যের বিপ্রদাস পিপলাই রচিত মনসামঙ্গল কাব্যেও কিন্তু চন্দননগরের অন্তর্গত ‘বোড়ো’র উল্লেখ আছে। প্রায় ৫০০ বছর ধরে মা বোড়াই চণ্ডী পুজিত হয়ে আসছেন এই মন্দিরে। মা দুর্গা রূপেই পুজিত হন তিনি। এই মন্দিরের পাশ দিয়ে নাকি গঙ্গা বয়ে যেত। কথিত আছে শ্রীমন্ত সওদাগর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মা বোড়াইচন্ডীর মন্দির। সিংহলে আটক পিতাকে মুক্ত করার জন্য শ্ৰীমন্ত সওদাগর বোড়াইচণ্ডীর মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

chandannagar

যারা চন্দননগর গিয়েছেন বা সেখানকার বাসিন্দা তাঁরা জেনে থাকবেন মন্দিরের গর্ভগৃহে চতুর্ভুজা মা বোড়াইচণ্ডী নিমকাঠের তৈরি। অষ্টধাতুর পাত দিয়ে মোড়া। দেবীর চারহাতে শঙ্খ, চক্র, পদ্ম ও ত্রিশূল। পাথরের বোড়াইচণ্ডী মূর্তিটি মন্দিরে সংরক্ষিত আছে। আট ঘর সেবায়েতরা পালা করে মায়ের সেবাকার্য পরিচালনা করেন রোজ। দেবাদিদেব মহাদেব অধিষ্ঠান আছে। মায়ের মন্দিরের প্রবেশপথে রয়েছে একটি বড় নাট মন্দির।

এখন নিশ্চয়ই ভাবছেন যে কতক্ষণ এই মন্দির খোলা থাকে? তাহলে আপনাদের জানিয়ে রাখি, সকাল ৬টা থেকে দুপুর ৮টো এবং বিকেলে ৪টে থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকে মন্দির। চন্দননগর স্টেশন থেকে লক্ষ্মীগঞ্জ বাজার হয়ে পৌঁছতে হয় বোড়াইচন্ডী তলা। তাহলে আর দেরী না করে এই উইকএন্ডে আপনিও চলে যান চন্দননগর। গঙ্গার সুন্দর হাওয়া উপভোগ করুন এবং এই শতাব্দী প্রাচীন মন্দির থেকেও ঘুরে আসুন।

বিগত ৭ বছর ধরে সাংবাদিকতার পেশার সঙ্গে যুক্ত। ডিজিটাল মিডিয়ায় সাবলীল। লেখার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার নেশা।

সম্পর্কিত খবর