প্রসেনজিতের ঘুম কাড়ল এই বাংলা ছবি, বিদেশে মিলেছে ৮ টি পুরস্কার! অবাক করে দেবে এর গল্প

বাংলা ছায়াছবি নিয়ে নির্মাতা থেকে দর্শক, সবারই অগাধ অনুযোগ, অভিযোগ। নির্মাতাদের মতে বাঙালি দর্শক বাংলা ছবির জায়গায় হল ভরাচ্ছেন বলিউডি সিনেমা এবং দক্ষিণী ছবির জন্য। বাংলা ছবি চললে পুরো থিয়েটার ফাঁকা। এর ফলে ধুঁকছে বাংলা সিনে ইন্ডাস্ট্রি। সেরকমই অভিযোগ রয়েছে দর্শকদেরও।

বাঙালি দর্শকদের মতে সেই বস্তাপঁচা আদ্যিকালের সিনেমা অথবা দক্ষিণী ছায়াছবির কপি দেখার জন্য তারা আর খরচ করতে রাজি নন। এত অনুযোগ, অভিযোগের মধ্যেও একখানা বাংলা ছায়াছবি কিন্তু বিশ্বের মঞ্চে বিখ্যাত হয়েছে। বলিউড সুপারস্টার অমিতাভ বচ্চন স্বয়ং এই ছবির তারিফ করতে বাধ্য হয়েছেন।

আজ আমরা কথা বলছি বাংলা ছায়াছবি ‘দোস্তজি’র ব্যাপারে। আমার আপনার মতো অনেক বাঙালি হয়তো এই সিনেমার নামই শুনিনি। কিন্তু ‘দোস্তজি’ পেরেছে বিখ্যাত হতে। জাপানের তাবড় তাবড় লোকজন সিনেমাটির তারিফ করতে ক্লান্ত হচ্ছেন না। এমনকি পরিচালক প্রসূন চ্যাটার্জিকে পরের ছবির জন্য ৮ কোটি টাকা অর্থসাহায্য তুলে দিয়েছেন।

fhgdxnluuaepecz

 

এখনো পর্যন্ত সারাবিশ্বের আটখানা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড এবং ২৬ টি দেশে প্রিমিয়ার হয়েছে এই বাংলা ছবিটি। এবং প্রত্যেক জায়গাতেই রীতিমতো সাড়া ফেলে দিয়েছে ‘দোস্তজি’। জানলে অবাক হবেন যে, গত ৪০ বছর পর কোনও বাংলা ছায়াছবি ইউনেস্কো’র CIFEJ পুরষ্কারে ভূষিত হলো।

এই গল্প কয়েকটি বাঙালি ছেলের লড়াইয়ের গল্প। কিন্তু সিনাম নির্মাণে বেশ বেগ পেতে হয় তাকে। প্রযোজকহীন এই সিনেমা তৈরি করার জন্য মানুষের সাহায্য চান পরিচালক প্রসূন চ্যাটার্জি। মুর্শিদাবাদ এলাকার ডোমকলের দুই বাচ্চাকে নিয়ে তৈরি এই সিনেমা। আরো জানলে অবাক হবেন যে, এই সিনেমার ক্যামেরাম্যান তুহিন বিশ্বাস আদতে একজন প্রাইমারি স্কুল টিচার। বেস্ট ডেবিউ ক্যামেরাম্যানের পুরষ্কার পান তিনি।

fhwzibxaaae8 z4

পরিচালক প্রসূন চ্যাটার্জির এটাই প্রথম ছবি। থিয়েটারে কাজ করলেও সিনেমাতে এই প্রথম নামেন তিনি। কাছের এক বন্ধুকে হারিয়ে এই সিনেমা নির্মাণের কথা মাথায় আসে তার। কিন্তু বহু চেষ্টা করেও কোনো প্রযোজক জোগাড় করতে পারেননি তিনি। বন্ধু বান্ধবরা পাশে দাঁড়ানোয় এই সিনেমা নির্মাণ করতে পারেন তিনি। উল্লেখ্য যে, গতকাল অর্থাৎ ১১ নভেম্বর বিভিন্ন সিনেমা হলে মুক্তি পেয়েছে ছবিটি।

এই সিনেমার সাথে নাম জুড়িয়ে যায় বাংলা ইন্ডাস্ট্রির বিখ্যাত অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের (Prosenjit Chatterjee)। পরিচালক আসলে বুম্বাদাকে সিনেমাটি পাঠান। আর তারপরই ফোন কল যায় প্রসূন চ্যাটার্জির কাছে। বুম্বাদা বলেন, সিনেমাটি দেখে নাকি ঘুমোতে পারেননি এবং সিনেমাটিকে সাহায্য করতে চান তিনি। এভাবেই ভালো কনটেন্টের পিছনে অনেকেই নিজের সময় এবং পরিশ্রম দিতে ইচ্ছুক, কিন্তু প্রশ্ন হলো ইন্ডাস্ট্রির সবাই কি নিজেদের খোলনলচে ছেড়ে বেরিয়ে আসতে পারবে?

➦ আপনার জন্য বিশেষ খবর

Back to top button