স্কুল ফিস দিতে পারতেন না, ৫ টাকার মজুর ‘দ্য গ্রেট খালি”র বর্তমান সম্পত্তি অবাক করার মতো

কলকাতাঃ দ্য গ্রেট খালির নাম শোনেনি এমন লোক ভারতে খুব কমই আছে। WWE-তে আন্ডারটেকারকে নাকানিচোবানি খাওয়ানো গ্রেট খালি গলি থেকে রাজপথের সফর  করেছেন। খোশমেজাজ এবং পরিশ্রমী খালি তার শৈশবে খুব খারাপ দিন দেখেছেন, কিন্তু শুধুমাত্র হার না মানার জেদই দলিপ সিং রানাকে গ্রেট খালি করে তুলেছে।

একদা ঈক্তি সাক্ষাৎকারে তিনি তার শৈশবের সেই মুহূর্ত প্রকাশ করেন, যা জানলে আপনিও অবাক হবেন। গ্রেট খালি এমন একটি সময়ও দেখেছেন যখন তার দরিদ্র বাবা-মা তার স্কুলের ফি বাবদ মাত্র 2.5 টাকা দিতে পারেননি এবং এই কারণে তার নাম স্কুল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। 8 বছর বয়সে দিনে পাঁচ টাকা রোজগারের জন্য তাকে গ্রামে বাগানের কাজ করতে হয়েছিল। ছোটবেলায় মানুষ খালির শরীরের গঠনের কারণে তাকে নিয়ে মজা করত। কিন্তু দৃঢ় সংকল্পের কারণে খালি আজ সেই জায়গা অর্জন করেছেন যা এর আগে কোনো ভারতীয় কুস্তিগীর করতে পারেনি। তিনি প্রথম ভারতীয় কুস্তিগীর যিনি WWE তে নিজের নাম কায়েম করেছিলেন।

খালি এবং বিনীত কে. বনসাল যৌথভাবে “দ্য ম্যান হু বিকেম খালি” নামে একটি বইও লিখেছেন। এই বইটিতে বিশ্ব হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী এই দুরন্ত কুস্তিগীরের জীবনের অনেক দিকই সামনে আনা হয়েছে। বই অনুযায়ী, 1979 সালের গ্রীষ্মের মৌসুমে তাকে স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় বৃষ্টির অভাবে ফসল নষ্ট হয়ে গিয়েছিল এবং তার বাবা-মায়ের কাছে ফি দেওয়ার মতো টাকা ছিল না। সেদিন তার ক্লাস টিচার তাকে পুরো ক্লাসের সামনে অপমান করে। এর পর সহপাঠীরাও তাকে নিয়ে ঠাট্টা করে, এরপর সে সিদ্ধান্ত নেয় সে আর কখনো স্কুলে যাবে না।

খালি বলেন, এরপর আমি কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ি যাতে পরিবারকে সাহায্য করতে পারি। একদিন বাবার কাছে থাকা অবস্থায় তিনি জানতে পারলেন গ্রামে দিনমজুরির জন্য একজন লোকের প্রয়োজন। মজুরি হবে প্রতিদিন 5 টাকা। তখন আমার কাছে পাঁচ টাকা ছিল বিশাল পরিমাণ। আড়াই টাকা না থাকায় স্কুল ছাড়তে হয়েছে আর পাঁচ টাকা তার দ্বিগুণ। খালি জানান, বাবা না করা সত্ত্বেও আমি গ্রামে চারা রোপণের কাজ হাত দিই।

1465213552 famous wrestlers and boxers the great khali young

পাহাড়ের চার কিমি নিচে গ্রামের নার্সারি থেকে চারা নিয়ে এসে রোপণ করতে হত। সব চারা রোপণের পর নতুন গাছ আনতে ফের নিচে যেতে হতো। তিনি বলেন, আমার প্রথম মজুরি পাওয়ার সেই মুহূর্তটা এখনো মনে আছে। সেই অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে পারব না। তিনি বলেন, আমি কঠোর পরিশ্রমের জন্য সবকিছু অর্জন করেছি। আমি এখনও আমার মা পেয়ারীদেবীর হাত খেতে পছন্দ করি, কিন্তু এখন তার বয়স হয়েছে। একসময় স্কুলের আড়াই টাকা দিতে না পারা খালি আজ ৯৬ কোটি টাকার মালিক। তাঁর এই সংঘর্ষের কাহিনী সবাইকেই অনুপ্রেরণা জোগাবে।

➦ আপনার জন্য বিশেষ খবর

Back to top button