গোটা বিশ্বে বাড়বে ভারতের মান! চাঁদ, সূর্য, আদিত্য L1-র পর! এবার অসাধ্য মিশনে নামছে ISRO

একের পর এক মিশন লঞ্চ করে এবং তাতে সাফল্য পেয়ে এখন রীতিমতো মধ্যগগনে রয়েছে ইসরো (Indian Space Research Organisation)। এদিকে ISRO-র একের পর এক সাফল্যের দরুণ ভারতবাসীর গর্বের শেষ নেই। সেইসঙ্গে ভারতের এই মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রটিকে নিয়ে গত বিষয় বর্তমানে আলোচনা করছে। তবে আপনি জানলে চমকে উঠবেন, এবার চন্দ্রযান (Chandrayaan-3) ও সূর্যযানের সাফল্যের পর ভারত গগনযান মিশন সম্পূর্ণ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এরই মধ্যে অন্য একটি মিশনে কাজ শুরু করেছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ISRO)। এই মিশনের নাম ইন্ডিয়ান স্পেস স্টেশন, যা তৈরির কাজ শুরু করেছেন মহাকাশ বিজ্ঞানীরা। লক্ষ্য ২০৩৫ সালের মধ্যে মহাকাশে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে ভারতীয় মহাকাশ স্টেশন স্থাপন করা। এই বিষয়ে ইসরো প্রধান এস সোমনাথ জানিয়েছেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই স্পেস স্টেশনের প্রথম মডিউল উৎক্ষেপণ করা হতে পারে। এটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্বপ্নের প্রকল্প।

   

তিনি জানান, ‘তিরুবনন্তপুরমের বিক্রম সারাভাই স্পেস সেন্টারে (ভিএসএসসি) ঘোষণা করা হয়েছিল যে আমরা এখন মহাকাশে আমাদের স্পেস স্টেশন তৈরি করব। এখন পর্যন্ত রাশিয়া, আমেরিকা ও চীনে মহাকাশ স্টেশন রয়েছে। এখন ভারত মহাকাশে একটি স্পেস স্টেশন স্থাপনকারী বিশ্বের চতুর্থ দেশ হতে পারে।’

তিরুবনন্তপুরমের বিক্রম সারাভাই স্পেস সেন্টারের ডিরেক্টর ডঃ উন্নিকৃষ্ণন নায়ার জানিয়েছেন, স্পেস স্টেশন তৈরির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। মহাকাশ স্টেশনটি পৃথিবী থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে অবস্থিত। মহাকাশ স্টেশনের এক প্রান্তে ক্রু মডিউল এবং রকেটের ডকিং পোর্ট থাকবে, যা নভোচারীদের বহন করবে। ভারত এজন্য একুশ শতকের হাই-ফাই এবং আধুনিক প্রযুক্তি সম্বলিত এক বিশেষ ডকিং পোর্ট নির্মাণ করছে। স্পেস স্টেশনটিতে ৪টি ভিন্ন মডিউল এবং কমপক্ষে ৪টি সোলার প্যানেল থাকতে পারে।

isro space station

জরুরি অবস্থার জন্য ক্রু মডিউল এস্কেপ সিস্টেমও থাকবে। এটি মহাকাশের তাপের সঙ্গে খাপ খাইয়ে অক্সিজেন উৎপাদন করতে সক্ষম হবে। প্রধানমন্ত্রী মোদী নির্দেশ দিয়েছেন যে ভারতকে এখন মহাকাশ বিশ্বের সাথে সম্পর্কিত তার ভবিষ্যতের লক্ষ্যগুলির দিকে মনোনিবেশ করতে হবে, এর মধ্যে রয়েছে ২০৩৫ সালের মধ্যে একটি মহাকাশ স্টেশন স্থাপন করা এবং ২০৪০ সালের মধ্যে চাঁদে প্রথম ভারতীয়কে পাঠানো।

স্পেস স্টেশনটি একটি চাকার আকারে এবং ৫ বেডরুমের বাড়ি বা বোয়িং জেটের মতো বড় হতে পারে। এটি ৬ জন ক্রু এবং কিছু বিজ্ঞানীদের থাকার ব্যবস্থা করতে পারে। রকেটের মাধ্যমে গবেষণা সংশ্লিষ্ট জিনিস, যন্ত্রপাতি, মেশিন, খাদ্য ও পানীয় সামগ্রী পৃথিবী থেকে মহাকাশ স্টেশনে নিয়ে যাওয়া যাবে। স্পেস স্টেশন হলো এক ধরনের রিসার্চ ল্যাব, যার ভেতরে মহাকাশ বিজ্ঞানীরা গবেষণা করতে পারেন।

স্পেস স্টেশনটির সবচেয়ে বড় সুবিধা হবে বিভিন্ন গ্রহে মিশনে যাওয়া নভোচারীরা এই কেন্দ্রে তথ্য ও নমুনা পাঠাবেন এবং সেখানে গবেষণা করে বৈজ্ঞানিক ফলাফল জানা যাবে, যার উপকার হবে পৃথিবীতে বসবাসকারী মানুষের। এতদিন মহাকাশ থেকে তথ্য ও নমুনা পৃথিবীতে এনে নিয়ে গবেষণা হয় ইসরোর ল্যাবে, কিন্তু অনেক সময়ই তথ্য-নমুনা কোনও কারণে পৃথিবীতে পৌঁছায় না, তাই স্পেস স্টেশনের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়।

বিগত ৭ বছর ধরে সাংবাদিকতার পেশার সঙ্গে যুক্ত। ডিজিটাল মিডিয়ায় সাবলীল। লেখার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার নেশা।

সম্পর্কিত খবর