চাঁদ অতীত, এবার উন্মোচন হবে ব্রহ্মাণ্ডের গোপন রহস্য! ডিসেম্বরে বড় কীর্তি করে দেখাবে ISRO

মিশন চন্দ্রযান ৩ (Chandrayaan-3), সৌর মিশনের (Aditya-L1) পর এবার আরও এক ধাপ এগোল ইসরো (Indian Space Research Organisation)। আগামি দিনে আরও একটি বড় মিশনের দিকে গুটি গুটি পায়ে এগোচ্ছে ভারতের (India) এই মহাকাশ গবেষণা সংস্থা। ইতিমধ্যে চন্দ্রযান-৩ চাঁদের মাটিতে সফল অবতরণ করেছে। অন্যদিকে সৌর মিশন আদিত্য-এল১-এর সফল উৎক্ষেপণ হয়েছে । এদিকে গগনযানের সফল পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের দিকেও মনোনিবেশ করেছে ইসরো। তবে এরপর আরও এক বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে ইসরো।

xposat

   

আপনি জানলে অবাক হবেন, ISRO এখন নতুন মিশনের জন্য কোমর বেঁধে ময়দানে নামার চেষ্টা করছে। সম্ভবত ২৫ ডিসেম্বর বা তার আশেপাশে এক্স-রে পোলারিমিটার স্যাটেলাইট অর্থাৎ XPoSAT মিশন চালু করতে চলেছে ইসরো। এর জন্য পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল (PSLV) রকেট ব্যবহার করা হবে। সম্প্রতি এই মিশন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছে ইসরো। যা শুনলে ভারতবাসী হিসেবে গর্বে আপনারও বুক ফুলে উঠবে।

এই XPoSAT বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড নিয়ে গবেষণা করবে। তাদের উৎসের ছবি তুলবে। এই XPoSAT -এ বসানো টেলিস্কোপটি তৈরি করেছে রমন রিসার্চ ইনস্টিটিউট। এই স্যাটেলাইটটি মহাবিশ্বের ৫০টি উজ্জ্বলতম উৎস নিয়ে গবেষণা করবে। যেমন পালসার, ব্ল্যাক হোল এক্স-রে বাইনারি, অ্যাক্টিভ গ্যালাকটিক নিউক্লিয়াস, নন-থার্মাল সুপারনোভা। এই স্যাটেলাইটটি পৃথিবীর নীচের কক্ষপথে অর্থাৎ ৫০০ থেকে ৭০০ কিলোমিটার উচ্চতায় স্থাপন করা হবে। ২০১৭ সালে ইসরো এই মিশন শুরু করে। এই মিশনের ব্যয় ৯.৫০ কোটি টাকা। এই স্যাটেলাইটে দুটি পেলোড রয়েছে। প্রথম POLIX এবং দ্বিতীয় হল XSPECT।

এক্সপোস্যাট স্যাটেলাইটের মোট ওজন ৪৮০ কেজি। এর প্রতিটিতে ১৪৪ কেজি ওজনের দুটি পেলোড রয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এটি চলতি বছরের ২৫ ডিসেম্বরেই উৎক্ষেপণ করবে ইসরো। শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টারের প্রথম লঞ্চ প্যাড থেকে পিএসএলভি রকেট থেকে এটি উৎক্ষেপণ করা হবে।

এখন নিশ্চয়ই ভাবছেন যে এই POLIX কী? পলিক্স এই স্যাটেলাইটের প্রধান পেলোড। এটি রমন রিসার্চ ইনস্টিটিউট এবং ইউআর রাও স্যাটেলাইট সেন্টার যৌথভাবে তৈরি করেছে। ১২৬ কেজি ওজনের এই যন্ত্রটি মহাকাশের উৎসের চৌম্বকীয় ক্ষেত্র, বিকিরণ, ইলেকট্রন ইত্যাদি অধ্যয়ন করবে। এটি 8-30 কেভি রেঞ্জের শক্তি ব্যান্ড অধ্যয়ন করবে। পলিক্স মহাকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল ৫০টি বস্তুর মধ্যে ৪০টি নিয়ে গবেষণা করবে।

isro mission

এছাড়া XSPECT মানে হল এক্স-রে স্পেকট্রোস্কোপি এবং টাইমিং। এটি 0.8-15 কেভি রেঞ্জের শক্তি ব্যান্ড অধ্যয়ন করবে। অর্থাৎ, এটি পলিক্সের পরিসরের চেয়ে কম শক্তি ব্যান্ডগুলি অধ্যয়ন করবে। এটি পালসার, ব্ল্যাক হোল বাইনারি, লো-ম্যাগনেটিক ফিল্ড, নিউট্রন স্টার, ম্যাগনেটার ইত্যাদি অধ্যয়ন করবে।

সম্পর্কিত খবর