বদলে যাবে ভারত, এবার ভারতীয় বায়ুসেনাকে বিশাল বড় উপহার দিতে চলেছে টাটা

প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারত সরকারের ঢিলেমি অত্যন্ত বেশি। এজন্য বিপদের সম্মুখীন হতে হয় দেশের সুরক্ষা ব্যবস্থাকে। তবে ২০১৪ সালে সরকার বদল হওয়ার পর পরিবর্তন আসে অনেক কিছুতেই, প্রতিরক্ষা খাতেও দেখা যায় তার প্রভাব। পূর্ববর্তী সময়ে ২০০৩ সালের দিকে বিমান বাহিনীর বল বাড়ানোর জন্য যুদ্ধবিমান কেনার কথা ভাবা হয়, আর এই জন্য প্রকাশ করা হয় MMRCA। ১৩৬ টি বিমান কেনার কথা ছিল ওই টেন্ডারে। কিন্তু দীর্ঘ ১২ বছর কেটে গেলেও সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি কোনো যুদ্ধবিমান কেনা হবে। এরপর সরকারের পালা বদল হওয়াতে ফ্রান্সের সাথে চুক্তি করা হয় ৩৬ টি রাফাল বিমানের।

ইমার্জেন্সী হিসেবে কেনা হয় ৩৬ টি বিমান। এবং নতুন যুদ্ধবিমান ক্রয়ের জন্য প্রকাশ করা হয় MMRCA 2.0। জানা যাচ্ছে এটিই হবে ভারতীয় বায়ুসেনার শেষ বড় চুক্তি। এরপর দেশে তৈরি বিমানই ব্যবহার করবে বায়ুসেনা। এই সমস্ত চুক্তির ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ফ্ল্যাগশিপ যোজনা ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ একটি বড় পদক্ষেপ। আসলে সমস্ত কেনাকাটার ক্ষেত্রেই ভারতীয় বিমান বাহিনী মেড ইন ইন্ডিয়া মডেল ফলো করবে যাতে সেই বিমান ভারতেই তৈরি হয়। ইতিমধ্যেই সেই যোজনার অধীনে এয়ারবাস কোম্পানির পরিবহন বিমান C-295MW, এবার তৈরি হবে ভারতেই। টাটা এবং এয়ারবাস কোম্পানির মধ্যে ইতিমধ্যে সেই নিয়ে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। সমস্ত বিপদের কথা মাথায় রেখে নয়াদিল্লি এবার পাখির চোখ করেছে MMRCA 2.0 এর দিকে। ১১৪ টি মাল্টি রোল ফাইটার এয়ারক্রাফট কেনা হবে ২০ বিলিয়ন ডলার খরচ করে।

চিন এবং পাকিস্তান উভয় দেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধের কথা মাথায় রেখে শক্তিশালী করা হচ্ছে তিন বাহিনীকেই। এজন্য এবার দ্রুত পছন্দ করা হবে কোন বিমান ভারতীয় বিমাবাহিনীর জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ। তালিকার মধ্যে রয়েছে তিনখানা আমেরিকান বিমান, F-15, F-18 এবং F-16 এর নয়া সংস্করণ F-21। এর সাথে রাশিয়ার MiG-35 এবং Su-35, আগের টেন্ডারের বিজয়ী ফ্রান্সের Rafale, ইউরোপের Eurofighter Typhoon এবং সুইডিশ সংস্থা সাব গ্রুপের Gripen।
এরা সবাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে এই টেন্ডারে। আমেরিকানরা একধাপ এগিয়ে চুক্তি করে ফেলেছে টাটা কোম্পানির সাথে। ইতিমধ্যে লকহিড মার্টিন তাদের F-16 বিমানের উইং তৈরি করে ভারতে। তাই তারা টাটা গ্রুপের টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমের সাথে চুক্তি করে তাদের F-16 এর সর্বাধুনিক বিমান পেশ করেছে ভারতের কাছে।

তবে সামগ্রিকভাবে এক্ষুনিই সকল হয়নি মেক ইন ইন্ডিয়া প্রজেক্ট।এইজন্য নৌবাহিনীর দুটি প্রকল্প ব্যর্থ হয়েছে ইতিমধ্যে। কিন্তু তবুও ভারতীয় বাহিনীর পাখির চোখ মেড ইন ইন্ডিয়া প্রকল্প। এই জন্যই মার্কিন কোম্পানি এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জায়ান্ট কোম্পানি লকহিড মার্টিন, ভারতীয় বায়ুসেনাকে F-21 সরবরাহ করার জন্য Tata Advanced Systems-এর সাথে তার জোট বেঁধেছে। ‘বাই গ্লোবাল, মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের অধীনে যৌথ উদ্যোগে C-295 পরিবহন বিমান উৎপাদনের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে শুরু হয়েছে ।

ভারতীয় বিমান বাহিনী কোন যুদ্ধবিমান কিনবে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অন্তত চারটি ভিন্ন ধরনের বিকল্প বিবেচনা করেছে। ‘বাই গ্লোবাল, মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পটি সফলভাবে এবং সময়মতো চলে তা নিশ্চিত করার সর্বোত্তম উপায় হবে এটিই। একইসাথে, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি লাইট কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট তেজস এবং পঞ্চম প্রজন্মের অ্যাডভান্সড মিডিয়াম ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যেই চলছে দ্রুতগতিতে। এরই সাথে ভারতীয় বায়ুসেনার তরফে স্পষ্টভাবেই জানানো হয়েছে যে, পঞ্চম প্রজন্মের বিমান বিরাট সংখ্যায় কেনা হবে না বিদেশ থেকে।

➦ আপনার জন্য বিশেষ খবর

Back to top button