২০ লাখের চাকরি ছেড়ে দুর্দান্ত আইডিয়া নিয়ে শুরু করেন ব্যবসা, আজ কয়েক কোটি টাকার মালিক

জীবনে নিজের দুই পায়ে সফলভাবে দাঁড়ানো বেশ কঠিন। এবং পরিবারi, এই সাফল্যের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। ছোট থেকে বড় হয়ে উঠতে বাবার সমর্থন অত্যন্ত মূল্যবান। সন্তান ভুল করলে বাবা তার সন্তানকে সঠিক পথ দেখান। আসলে পরিবার পরিজন অনেকটাই বড় বৃক্ষের মতো আমাদের ছায়া দান করে। কিন্তু আজ আমরা এমন একজন উদ্যোক্তার কথা বলবো যার পিতৃবিয়োগ হয় মাত্র দুই বছর বয়সে। এরপর তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয় তার পরিবার পরিজনরা। এরপর স্ন্যাকস বিক্রি করা থেকে ২০ লক্ষ টাকা বেতনের চাকরি এবং সেখান থেকে আজ তিনি বার্ষিক ৩ কোটি টাকার ব্যবসা করেন।

আসলে এই গল্প পুনের ইন্দাপুরের এক রাঁধুনির ছেলে প্রবীণ কবিতাকের গল্প। ছোটো থেকেই নিজের ভাগ্যের সাথে লড়াই করতে হয়েছে তাকে। মাত্র দুই বছর বয়সে মারা যান তার বাবা। অনেক কষ্টে তাকে বড় করে তোলেন তার মা। প্রবীণ ও তার দুই বোন ভালো স্কুলে পড়াশোনা করত। তিনি তার মাকে সাহায্য করার জন্য একটি মেশিন কিনেছিলেন তিনি। ভাই-বোনেরা মিলে চালাতেন সেই মেশিন। এরপর অষ্টম শ্রেণীতে প্রেমের চক্করে পড়ে ব্যর্থ হন তিনি। এরপর আবার পড়াশোনায় নিজের মন লাগিয়ে সফলভাবে উত্তীর্ণ হন তিনি দশম শ্রেণীর পরীক্ষায়।

এরপর তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে গিয়ে তারপর ২৫ হাজারের চাকরি পান তিনি। তারপরই মায়ের কষ্ট দূর করার সংকল্প করেন তিনি। তিনি প্রথমে তার মাকে পুনে নিয়ে আসেন।এরপর তিনি চাকরি পরিবর্তন করে অনেক বেশি বেতনের চাকরি পান। ঠিক তারপরই ২০১৫ সালে তিনি যে মেয়েটিকে স্কুলে প্রেমে পড়েছিলেন তাকে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু এইসময় চাকরির করতে করতেই তিনি বিভিন্ন স্টার্টআপ চালু করার চেষ্টা করতেন। তার ৩টি স্টার্টআপ ব্যর্থ হয়।

তার মেয়ের প্রথম জন্মদিনের পর তিনি তার নিজের কোম্পানি শুরু করেন। এরপর পুনে ফিরে ২০ লাখ টাকার চাকরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। এত বড় ঝুঁকি নেওয়া সহজ ছিল না। কিন্তু তিনি কাজ শুরু করেন। প্রবীণের কোম্পানি ডিজিটাল হেলথ এবং মেডিকেল ডিভাইসের মতো বিভিন্ন পণ্য নিয়ে কাজ করছে। তার কোম্পানির বয়স মাত্র ৩ বছর এবং আজ এটি বার্ষিক ৩ কোটি টাকার টার্নওভার করে ফেলেছে।

➦ আপনার জন্য বিশেষ খবর

Back to top button