এক স্বাধীনতা সংগ্রামীর বানানো স্বদেশী কোম্পানি, যা আজ ভারতীয় সেনাকে করে তুলেছে শক্তিশালী

বাস ও বড় ট্রাকের কথা উঠলেই প্রত্যেকের মুখে একটাই নাম আসে ‘অশোক লেল্যান্ড’ (Ashok Leyland)। এই কোম্পানির সাম্রাজ্য যতটা বড়, ঠিক ততটাই আকর্ষণীয় এই কোম্পানির সফর। আজ যদি ভারতীয় রাস্তার দিকে তাকান তাহলে দেখতে পাবেন প্রতি পাঁচটি বড় গাড়ির মধ্যে চারটিই অশোক লেল্যান্ডের। এমনকি ভারতীয় সেনাবাহিনীতেও অশোক লেল্যান্ডের ট্রাক ব্যবহার করা হয়। আর এই কারণেই ভারতের (India) বৃহত্তম গাড়ি প্রস্তুতকারক হিসাবে বিবেচিত হয় অশোক লেল্যান্ড।

তবে জানিয়ে রাখি, এতোকিছু একদিনে হয়নি। আজকের এই জায়গায় পৌঁছাতে একটা দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়েছে এই সংস্থাকে। একটা মোটর ওয়ার্কশপ পরিচালনকারী এক ব্যক্তি শুধুমাত্র নিজের পরিশ্রমের ভিত্তিতে এতো বড়ো সংস্থা তৈরি করেছেন। শুধু তাই নয়, ভারতের প্রথম ট্রাক এবং প্রথম ডাবল ডেকার বাসও এই কোম্পানির কারণে। তাহলে চলুন দেখে নিই একটা ঝলক।

প্রথমেই বলে রাখি, গল্পটি শুধুমাত্র একটা কোম্পানি এবং তার সাফল্যের নয়, একই সাথে এটি একজন স্বাধীনতা সংগ্রামীর গল্প যিনি নিজের ব্যক্তিস্বার্থ দেখেননি বরং দেখেছিলেন দেশের উন্নয়ন। সাল ১৯৪৭, দেশ তখন সর্বশান্ত। দেশের প্রায় সমস্ত ধনসম্পদ তখন ইংরেজদের হাতে। সেইসময় ভারতীয়দের কাছে সবচেয়ে বড়ো চ্যালেঞ্জ ছিলো আর্থিকভাবে শক্তিশালী হওয়া।

সেই মুহূর্তে এই চ্যালেঞ্জকে অ্যাকসেপ্ট করা এবং তাতে সফল হওয়ার একমাত্র উপায় যদি কিছু ছিলো তাহলে তা হলো আধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে নতুন কিছু করা। স্বাধীনতার ঠিক এক বছর পর, অর্থাৎ সাল ১৯৪৮-এ দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পন্ডিত জওহরলাল নেহেরু পাঞ্জাবের একজন স্বাধীনতা সংগ্রামীকে নতুন কোনো শিল্পে ইনভেস্ট করার পরামর্শ দেন। স্বাধীনতা সংগ্রামী তো এই বিষয়ে সবসময় তৈরি। সেইসময় যিনি নেহেরুর দেখানো পথ অনুসরণ করেছিলেন তিনি হলে রঘুনন্দন শরণ।

প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা যখন রয়েছে তখন আর কী চাই? ছেলে অশোকের নামে খুলে ফেললেন নিজের কোম্পানি ‘অশোক মোটরস’। হ্যাঁ, আজকের অশোক লেল্যান্ডের প্রথম নাম ছিলো ‘অশোক মোটরস’। শুরু হয় দেশীয় প্রযুক্তির রমরমা। কোম্পানিটি অস্টিন কোম্পানির A-40 গাড়ি তৈরি করা শুরু করে। ১৯৪৯ সালে মাত্র এক বছরের মধ্যে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি হয় অস্টিন A-40 গাড়িটি।

এরপর রঘুনন্দন শরণ নিজের কোম্পানির টার্ন ওভার বাড়াতে একটি ব্রিটিশ কোম্পানি লেল্যান্ডের সাথে চুক্তি করে। কিন্তু দূর্ভাগ্যবশত, এরপরেই একটি দূর্ঘটনায় মৃত্যু হয় রঘুনন্দন শরণের। তার মৃত্যুর পর কোম্পানির লাগাম চলে যায় মাদ্রাজ রাজ্য সরকার এবং কোম্পানির অন্যান্য শেয়ারহোল্ডারদের হাতে। এবং ১৯৫৪ সালে ইংল্যান্ডের লেল্যান্ড মোটরস আর ভারতের অশোক মোটরস অংশীদারিত্বে  নাম হয় ‘অশোক লেল্যান্ড’।

army truc

তবে এখানেই শেষ নয়, এরপরও বহু কৃতিত্ব রয়েছে এই কোম্পানির। দেশের প্রথম ট্রাক, প্রথম ডাবল-ডেকার বাস নিয়ে আসে এই কোম্পানিই। কোম্পানির সুনাম এবং বিশ্বস্ততা এতোটাই বৃদ্ধি পায় যে, সাল ১৯৭০-এ ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য ১০,০০০ উন্নত প্রযুক্তির ট্রাক তৈরি করার কন্ট্র্যাক্ট দেয় সরকার। এবং গর্বের বিষয় হলো আজও আমাদের সেনাবাহিনীর জন্য যে সমস্ত ট্রাক তৈরি হয় তা এই ‘অশোক লেল্যান্ড’ই করে থাকে।

➦ আপনার জন্য বিশেষ খবর

Back to top button