৩০০ টাকা দিয়ে শুরু করা ব্যবসা, আজ ১ হাজার কোটির কোম্পানি! মানুষের পাশে দাঁড়ানোয় পেয়েছেন পদ্মশ্রী

কঠোর পরিশ্রম আর নিষ্ঠার সাথে যদি কেউ তার লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যায় তাহলে তার উন্নতি কেউ আটকাতে পারবেনা। তখন সফলতা তার হাতের মুঠোয় আস্তে বাধ্য। আজ এই প্রতিবেদনে এমন একজন মহিলার কথা বলবো যিনি শূন্য থেকে নিজের যাত্রা শুরু করেছিলেন এবং আজ তার প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি দেশের হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করে দিয়েছে। চলুন জেনে নিই রজনী বেক্টরের সম্পর্কে কিছু জানা অজানা তথ্য।

রজনী বেক্টর, যার জন্ম পাকিস্তানের করাচিতে। রজনীর বাবা পেশায় একজন সরকারি কর্মচারী ছিলেন। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় রজনীর পুরো পরিবার করাচী ছেড়ে দিল্লিতে এসে বসবাস শুরু করেন। দিল্লিতে আসার পর মাত্র ১৭ বছর বয়সে লুধিয়ানার এক ব্যবসায়ী পরিবারে বিয়ে হয় রজনীর‌। বিয়ের পর স্নাতক সম্পন্ন করেন তিনি। রান্নার প্রতি তার আগ্রহ সেই ছোটোবেলা থেকেই। তাই স্নাতক শেষ করে বেকিং কোর্স করার জন্য পাঞ্জাবের এগ্রিকালচার ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়ে যান‌ তিনি।

প্রসঙ্গত, রান্নার প্রতি তার এতোটাই ঝোঁক ছিলো যে, বাড়িতে কেউ এলেই তাকে নিজের হাতে রান্না করে খাওয়াতেন তিনি। সবার প্রশংসায় দিন দিন তার আত্মবিশ্বাসও বেড়ে যায়। আর তারপরেই নিজের আত্মবিশ্বাস এবং প্রতিভার উপর ভরসা করে মাত্র ৩০০ টাকা লগ্নি করে ১৯৭০ সালে দীপাবলির সময় একটি খাবারের স্টল চালু করেন। শুধু তাই নয়, ধীরে ধীরে তিনি আশেপাশের মেলাতেও নিজের খাবারের স্টল বসাতে থাকেন।

এরপর নিজের ব্যবসাকে আরো একটু বড়ো করার জন্য ১৯৭৮ সালে ২০০০০ টাকা বিনিয়োগ করে লুধিয়ানার জিটি রোডের পুরানো পৈতৃক জমির উপর একটি ফুডিং এবং আইসক্রিম তৈরির ইউনিট প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর থেকে আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। সেখান থেকে শুরু করে বর্তমানে রজনী ফুডস প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির মালিক। বর্তমানে রজনীর ফুড ফ্যাক্টরি সবচেয়ে বড় খাদ্য সরবরাহকারী কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। রজনী বেক্টরের কোম্পানি ‘Cremica’ এইমুহুর্তে সমগ্র উত্তর ভারতের সবচেয়ে বড় বিস্কুট ব্র্যান্ড, এমনকি আজ তার কোম্পানি দেশের গন্ডি পার করে পৌঁছে গেছে বিদেশের মাটিতেও।

এখানেই শেষ নয় ২০২১ সালে পদ্মশ্রী পুরস্কারে ভূষিত করা হয় তাকে যা আমাদের দেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান। জানিয়ে রাখি এই মুহূর্তে তার কোম্পানির বার্ষিক টার্ন ওভার ৭০০ কোটিরও বেশি। রজনীর কথায়, দেশের প্রতিটি মহিলার তাদের দক্ষতা বাড়াতে হবে। সব ক্ষেত্রেই নারীদের এগিয়ে যেতে হবে। রজনী বেক্টরের কাহিনী সত্যিই প্রতিটি মানুষের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক।

➦ আপনার জন্য বিশেষ খবর

Back to top button