টাকা নেই বাসের! সাকিবদের কিট বইছে ‘ভ্যান’! এ কী অবস্থা বাংলাদেশের BPL-এর, ভাইরাল ভিডিও

বাংলাদেশের (Bangladesh) একমাত্র ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (Bangladesh Premier League) এখন আর শীর্ষ লিগে থাকার দৌড়ে নেই। আজ থেকে শুরু হতে চলা BPL সংযুক্ত আরব আমিরশাহি আইএলটি২০, দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ২০, অস্ট্রেলিয়ায় বিবিএল এবং পাকিস্তানে পিএসএল সহ আরও কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের সাথে বিভিন্ন দিক থেকে পিছিয়ে পড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিভিন্ন দেশের কুড়ি বিশের টুর্নামেন্টে টাকার ছড়াছড়ি। ভারত (India) ছাড়াও অন্যান্য দেশে সাধ্য মতো জাঁকজমকের সঙ্গে আয়োজিত হচ্ছে ফ্রাঞ্চাইজি লীগ। বাংলাদেশের টি২০ ক্লাব প্রতিযোগিতা সেখানে প্রদীপের নিচে আঁধারের সমতুল্য। ক্রিকেটারদের কিট ব্যাগ বা লাগেজ নিয়ে যাওয়ার মতো নুন্যতম ভালো ব্যবস্থা নেই। সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরায় ধরা পড়া ছবি অনুযায়ী, ট্রলি ভ্যানে করে ক্রিকেটারদের ব্যাগ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে স্টেডিয়ামে। ট্রলি বা ভ্যান থেকে সেই ব্যাগ ক্রিকেটাররা নিজেরাই নিয়ে যাচ্ছে বয়ে। এখানেই শেষ নয়, টাকা বাঁচানোর জন্য টিম বাসে ব্র্যান্ডিংয়ের ব্যবস্থা করেনি একাধিক ক্লাব কর্তৃপক্ষ। সাধারণ রঙের বাসে করে যাতায়াত করতে হচ্ছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ক্রিকেটারদের।

   

বিপিএলের সবচেয়ে বড় সমস্যা কী?

এক কথায় পেশাদারিত্বের অভাব। কারণ গভর্নিং কাউন্সিল পেশাদার কাঠামো তৈরিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলি বারবার অপেশাদার আচরণের মাধ্যমে বৃদ্ধি ব্যাহত করেছে বলে অভিযোগ। গত এক বছরে গভর্নিং কাউন্সিল বিপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে একবারের জন্যও সমাধানে আসতে পারেনি। যদিও এটি সফল করার জন্য উভয় পক্ষকে একে অপরের পরিপূরক হওয়া দরকার। বিপিএল শুরু হওয়ার পর থেকে এমন কোনো আসর ছিল না যা বিতর্কহী। বিপিএলের গত আসরে বকেয়া পরিশোধ করতে না পারায় ঘরের মাঠে আক্ষরিক অর্থেই তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছিল এক ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিককে।

বিপিএলে এমন ঘটনা এই প্রথম নয়, এর আগেও আর্থিক সমস্যার কারণে বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্যদের বিবাদের ঘটনা ঘটেছে। আশরাফুল ফিক্সিং কাহিনী প্রকাশ্যে আসার পর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে বিতর্ক আরও বড় আকার ধারণ করে। বিপিএলের বর্তমান গভর্নিং কাউন্সিল বিপিএলের দায়িত্ব নেওয়ার আগে দুই মরসুমের জন্য বিপিএল পরিত্যক্ত ছিল। এরপর টুর্নামেন্ট চললেও সেটা কখনই সফল হতে পারেনি। ফ্র্যাঞ্চাইজি এবং বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের মধ্যে আস্থা প্রায় নেই বললেই চলে৷ বেশ কয়েকবার তা প্রকাশ্যে এলেও দূরত্ব কমানোর জন্য কতটা কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সে ব্যাপারে প্রশ্ন থাকছে।

বিপিএল পরিচালনার জন্য বেশ কয়েকটি বিদেশি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি থেকে প্রস্তাব পেলেও বোর্ড টুর্নামেন্টের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাতে না চাওয়ায় তাতে আমল দেওয়া হয়নি। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল এই সত্যটি স্বীকার করে নিয়েছে এবং যোগ করেছে যে তাদের সারোগেট বেটিং সংস্থাগুলিকে আমন্ত্রণ না জানানোর সিদ্ধান্ত দেশের আইনের কারণে।

রাজস্ব ভাগাভাগির মডেলগুলি এমন কিছু যা বিপিএল বর্তমান আর্থিক কাঠামোর সাথে গ্রহণ করতে প্রস্তুত নয়। বেক্সিমকো ঢাকার মতো শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক সংস্থা অতীতে কিছু পা হয়েছে। এই সংস্থা চার মরসুমের জন্য তারকাখচিত ঢাকা ডায়নামাইটসকে সাপোর্ট করেছিল। সামনের দিনগুলোতে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স যদি তাদের পথ অনুসরণ করে তবে এটি বিপিএলের কফিনে শেষ পেরেক হতে পারে।

সম্পর্কিত খবর