অলিম্পিকে দুটি মেডেল জয় করে এনেছিলেন ‘ভারতের মেয়ে”, অভাবে আজ বিক্রি করছেন সিঙ্গারা

রেওয়াঃ সালটা ছিল ২০১৭। রাজ্যসভার অধিবেশেন মাস্টার ব্লাস্টার সচিন তেন্ডুলকর দেশের খেলোয়াড়দের হয়ে আওয়াজ উঠিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে আমাদের দেশের অধিকাংশ খেলোয়াড়ই মারাত্মক আর্থিক সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। আমাদের দেশে প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের অভাব নেই কিন্তু দূর্ভাগ্যজনকভাবে সকলে নিজের ট্যালেন্টের যথাযথ কদর পাননা। অনেকেই হারিয়ে যান স্মৃতির অতলে।

এমনই একজন প্রতিভার নাম সীতা সাহু, মাত্র ১৫ বছর বয়সে এথেন্স স্পেশাল অলিম্পিকে দু-দুটি ব্রোঞ্জ মেডেল পায় সীতা। ২০১১ সালে এথেন্স স্পেশাল অলিম্পিকে সীতা মেডেল জিতেছিল ২০০ মিটার এবং ৪x৪০০ মিটার রিলে রেসে। কিন্তু আজ সেই প্রতিভাময়ী সিঙ্গারা বিক্রি করে দিন জীবিকা নির্বাহ করছেন।

মধ্যপ্রদেশের রেওয়া জেলার বাসিন্দা সীতা সাহু। সীতার বাবা পেশায় ছিলেন একজন ঠিকা শ্রমিক। শৈশব থেকেই থেকেই দ্রুত দৌড়াতেন, তাই তিনি নিজের এই প্রতিভাকে পেশা হিসাবে বেছে নিয়েছিলেন। এমতাবস্থায় ২০১১ সালের এথেন্স অলিম্পিকে অংশ নেন এবং দেশের নাম উজ্জ্বল করে দুটি বোঞ্জ পদক জিতে আনেন। সীতা এবং পরিবারের আশা ছিলো এরপর হয়তো ভাগ্যের চাকা বদলাবে কিন্তু দূর্ভাগ্যজনকভাবে বিধি বাম।

সরকার থেকে সাময়িক কিছু সাহায্য মিললেও বর্তমানে তিনি সকলের স্মৃতির অতলে। ভারতে ফিরে আসার পর, সীতা সাহুকে সম্মানের সঙ্গে অভ্যর্থনা জানানো হয়েছিলো। পদক জেতার পর বেশ কিছু দিন আলোচনায় ছিলেন, কিন্তু তার পর মিডিয়া ও সরকার তার সম্পর্কে সব ভুলে যায়। শুধু তাই নয়, সীতা সাহুকে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের তরফে পুরষ্কার ও চাকরির ঘোষণাও করা হয়েছিল, কিন্তু এ সবই ধূলিঝড় ছাড়া আর কিছুই নয়।

এমতাবস্থায় তার বাবার মৃত্যু আরও বড়ো ঝড় নিয়ে আসে। এমতাবস্থায় দিশেহারা হয়ে পড়ে সীতা। আর্থিক অবস্থাও দিনদিন খারাপ হতে থাকে। এই আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে, সীতা তার খেলাধুলার স্বপ্নকে পিছনে ফেলে তার মা এবং ভাইয়ের সাথে সিঙ্গারা তৈরি করতে শুরু করেন। এখন এটাই তার জীবিকা। দেশকে গর্বিত করা ক্রীড়াবিদ আজ প্রচারের আলোর থেকে বহুদূরে দিন কাটান।

দেশের জন্য পদক জয়ী সীতা সাহুকে আজ সরকার ও মিডিয়া ভুলে গেলেও সীতা সাহু তার কৃতিত্ব ভুলে যাননি, তার মন থেকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতির ক্ষতও মুছে যায়নি। এটা আমাদের দেশের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের দুর্ভাগ্য যে তারা মৌলিক সুযোগ-সুবিধাও পায় না।

➦ আপনার জন্য বিশেষ খবর

Back to top button