গোবর থেকে তৈরি করছেন সিমেন্ট, ইট ও রং, বছরে আয় ৫০ থেকে ৬০ লক্ষ টাকা !

আজকাল মানুষ নিজেদের থাকার জন্য বড় বড় বাড়ি তৈরি করে। তবে কখনো কি শুনেছেন সিমেন্ট ইঁটের পরিবর্তে গোবরের ইঁটের ঘরও বানানো যায়। অবিশ্বাস্য লাগলেও একেই বাস্তবায়িত করে নজির গড়েছেন হরিয়ানার রোহতকে বসবাসকারী অধ্যাপক ডাঃ শিব দর্শন মালিক।হরিয়ানার রোহতক জেলার মদিনা গ্রামের বাসিন্দা তিনি। তিনি এমন একটি বাড়ি বানিয়েছেন যাতে ইঁট সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়নি। শিব দর্শন তার এই বাড়িটি তৈরি করতে ব্যবহার করেছেন, গরু ও ষাঁড়ের গোবর এছাড়া কিছু গাছপালা, মাটি ও চুন‌। কার্যত তার কীর্তি তাক লাগিয়ে দিয়েছে সকলের‌।

প্রসঙ্গত, শিব দর্শন একজন রসায়নে পিএইচডি করেছেন। নিজের পড়াশোনা শেষ করে অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন তিনি। রোহতকের একটি কলেজে লেকচারার হিসাবে কয়েক মাস কাজ করার পর, ডঃ শিবদর্শন মালিক ২০০৪ সালে আইআইটি দিল্লি এবং বিশ্বব্যাংক দ্বারা স্পনসর করা একটি ‘রিনিউয়াল এনার্জি’ প্রকল্পে যোগদান করেন। এবং ২০০৫ সালে তিনি একটি ‘ইউএনডিপি’ প্রকল্পে কাজ করেন। চাকরি ছাড়ার পর গ্রামের মাটির সঙ্গে জুড়ে থাকা শিব দর্শন সিদ্ধান্ত নেন তিনি এমন কিছু করবেন যাতে গ্রামের মানুষের আর্থিকভাবে উন্নয়ন ঘটবে এবং চাকরির জন্য তাদের কোথাও যেতে হবেনা।

এরপরই তিনি এমনসব জিনিসপত্রের কথা ভাবেন যা সহজেই গ্রামে পাওয়া যায়। এই ভাবনা থেকেই শিব দর্শন গোবর থেকে সিমেন্ট ও রং তৈরি করার কথা ভাবলেন। দেশি গরুর গোবরে জিপসাম, গুয়ার গাম, মাটি এবং অন্যান্য বেশকিছু বস্তু মিশিয়ে তৈরি করলেন বৈদিক প্লাস্টার। ডক্টর মালিকের মতে, এই প্লাস্টার সম্পূর্ণ অগ্নি বিরোধী এবং একই সঙ্গে তাপরোধীও বটে। ঘরের তাপমাত্রা বাইরের তাপমাত্রার থেকে ৭ ডিগ্রি কম থাকে, যা এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। তিনি প্রথমে নিজে এই বৈদিক প্লাস্টার ব্যবহার করেন তারপরই গ্রামের মানুষকে ব্যবহার করতে দেন। শুধু তাই নয় সাধারণ মানুষকে এই কাজের প্রশিক্ষণ দেওয়াও শুরু করেছেন তিনি। বর্তমানে শুধু নিজের রাজ্যেই নয়, বিহার, ঝাড়খণ্ড, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, হিমাচল সহ দেশের অনেক রাজ্যেও তার এই পণ্য ব্যবহার করা হচ্ছে।

শিব দর্শনের কথায়, ‘দিল্লিতে বসে কেউ যদি আমার কাছ থেকে গাউক্রেতে বা বৈদিক প্লাস্টার নেয়, তাহলে এখান থেকে পাঠাতে অনেক টাকা খরচ হবে। পরিবহনে ডিজেল ও পেট্রোলও খরচ হবে। তাই আমি মানুষকে এটি তৈরি করতেও প্রশিক্ষণ দিই।’ তিনি জানিয়েছেন ১ বর্গফুট এলাকায় এই প্লাস্টার করার জন্য খরচ পড়ে মাত্র ২০ থেকে ২২ টাকা। তিনি জানান, এই কাজ থেকে তিনি বছরে ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা আয় করেন।

শিব দর্শন এই পণ্য থেকে শুধু নিজেই উপার্জনই করছেননা, অন্যদের কর্মসংস্থানের পথও খুলে দিচ্ছেন। বর্তমানে শত শত মানুষ গোবর থেকে ইঁট তৈরির কাজ করছে এবং তা থেকে লাভও করছে। সেই সঙ্গে গ্রামের ওইসব দরিদ্র কৃষকরা যারা গরু পালন করেন, তাদের জন্যেও উপার্জনের একটি রাস্তা খুলে গেছে।

➦ আপনার জন্য বিশেষ খবর

Back to top button