রোজ ৩০ কিমি যেতে হত পড়তে, ৪০ লাখের চাকরি ছেড়ে আজ ১০০ কোটির ব্যবসা দাঁড় করিয়েছেন এই মহিলা

মানুষ অনেক সময় এমন বহু সিদ্ধান্ত নেয় যা সাধারণ মানুষের বোঝার অতীত। অনেকেই তখন সেইসমস্ত ব্যাপারকে পাগলামির সাথে তুলনা করে। কিন্তু পরবর্তীকালে সেই সিদ্ধান্তের ফলেই যখন মানুষ সাফল্যের দোরগোড়ায় পৌঁছায় তখন এই সিদ্ধান্তেরই আবার প্রশংসা হয়। বর্তমান দিনে আমরা সুখ আর স্বাচ্ছন্দ্যকে এক করে দিয়েছি। আমাদের ভাবনায় আসে লাখ টাকার প্যাকেজ মানেই জীবনের সমস্ত সফলতা আমাদের হাতের মুঠোয়।

কিন্তু এর মধ্যেও কিছু মানুষ থাকেন সারা লাখ টাকার প্যাকেজ ছেড়ে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি দিয়ে নিজের ব্যাবসা খোলেন। খুব কম মানুষই আছেন যারা এই এত বড় চাকরি ছেড়ে দিয়ে নিজের কিছু করে দেখানোর সাহস রাখে। তেমনই একজন হলেন শৈলী গর্গ। আজকের প্রতিবেদনে আমরা তার কথায় বলতে চলেছি।

শৈলী গর্গ দশ বিশ নয় একেবারে ৪০ লক্ষ টাকার বার্ষিক প্যাকেজের চাকরি ছেড়ে নিজের স্টার্টআপ শুরু করেন। সেই সময় তার এই সিদ্ধান্তে অনেকেই আপত্তি করলেও আজ যখন তিনি ফোর্বস এশিয়ার সেরা-৩০ সফল ব্যক্তির তালিকায় স্থান পেয়েছেন, তখন সবাই তার সেইদিনের সিদ্ধান্তের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। মাত্র দুই বছরে ১০০ কোটি টাকার একটি কোম্পানি তৈরি করেছেন শৈলী।

শৈলীর জন্ম রাজস্থানের আজমীর জেলার নাসিরাবাদ শহরের। তার বাবা মুকেশ গর্গ নাসিরাবাদ SBI ব্যাঙ্কের একজন অফিসার এবং তার মা মধু গর্গ, নাসিরাবাদের গভর্নমেন্ট গার্লস স্কুলের লেকচারার। এছাড়া তার ভাই অভিনব গর্গ দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং কোম্পানিতে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারের কাজ করেন এবং শৈলির স্বামী অভিষেক আগরওয়াল ক্যালিফোর্নিয়ার ফেসবুকে কর্মরত একজন ইঞ্জিনিয়ার।

শৈলীর মা তাকে চেয়েছিলেন তিনি যাতে ডাক্তার হতে পারেন, কিন্তু ইঞ্জিনিয়ারিং কেই নিজের ভবিষ্যত বলে বেছে নিয়েছিলেন তিনি। প্রাথমিক পড়াশোনা করেছেন নিজের শহর নাসিরাবাদেই। পরে তিনি আজমিরের সেন্ট মেরি কনভেন্ট স্কুলে পড়াশুনা শুরু করেন। এখানে তিনি ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। যদিও এই স্কুলে পড়ার জন্য শৈলীকে প্রতিদিন নাসিরাবাদ থেকে ৩০ কিমি দূরে আজমির যেতে হতো এবং ২০১৫ সালে তিনি মুম্বাই থেকে সিভিল ইন্জিনিয়ারিং শাখায় আইআইটি পরীক্ষাতে পাস করেন।

পড়াশোনা শেষ তিনি মুম্বাই, চণ্ডীগড় এবং পরে গুরগাঁওয়ে চাকরি করেন। ২০২০ সালের মার্চ মাসে তিনি চাকরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এইসময় তার বার্ষিক প্যাকেজ ছিল ৪০ লাখ টাকা। নিজের স্টার্টআপ শুরু করতেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। এরপর ২০২০ সালের নভেম্বরে বিয়ে করেন অভিষেক আগরওয়ালের সাথে এবং বিয়ের পর তারা পাড়ি দেন সুদূর ক্যালিফোর্নিয়ায়।

দাম্পত্য জীবন শুরু করলেও শৈলী তার কাজ থেকে মনোযোগ তোলেননি। এবং তার কঠোর পরিশ্রমের ফলে মাত্র দুই বছরে তার কোম্পানির টার্নওভার পৌঁছে যায় ১০০ কোটিতে। কিন্তু জানেন কী আজ তিনি বড় ব্যবসায়ী হয়ে গেলেও একসময় তিনি আইএএস অফিসার হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

30 may 13 1653924249 629730a6c12db

তার মায়ের মতে, চাকরি ছাড়ার পর শৈলী আইএএস হওয়ার চিন্তায় কোচিংয়ে যোগ দেন এবং বইও কিনে নেন। কিন্তু এই চিন্তা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি আর এরপরই নিজের ব্যবসায়িক আইডিয়া নিয়ে কাজ শুরু করে আজ শৈলী গর্গকে ভারতের সবচেয়ে সফল মহিলাদের মধ্যেই ধরা হয়।

➦ আপনার জন্য বিশেষ খবর

Back to top button