পোষাক দেখে ভেবেছিল গ্রামের মহিলা! কিন্তু তিনি যে IPS অফিসার, তা ঘুণাক্ষরে টের পায়নি কেউ

আইপিএস অফিসার সরোজ কুমারীর বাড়িতে বেশ উৎসবের আমেজ। একসঙ্গে দুটি যমজ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন তিনি। তার কোল জুড়ে এসেছে এক ছেলে ও এক মেয়ে। গুজরাটের এই আইপিএস অফিসার নিজেই তার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে ভাগ করে নিয়েছেন এই সুখবর।

তিনি তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে নবজাতকদের ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, “ঈশ্বর আমায় আশীর্বাদ স্বরূপ পুত্র ও কন্যাসন্তান পাঠিয়েছেন।” সরোজ কুমারির শেয়ার করা এই পোস্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় আসা মাত্রই ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়ে গেছে। আপাতত শুভেচ্ছা বার্তায় ভাসছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, সরোজ কুমারী জন্ম রাজস্থানের ঝুনঝুনু জেলার চিরাওয়া মহকুমার বুদানিয়া গ্রামে বনোয়ারি লাল মেঘওয়াল এবং সেবা দেবীর ঘরে জন্ম। তিনি বর্তমানে সুরাটের ডিসিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ইতিপূর্বে তিনি দায়িত্বভার সামলেছেন বোটাদ জেলার এসপি রূপে। প্রায়শই ইউনিফর্ম পরিহিত রূপে দেখতে পাওয়া যায় তাকে। আইপিএসের চেয়ারে বসার পরও নিজের গ্রামের সংস্কৃতি ঐতিহ্যকে ভুলে যাননি তিনি। নিজের ঐতিহ্য মেনে এইদিন তিনি গ্রামীণ লেহেঙ্গা চুনরীতে হাজির হন সকলের সামনে।

সরোজ কুমারীর স্বামী মণীশ সাইনি পেশায় একজন সুপরিচিত ডাক্তার। ২০১৯ সালের জুন মাসে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হন তারা। এইদিন ডাঃ মণীশ সাইনিও নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে নবজাতক শিশুদের ছবি শেয়ার করেছেন।

আইপিএস সরোজ কুমারী নিজের পড়াশোনা একটি সরকারি স্কুল থেকেই সম্পন্ন করেছেন। তার জীবন সংগ্রাম সেই সমস্ত লোকদের জন্য একটি উদাহরণ যারা ভাবেন যে সরকারী স্কুলে পড়ে কিছুই করা যায় না। তিনি বুদনিয়া গ্রামের একটি সরকারি স্কুল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেছেন। তিনি ২০১১ ব্যাচের একজন আইপিএস অফিসার। এর সাথে, তিনিই একমাত্র আইপিএস অফিসার, যিনি মাউন্ট এভারেস্ট জয় করে এসেছেন।

আপনিও জেনে গর্বিত হবেন, সরোজ কুমারীকে কোভিড-১৯ এর সময় “মহিলা যোদ্ধা” সম্মানে সম্মানিত করা হয়েছে। লকডাউন চলাকালীন অভাবী মানুষদের খাবার সরবরাহ করার জন্য তিনি মহিলা পুলিশ সদস্যদের সাথে একটি রান্নাঘর খুলেছিলেন। এই সময়ে, তার টিম প্রতিদিন ছয় শতাধিক মানুষের কাছে খাবার পৌঁছে দেওয়ার কাজ করতেন। আইপিএস সরোজ কুমারী শুধু দেশের মহিলাদের নয় সমস্ত মানুষের কাছে অনুপ্রেরণা।

➦ আপনার জন্য বিশেষ খবর

Back to top button