ভারতীয় নন! ট্রেকারের হেল্পার থেকে ‘সন্দেশখালির বাঘ’, শেখ শাহজাহানের অতীত চমকে দেবে

এখন সকলের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে সন্দেশখালির (Sandeshkhali) তৃণমূল (All India trinamool congress) নেতা শেখ শাহজাহান (Sheikh Shahjahan)। অবশেষে প্রায় ৫৬ দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর গ্রেফতার করা হয়েছে সন্দেশখালির ‘বাঘ’ হিসেবে খ্যাত এই শেখ শাহজাহান। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন যে এই শেখ শাহজাহান আসলে কে? কী তাঁর পরিচয়? তাঁর উত্থান কীভাবে ঘটল? তাহলে বিস্তারিত জানতে ঝটপট পড়ে ফেলুন আজকের এই প্রতিবেদনটি।

সন্দেশখালির অনেক মহিলা শাহজাহান শেখ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ‘জমি দখল ও যৌন নিপীড়নের’ অভিযোগ এনেছেন। কলকাতা থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে সুন্দরবন (Sundarbans) সীমান্তে অবস্থিত সন্দেশখালি এলাকাটি স্থানীয় তৃণমূল নেতা শাহজাহান শেখ এবং তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি এবং জমি দখলের অভিযোগের কারণে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে। যদিও এবার কিছুটা যেন শাহজাহান মুক্ত হল সন্দেশখালি। যাইহোক, উত্তর চব্বিশ পরগনার (North 24 Pargana) সন্দেশখালি থেকে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার মালঞ্চ পর্যন্ত বিস্তৃত বিভিন্ন ব্যবসায়িক স্বার্থের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব শেখ শাহজাহান তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসাবে আবির্ভূত হন।

   

তিনি আগে নাকি ট্রেকার চালক ছিল। জানা যায়, ১৯৯৯ সালে ট্রেকার চালক এবং সবজি বিক্রেতা থেকে একজন রাজনৈতিক নেতা হিসাবে তাঁর উত্থান ঘটে। কাকা মোসলেম শেখের পদাঙ্ক অনুসরণ করে ২০০৩ সালে রাজনীতিতে আসেন শাহজাহান। তাঁর কাকা সিপিএমের টিকিটে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন এবং পঞ্চায়েত প্রধান হয়েছিলেন। ধীরে ধীরে শাহজাহান উত্তর চব্বিশ পরগনায় প্রভাব বিস্তার করেন এবং এই অঞ্চলে একজন সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠেন। ২০০৯ সাল থেকে বামেদের টানা নির্বাচনে পরাজয় সত্ত্বেও, শাহজাহান এবং তাঁর কাকা উত্তর চব্বিশ পরগনায় তাদের অংশে অফিস অব্যাহত রেখেছিলেন। এ সময় শাহজাহান তার সিন্ডিকেটে অসংখ্য যুবককে চাকরি দিয়ে গ্রামবাসীর মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। পরে তিনি তৃণমূলে চলে যান।

sheikh shahjahan (1)

জানা যায়, শেখ শাহজাহান নাকি আনুষ্ঠানিক ভাবে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন ২০১৬ সালে। জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকই নাকি দলে এনেছিল তাঁকে। শোনা যায়, ২০১৯ সালের লোকসভ ভোটে সন্দেশখালি থেকে নুসরতকে ‘লিড’ পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা ছিল এই শাহজাহানের।

কয়েকদিন আগে অবধি তিনি উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলা পরিষদের মৎস্য ও পশুপালন বিভাগের কর্মাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পাশাপাশি সন্ধেশখালিতে তৃণমূলের ব্লক সভাপতির পদেও বহাল ছিলেন তিনি। শাহজাহান গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন এবং ২০২১ সালের সন্দেশখালির নির্বাচনে দলের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এও জানা যায় যে, শাহজাহান নাকি আদতে ভারতীয় নন। তিনি অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হয়ে এই দেশে ঢুকেছিলেন। অভিযোগ যে, তিনি বাংলাদেশ থেকে এই দেশে প্রবেশ করেছেন।

বিগত ৭ বছর ধরে সাংবাদিকতার পেশার সঙ্গে যুক্ত। ডিজিটাল মিডিয়ায় সাবলীল। লেখার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার নেশা।

সম্পর্কিত খবর