UPSC-তে ৫ বার ফেল, ষষ্ঠবারে আসে সফলতা! IAS প্রিয়াঙ্কার কাহিনী হার মানাবে সিনেমাকেও

জীবনে চলার ক্ষেত্রে মানুষকে নানারকম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন। কেউ কেউ আছেন যারা একের পর এক চ্যালেঞ্জের একদম মুখোমুখি হয়ে হার না মেনে লড়াই করে যান। আবার কেউ কেউ এমনও রয়েছেন যারা কঠিন পরিস্থিতির কাছে হার মেনে যান।

কিন্তু প্রিয়াঙ্কা গোয়েলের (Priyanka Goel) হার না মানা লড়াইয়ের গল্প শোনেন তাহলে আপনিও অবাক হয়ে যাবেন। ভাববেন এও সম্ভব? দিল্লিতে বসবাসকারী প্রিয়াঙ্কার জন্য ইউপিএসসির (Union Public Service Commission) যাত্রা কিন্তু মোটেই সহজ ছিল না। দীর্ঘদিন ধরে চলে তার আইএএস (Indian Administrative Services) অফিসার হয়ে ওঠার লড়াই। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে তিনি হাল ছেড়ে না দিয়ে তার লক্ষ্যের প্রতি দৃঢ় ছিলেন। তিনি তার স্বপ্ন সম্পর্কে প্রথম থেকেই খুব স্পষ্ট ছিলেন।

   

upsc

প্রিয়াঙ্কা পিতামপুরায় অবস্থিত মহারাজা অগ্রসেন মডেল স্কুল থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। এরপর তিনি কেশব কলেজ, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় (দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ) থেকে বাণিজ্যে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর স্নাতক শেষ করার পর থেকে তিনি সরকারি চাকরির জন্য ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন।

UPSC পরীক্ষায় বসা এবং একবারের প্রচেষ্টাতেই পাশ করা কিন্তু মোটেই মুখের কথা নয়। এই ইউপিএসসি পরীক্ষাকে ভারতের সবথেকে কঠিন পরীক্ষা হিসেবে ধরা হয়। প্রিয়াঙ্কা গোয়েল ইউপিএসসি পরীক্ষার জন্য মোট ৬ বার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি যদি ইউপিএসসি সিএসই ২০২২-এ ব্যর্থ হতেন, তবে তাঁর সরকারি কর্মকর্তা হওয়ার স্বপ্ন অসম্পূর্ণ থেকে যেত। প্রিয়াঙ্কা গোয়েলের ঐচ্ছিক বিষয় ছিল পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। এতে তিনি পেয়েছেন ২৯২ নম্বর। একটি সাক্ষাৎকারে প্রিয়াঙ্কা বলেছিলেন যে ইউপিএসসি পরীক্ষার তার যাত্রাটি খুব কঠিন ছিল। তিনি জানতেন না যে তিনি কখনও সফল হবেন কিনা।

ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রথম প্রচেষ্টার সময় প্রিয়াঙ্কা গোয়েলের সিলেবাস সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান ছিল না। এতে তিনি প্রিলিমিনারি পরীক্ষায়ও উত্তীর্ণ হতে পারেননি। দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় তিনি ০.৭ নম্বর পেয়ে কাট-অফ তালিকা থেকে বাদ পড়েন। তৃতীয় প্রচেষ্টায় তিনি ইউপিএসসি মেইন পরীক্ষায় ফেল করেন। চতুর্থ টিতে তিনি সিএসএটি-তে পিছিয়ে পড়েন। পঞ্চমবার পরীক্ষায় বসার সময়ে প্রিয়াঙ্কার মায়ের ফুসফুসে সমস্যা ধরা পড়ে। চিকিৎসকরা বলেন কোভিড-১৯-এর কারণে তাঁর মায়ের ফুসফুসের ৮০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

upsc 2

সেইসময় প্রিয়াঙ্কা গোয়েল স্বাভাবিকভাবেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। ফলে এর প্রভাব তার ইউপিএসসি পরীক্ষার পঞ্চম প্রচেষ্টায় পরে। এই চেষ্টাতেও তিনি প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি। তবে তিনি হার না মেনে ফের একবার পরীক্ষায় বসার সিদ্ধান্ত নেন। অবশেষে, তাঁর কঠোর পরিশ্রমের ফল পাওয়া যায় এবং প্রিয়াঙ্কা ২০২২ সালের ইউপিএসসি পরীক্ষায় ৩৬৯ তম স্থান অর্জন করেন।

বিগত ৭ বছর ধরে সাংবাদিকতার পেশার সঙ্গে যুক্ত। ডিজিটাল মিডিয়ায় সাবলীল। লেখার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার নেশা।

সম্পর্কিত খবর