গোটা এশিয়াতে নেই! ডুয়ার্সকে বড় উপহার টাটা গ্রুপের, উত্তরবঙ্গের মুকুটে জুড়ল নয়া পালক

পর্যটকদের অন্যতম পছন্দের ডেস্টিনেশন ডুয়ার্সের (Dooars) মুকুটে নয়া পালক জুড়ল। এই ডুয়ার্সে সারাবছরই পর্যটকদের ভিড় চোখে পড়ার মতো। আপনিও কি এই শীতে ডুয়ার্স ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান করছেন? বা আপনিও কি ডুয়ার্সের বাসিন্দা? তাহলে আপনার জন্য রইল এক বাম্পার সুখবর। এই ডুয়ার্সের মধ্যে বেশ কিছু আকর্ষণীয় জিনিস আছে যা পর্যটকদের আকর্ষণ করে। যার মধ্যে অন্যতম হল চা বাগান (Tea Garden) থেকে শুরু করে জঙ্গল সাফারি (Jungle Safari)। তবে আজ এই প্রতিবেদনটি পড়ে তাঁরা খুশু, যারা চা বাগানের শ্রমিক।

আসলে দীর্ঘদিন ধরে ডুয়ার্সের  চা বাগানে বিদ্যুৎ (Electricity) খরচ কমানোর উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ডুয়ার্সের চাংমারি চা বাগানের বিদ্যুৎ খরচ কমাতে সৌরশক্তি (Solar Power) ব্যবহার করা হচ্ছে। এবার এর জন্য সোলার প্যানেল (Solar Panel) বসানো হয়েছে। সৌরশক্তির সাহায্যে কারখানার ওয়ার্ক ও শ্রমিকদের কোয়ার্টারে পৌঁছে যাবে বৈদ্যুতিক আলো। সব কাজ হবে সৌরশক্তির মাধ্যমে। উত্তরবঙ্গের (North Bengal) বৃহত্তম চা বাগান চাংমারি এই কাজ শুরু করেছে।

   

ধারণা করা হয়, এশিয়ায় (Asia) প্রথমবারের মতো কোনো চা বাগানের ইতিহাসে বৃহৎ পরিসরে এই সোলার প্যানেল লাগানোর মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন দৈনিক সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। এই বিদ্যুৎ প্রথমে কারখানায় যায়। সেখান থেকে তা বাগানের অন্যান্য অংশে সরবরাহ করা হয়। এই ব্যবস্থাটি কেবল পরিবেশ বান্ধব নয়, বর্তমান হারে এটি প্ল্যান্টেশন কর্তৃপক্ষের বার্ষিক ৮০ লক্ষ থেকে ৯০ লক্ষ টাকা সাশ্রয় করবে।

চাংমারির ম্যানেজার গজেন্দ্র সিসোদিয়া বলেন, ‘আমরা এখানে যে সোলার পাওয়ার জেনারেশন প্যানেল বসিয়েছি তা বাই-ফেসিয়াল। অর্থাৎ, প্যানেলের যে অংশটি সূর্যের দিকে বা নিচের অংশটি রয়েছে, তা উভয় পক্ষের বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম। দেশের কোনো চা শিল্পে প্রথমবারের মতো এমন আয়োজন করা হয়েছে। বাগান সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, প্রকল্পটি শুরু করতে যে অর্থ ব্যয় হয়েছে তা আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আসবে। যা সাশ্রয় হবে তা বৃক্ষরোপণ উন্নয়ন ও শ্রমকল্যাণ খাতে ব্যয় করা হবে।“

dooars

চাংমারিতে কারখানা থেকে কিছুটা দূরে ১ হেক্টর জমিতে মোট ৪৯০টি সোলার প্যানেল বসানো হয়েছে। দৈনিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১০৪০ কিলোওয়াট। বর্তমানে ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে সব বাগানে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে চাংমারি কারখানাটি চালু নেই। তবে ১৫টি পাম্পের সাহায্যে ওই সৌরশক্তির মাধ্যমে পুরো বাগানে সেচ দেওয়া হচ্ছে। আর এই প্রকল্পটি রূপায়ণ করেছে টাটা গোষ্ঠী (Tata Group)। প্রকল্পটির মোট নির্মাণে ব্যয় হবে ৪.২৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ আগামী ৫ থেকে সাড়ে ৫ বছর পর যে পরিমাণ বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে তা কার্যত বিনামূল্যে পাওয়া যাবে।

বিগত ৭ বছর ধরে সাংবাদিকতার পেশার সঙ্গে যুক্ত। ডিজিটাল মিডিয়ায় সাবলীল। লেখার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার নেশা।

সম্পর্কিত খবর