দুইয়ের বেশি সন্তান থাকলে আর মিলবে না চাকরি! রাজ্যের নিয়মে সিলমোহর সুপ্রিম কোর্টের

২টোর বেশি বাচ্চা হলে সরকারি চাকরি (Government Job) পাওয়ার স্বপ্ন ছেড়ে দিতে হবে। কার্যত সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court Of India) এমনই রায় শুনে সকলের চোখ এক কথায় ছানাবড়া হয়ে গিয়েছে।

দুটির বেশি সন্তান থাকলে সরকারি চাকরি (Job) পাবেন না, রাজস্থানের (Rajasthan) এই নিয়মে এবার অনুমোদন দিল দেশের শীর্ষ আদালত। এই জাতীয় নিয়ম ইতিমধ্যে রাজস্থানের পঞ্চায়েত নির্বাচনের জন্য প্রযোজ্য করা হয়েছে। দুইয়ের বেশি সন্তান থাকলে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা যায় না। দুই সন্তান নিয়ে এই নীতি এখন থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়ে ২১ বছর আগেই রাজস্থানে এই নীতি চালু হয়েছে। এখন এই শর্ত থাকবে সরকারি চাকরিতে সিলেকশন সংক্রান্তে।

   

যারা সরকারি চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং তাদের যদি দুইয়ের বেশি সন্তান থাকে তাহলে এটা তাদের জন্য বড় ধাক্কা সেটা বলাই বাহুল্য। বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি কে ভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ প্রাক্তন সেনাকর্মী রামলাল জাটের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। প্রাক্তন সেনাকর্মী রামলাল জাট ২০১৭ সালে অবসর নেন। এরপর ২০১৮ সালের ২৫ মে রাজস্থান পুলিশে কনস্টেবল পদে আবেদন করেন। তবে রাজস্থান পুলিশ সাবঅর্ডিনেট সার্ভিসেস রুলস, ১৯৮৯-এর রুল ২৪(৪) এর অধীনে প্রাক্তন সেনাকর্মী রাম লাল জাটের দায়ের করা আবেদন খারিজ হয়ে যায়।

রাজস্থান বিভিন্ন পরিষেবা (সংশোধনী) বিধি, ২০০১-র অধীনে একটি বিধান রয়েছে যে ১ জুন, ২০০২ থেকে দুটির বেশি সন্তান থাকলে কেউ সরকারি চাকরি পাবেন না। তারা সরকারি চাকরির জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না। প্রাক্তন সেনাকর্মী রামলাল জাটের দুইয়ের বেশি সন্তান রয়েছে। এ কারণে তার সরকারি চাকরির প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। প্রাক্তন সেনাকর্মী রামলাল জাট এই বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে রাজস্থান হাইকোর্টে গিয়েছিলেন। ২০২২ সালের অক্টোবরে এই বিষয়ে রায় দেওয়ার সময়, রাজস্থান হাইকোর্ট এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করেছিল।

supreme court

বিচারপতি সূর্যকান্তের বেঞ্চ জানিয়েছে, পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রার্থীদের যোগ্যতা নিয়ে একই বিধান রয়েছে। ২০০৩ সালে জাভেদ বনাম রাজস্থান সরকার মামলায় সুপ্রিম কোর্ট তা বহাল রাখে। এর আওতায় দুইয়ের বেশি সন্তান থাকলে প্রার্থীরা অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। এই বিধানের উদ্দেশ্য পরিবার পরিকল্পনার প্রচার করা। প্রাক্তন সেনাকর্মীর আবেদনের বিষয়ে হাইকোর্টের রায়ে হস্তক্ষেপ করতে নারাজ বেঞ্চ।

 

বিগত ৭ বছর ধরে সাংবাদিকতার পেশার সঙ্গে যুক্ত। ডিজিটাল মিডিয়ায় সাবলীল। লেখার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার নেশা।

সম্পর্কিত খবর