মা বিড়ি শ্রমিক, বাবা রাজমিস্ত্রী! ছেলে যাচ্ছে DRDO-তে, পাঁশকুড়ার সুদীপের সাফল্যে গর্বিত সবাই

একেই হয়তো বলে স্বপ্নপূরণ। যদি কিছু করার তাগিদ কারোর থাকে তাহলে সে যে কোনো উপায়ে সেই কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করে। কোনো কিছুই যে করা জীবনে অসম্ভব না তা ফের একবার প্রমাণ করলেন পেশায় রাজমিস্ত্রীর (Mason) ছেলে। কঠোর পরিশ্রম করে যুবক এখন ডিআরডিওতে (Defence Research and Development Organisation) চাকরি পেয়েছে যুবক। আর ঘটনায় গর্বে বুক ফুলে উঠেছে পাঁশকুড়াবাসীর (Panskura)।

অভাব ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী। সুদীপের বাবা পেশায় একজন রাজমিস্ত্রী, অন্যদিকে মা একজন বিড়ি শ্রমিক। অভাব যেন পিছুই ছাড়ে না। তবে এই দারিদ্র্যতা সত্ত্বেও নিজেকে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হলেন না সুদীপ মাইতি (Sudip Maity)। কঠোর পরিশ্রম ও কিছু করে দেখানোর তাগিদে ময়দানে নেমে নিজেকে প্রমাণ করেছেন সুদীপ। আজ নিজের চেষ্টায় তিনি DRDO দেরাদুন থেকে জুনিয়র রিসার্চ ফেলোশিপের জন্য ডাক পেলেন।

   

এদিকে সুদীপের এহেন সাফল্যে গর্বে বুক ফুলে উঠেছে সকলের। জানা গিয়েছে, পাঁশকুড়া ব্লকের পুরুষোত্তমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত মহাম্মদ মুরাদ মাইতি পাড়া এলাকার বাসিন্দা সুদীপ। বৃদ্ধ বাবা গোবিন্দ মাইতি পেশায় রাজমিস্ত্রি। অভাবের সংসার চালাতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খেতে হত মাইতি পরিবারকে। যদিও ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা থেকে শুরু করে স্বপ্ন পূরণের জন্য কোনোরকম খামতি রাখেননি গোবিন্দ ও নীলিমা মাইতি।

জানা যায়, চক দুর্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গ্রামের স্কুলেই সুদীপের হাতেখড়ি। তবে ছোট থেকেই পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন তিনি বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। বিজ্ঞান বিভাগে পূর্ব চিলকা লালচাঁদ হাই স্কুল থেকে উচ্চমাধ্যমিকে ৭০ শতাংশ নম্বর নিয়ে পাশের পর শিয়ালদার পলিটেকনিক কলেজ থেকে ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা। এরপর কলকাতার একটি বেসরকারি কলেজ থেকে বি-টেক। বর্তমানে আইআইটি গুয়াহাটিতে এম-টেক পাঠরত। ডিআরডিও-তে যোগ দেওয়া তাঁর স্বপ্ন ছিল। এ আর সেই স্বপ্নই কিন্তু তাঁর সফল হল। ডিআরডিও-তে যোগদান করা।

এদিকে ত্রিপল ঘেরা বাড়িতে থেকেই বড় চাকরি করার স্বপ্ন দেখতেন সুদীপ। আর সেই স্বপ্ন এবার পূরণ হল তাঁর। ডিআরডিও দেরাদুনের মতো জায়গা থেকে জুনিয়র রিসার্চ ফেলোশিপের জন্য ডাক পেয়েছেন সুদীপ। এদিকে সুদীপের এহেন সাফল্যের কারণে খুশির হাওয়া বইছে মাইতি পরিবারে।

বিগত ৭ বছর ধরে সাংবাদিকতার পেশার সঙ্গে যুক্ত। ডিজিটাল মিডিয়ায় সাবলীল। লেখার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার নেশা।

সম্পর্কিত খবর