টাকার অভাবে হয়নি পড়াশোনা! আজ ৬০০ মহিলাকে আর্থিক সাবলীল করেছেন কালনার মঞ্জু

ভালো পড়াশোনা করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে এবং ভালো টাকা উপার্জন করতে ইচ্ছা করে না থাকে। কিন্তু ইচ্ছা থাকলেই যে সব কিছু পাওয়া যায় না সেটা অনেকেই হারে হারে টের পান জীবনে। অনেক সময়ে কোনো কিছু করে দেখানোর ইচ্ছা থাকলেও সবসময় ইচ্ছাপূরণ করা যায় না।

ছোটবেলা থেকে কষ্টে যারা দিন কাটিয়েছেন তাঁরাই বোঝেন টাকার আসল মূল্য। ঠিক যেমনটা বুঝেছেন পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনা পৌরসভার অন্তর্গত বারুইপাড়ার নিবাসী মঞ্জু পাল। পড়াশোনা করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন, কিন্তু টাকার অভাবে বেশি দূর পড়াতে পারেননি বাবা। এই ক্ষত নিয়েই কাটিয়েছেন সময়। পরিবারে আর্থিক স্বচ্ছলতাও খুব একটা ছিল না। কিন্তু এখন এই মঞ্জু পালই অনেকের ভরসার অন্যতম বড় উৎস হয়ে উঠেছেন। নিজে তো স্বনির্ভর হয়েইছেন, তার পাশাপাশি আরো অন্যান্য মহিলাকেও নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দিচ্ছেন ৬৫-র বৃদ্ধা।

   

বিয়ে, দু হাতে সংসার সামলেও নিজের জন্যে যে কিছু করা যায় তা করে দেখিয়েছেন এই মঞ্জু পাল।
তিনি নিজের নিপুণ হাতের তৈরি ঠাকুরের মালা, ঠাকুরের চাঁদ মালা, বিবাহের টোপর, বিভিন্ন সাজ বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। সবথেকে বড় কথা, এই কাজে তিনি পাশে পেয়েছেন আরো ৬০০ জন মহিলাকে।

মঞ্জু পাল কাজ দিচ্ছে ৬০০ মহিলাকে

শুধু কি পাশেই পেয়েছেন, বরং এই ৬০০ মহিলাকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করছেন মঞ্জু পাল। পয়সাও আসছে ভালো। এককথায় তাঁর ব্যবসা একদম রমরমিয়ে চলছে। বাংলাদেশের রাজশাহী জেলা থেকে ১৯৭১ সালে প্রতিমা শিল্পী স্বামী গোবিন্দ পালের হাত ধরে এপার বাংলায় আসেন মঞ্জু। নানা জায়গা ঘুরে ১৯৭৪ সালে তাঁরা পৌঁছন কালনা শহরে। প্রথমে একটি ভাড়া বাড়িতে ঠাকুর তৈরি করে সংসার চালাতেন পাল দম্পতি।

ধীরে ধীরে শোলা দিয়ে প্রতিমার ডাকের সাজ তৈরি শুরু করেন তাঁরা। তবে শোলার জোগান কমে আসায় ১৪ বছর আগে নিজের চেষ্টায় মঞ্জু চাঁদমালা এবং মালা তৈরি শুরু করেন। ব্যস এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি মঞ্জু পালকে।

বিগত ৭ বছর ধরে সাংবাদিকতার পেশার সঙ্গে যুক্ত। ডিজিটাল মিডিয়ায় সাবলীল। লেখার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার নেশা।

সম্পর্কিত খবর