বুদ্ধদেব-মমতার দেহরক্ষী, প্রেমিকার কথায় ছাড়েন চাকরি! পার্থর কাহিনী হার মানাবে সিনেমাকেও

প্রেমের (Love) জন্য মানুষ কত কিছুই না করেছেন, যার নজির আমরা কয়েক শতক ধরে দেখে আসছি। লয়লা মজনু থেকে শুরু করে হির রাঞ্জা, প্রেমের জন্য নিজেদের জীবন অবধি বিলিয়ে দিয়েছেন, এরও নজির দেখা গিয়েছে। তবে বাংলার একজন ব্যক্তি এমন এক কাজ করেছেন যে ব্যাপারে শুনলে আপনারও চোখ একপ্রকার কপালে উঠে যাবে।

আপনিও ভাববেন, মনে প্রশ্ন জাগবে, এও সম্ভব? বিস্তারিত জানতে আপনিও তাহলে ঝটপট পড়ে ফেলুন এই প্রতিবেদনটি। আজ এই প্রতিবেদনে আলোচনা হবে পার্থ ঘোষকে (Partha Ghosh) নিয়ে। যিনি এক সময়ে পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য (Buddhadeb Bhattacharjee) থেকে শুরু করে বাংলার বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ব্যক্তিগত দেহরক্ষী (BodyGuard) ছিলেন। তবে শুধুমাত্র প্রেমিকার একটা মাত্র কথাতেই পার্থবাবু এমন এক কাজ করেছেন যা শুনে সকলেই থ হয়ে গিয়েছেন।

   

প্রেমিকার একটা মাত্র কথাতেই কলকাতা পুলিশের (Kolkata Police) উচ্চপদস্থ চাকরি ছাড়তে দ্বিতীয়বার ভাবেননি পার্থ ঘোষ। কী শুনে চমকে গেলেন তো? কিন্তু এটাই একদম সত্যি। পার্থ ঘোষ ও তাঁর প্রেমিকার প্রেম কাহিনী, যে কোনও বলিউড, টলিউড সিনেমার গল্পকেও হার মানাবে বৈকি। জানা যায়, একই স্কুলে পড়াশোনা করেছেন পার্থ ঘোষ ও তৃণা ঘোষ। পার্থ তৃণার থেকে ৬ বছরের বড়। সালটা ছিল ২০০৮। তৃণা তখন সদ্য মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়ে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছেন।

অন্যদিকে পার্থ ঘোষ তখন কলকাতা পুলিশে ইতিমধ্যে কর্মরত। পথে আসা যাওয়ার মাঝে প্রায়শই দেখা হত দুজনের। এরপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আলাপচারিতাও দুজনের মধ্যে বাড়তে থাকে। একদিন আর পাঁচটা মেয়ের মতোই টিউশন পড়তে গিয়েছিলেন তৃণা। এরপর টিউশন থেকে বাড়ি ফেরার সময়ে সে এক ভয়ঙ্কর ঘটনার মুখোমুখি হয়। পাড়ার বেশ কিছু বখাটে ছেলে তৃণাকে সেই সময়ে ঘিরে ধরে। তৃণা স্বাভাবিকভাবেই বুঝতে পারে যে সে মহা বিপদে পড়ে গেছে। ভয়ে রীতিমতো কাঁপতে শুরু করেন বছর ১৬-র তরুণী তৃণা।

এরপর যা ঘটে তা কেউ হয়তো কল্পনাও করতে পারবেন না। ওরকম পরিস্থিতির মাঝেও শান্ত থেকে তৃণা একজনের জামার কলার ধরে ফেলেন। যদিও আশেপাশের জনতা তামাশা দেখতে রীতিমতো ব্যস্ত। তবে সেই সময়েই একদম সিনেমার হিরোর মতো এন্ট্রি নেন পার্থ ঘোষ। একাই সেই সময়ে সকল দুষ্কৃতীদের সঙ্গে মোকাবেলা করে তৃণাকে উদ্ধার করেন পার্থ। তাঁর সাহস দেখে মুগ্ধ হয়ে যান তৃণা। এরপর যা হয় আর কি, বন্ধুত্ব প্রেম অবধি গড়াতে বেশি সময় নেয়নি।

এদিকে পার্থ ছোট থেকেই কিন্তু সেনা বা পুলিশে চাকরি করার স্বপ্ন দেখতেন। সেই স্বপ্নপূরণও কিন্তু হয়ে যায় ২০০৮ সালে। এরপর নিজের মেধার ওপর ভর করে কলকাতা পুলিশের উচ্চপদে চাকরি অবধি পেয়ে যান পার্থ। তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, এরপর বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত দেহরক্ষী হিসেবে কাজ করেছেন বহুদিন। ওদিকে তৃণার বাড়ির লোকের দাবি ছিল, পুলিশে চাকরি করা ছেলের সঙ্গে কিছুতেই মেয়ের বিয়ে দেওয়া হবে না। এরপর এই কথা তৃণা জানায় পার্থকে।

সেইসময়ে রীতিমতো পার্থর মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। শেষমেষ তৃণাকে বিয়ে করতে পুলিশের চাকরি ছেড়ে দেন পার্থ। এরপর যেন নতুন করে পথচলা শুরু হয় পার্থর। শুরু করেন পড়াশোনা। ইউপিএসসি (Union Public Service Commission) পাশ করে ফেলেন পার্থ। এরপর ২০১৬ সালে রেভিনিউ ইন্সপেক্টর হিসেবে ল্যান্ড ডিপার্টমেন্টে যোগদান করেন পার্থ ঘোষ। আজ সেই পার্থ ও তৃণাই চুটিয়ে সংসার করছেন।

বিগত ৭ বছর ধরে সাংবাদিকতার পেশার সঙ্গে যুক্ত। ডিজিটাল মিডিয়ায় সাবলীল। লেখার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার নেশা।

সম্পর্কিত খবর