দুর্নীতির সঙ্গে আপোস না করে ছাড়েন WBCS-র চাকরি! চমকে দেবে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের অতীত

বর্তমানে শিরোনামে রয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Abhijit Gangopadhyay)। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন তিনি। সময়ের আগে অবসর এবং রাজনীতিতে যাওয়ার ঘোষণা করে সকলকে চমকে দিয়েছেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। গঙ্গোপাধ্যায় এবার রাজনৈতিক ইনিংস শুরু করতে চলেছেন। আগামী ৭ মার্চ বিজেপিতে যোগ দেবেন তিনি বলে খোদ জানিয়ে দিয়েছেন।

কিন্তু অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের জীবন নিয়ে জানেন কিছু? অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় কলকাতার ‘মিত্র ইনস্টিটিউশন’ (মেইন) থেকে স্কুলের পড়াশোনা শেষ করেন। এরপর তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজরা আইন কলেজ থেকে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন। একই সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ‘অমিত্রা চন্দ্র’ বাংলা থিয়েটারের সঙ্গেও। মিশন দুর্নীতি দমনকে পাখির চোখ করে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় আইনজীবী হিসেবে আদালতে নিজের ইনিংস শুরু করেন। তিনি দীর্ঘদিন এসএসসি মামলার আইনজীবী ছিলেন। এরপর ন্যাশনাল ইনসিওরেন্সের মামলায় লড়েছেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এরপর ২০১৮ সালে কলকাতা হাইকোর্টে অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।

   

এরপর আসে ২০২০ সাল, যখন ২০ জুলাই হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। জীবনের শুরুর দিনে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় ডাব্লিউবিসিএস (West Bengal Civil Service) অফিসার হিসেবে উত্তর দিনাজপুরে পোস্টিং হন। এরপর দুর্নীতির সঙ্গে কোনওরকম আপস করবেন না বলে চাকরি ছারেন তিনি। মোটা মাইনের চাকরি ছেড়ে আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস শুরু করেন তিনি। অভিজিৎ উত্তর দিনাজপুর জেলার পশ্চিমবঙ্গ সিভিল সার্ভিসে ‘এ’ গ্রেড অফিসার হিসাবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। তবে এটাও মজার ব্যাপার যে, দুর্নীতির যে লড়াইয়ে আজ তিনি পদত্যাগ করেছেন, বহু বছর আগে সেই কারণেই তিনি একজন কর্মকর্তার চাকরি থেকে পদত্যাগ করেন। সেখান থেকেই কলকাতা হাইকোর্টে ঢুকে ওকালতি শুরু করেন অভিজিৎ। আইনজীবী হিসেবে ১০ বছর কাজ করেছেন তিনি।

২০১৮ সালের মে মাসে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে কলকাতা হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি করা হয়। ২০২০ সালের জুলাই মাসে তিনি কলকাতা হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসাবে উন্নীত হন। চলতি বছরের অগস্টে অবসর নেওয়ার কথা ছিল অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের। দুর্নীতি নিয়ে তাঁর বহু সিদ্ধান্ত ও মন্তব্য রাজ্যের রাজনীতিকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। দুর্নীতির মামলায় তিনি আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত দিতে থাকেন। তাঁর আইনী দিনগুলিতে, তিনি শিক্ষা সম্পর্কিত বিষয়গুলি সামনে রাখতেন এবং বিচারক হিসাবেও তিনি এই ক্ষেত্র সম্পর্কিত দুর্নীতির মামলায় রায় দিতেন।

abhijit

২০২১ সালের নভেম্বর থেকে অভিজিৎ শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তের জন্য বেশ কয়েকটি নির্দেশ জারি করেছিলেন। ২০২২ সালে অভিজিতের সিদ্ধান্তের ফলে ৭৬ বছরের এক স্কুল শিক্ষক ২৫ বছরের বকেয়া বেতন পান। এরপর ২০২২ সালেই একটি আদেশের কারণে ক্যান্সার রোগী মানবিক কারণে শিক্ষকের চাকরি পান। মঙ্গলবার ছিল কলকাতা হাইকোর্টে তাঁর শেষ দিন। মঙ্গলবার তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান। সম্প্রতি অভিজিৎ জানিয়েছিলেন, তিনি ‘বড় মাঠে’ যাচ্ছেন। পদত্যাগের কারণ জানতে চাইলে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘বর্তমান শাসক দলের অনেকেই আমাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। চ্যালেঞ্জের জন্যই আমি এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি। এজন্য আমি শাসক দলকে অভিনন্দন জানাতে চাই। ‘

বিগত ৭ বছর ধরে সাংবাদিকতার পেশার সঙ্গে যুক্ত। ডিজিটাল মিডিয়ায় সাবলীল। লেখার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার নেশা।

সম্পর্কিত খবর