নিত্যযাত্রীদের জন্য চরম সুখবর! শিয়ালদা শাখার এই লাইনে বাড়ছে ট্রেনের গতি, জানাল রেল

রেল (Indian Railways) ব্যবস্থার সঙ্গে দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে। প্রত্যেকদিন কয়েক লক্ষ মানুষ এই ভারতীয় রেলের ওপর চোখ বন্ধ করে ভরসা করেন এবং রোজ যাতায়াত করেন। লোকাল ট্রেন (Local Train), এক্সপ্রেস ট্রেন (Express Train) হোক বা প্যাসেঞ্জার ট্রেন, এখন সকলের ভরসার পাত্র হয়ে উঠেছে এই রেল ব্যবস্থা।

এদিকে সাধারণ মানুষের কথা ভাবনাচিন্তা করে ভারতীয় রেলও এক কথায় নিজেদের আপগ্রেড করে চলেছে। এবারও কিন্তু তার কোনওরকম ব্যতিক্রম ঘটল না। আপনিও যদি পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) বাসিন্দা হয়ে থাকেন তাহলে আপনার জন্য রইল রেলের তরফে রইল একটি বাম্পার সুখবর, যা শোনার পর আপনিও খুশিতে এক কথায় লাফিয়ে উঠবেন।

   

সম্প্রতি বাংলার একটি ট্রেন রুট নিয়ে বড় ঘোষণা করে পূর্ব রেল। আর এই ট্রেনলাইন বা রুটটি হল কৃষ্ণনগর-লালগোলা লাইন। জানা যাচ্ছে, যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে এবার পূর্ব রেল (Eastern Railways) কৃষ্ণনগর-লালগোলা (Krishnanagar Lalgola) লাইনের জলঙ্গী নদীর উপরে অবস্থিত ১৭এ নম্বর ব্রিজটি পুনর্নির্মাণ করছে। এই পুনর্নির্মাণের লক্ষ্য হল রেল চলাচলের নিরাপত্তায় উন্নতি এবং সেকশনে গতি বৃদ্ধি। অর্থাৎ এই ব্রিজটি যদি নতুন করে পুনর্নির্মাণ হয়ে যায় তাহলে কৃষ্ণনগর থেকে লালগোলা অবধি যাত্রার সময়সীমা আরও বেশ খানিকটা কমে যাবে।

কৃষ্ণনগর ও বাহাদুরপুর স্টেশনের মাঝে অবস্থিত সেতু নং ১৭ বা জলঙ্গি সেতুটি আগেকার দিনের ইস্পাতের গার্ডার দিয়ে তৈরি। ১৯০৫ সালে নির্মিত হয়েছে এই জলঙ্গি সেতুটি। যদিও কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পূর্ব রেলের তরফে এই ব্রিজটির সংস্করণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জানা যাচ্ছে, টেন্ডার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং ১৫০০ মিলিমিটার ব্যাস ও ৩৪.০৫ মিটার দৈর্ঘ্যের ৭২টি পাইলিংয়ের কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

jalangi

শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, আপ লাইনে এই জলঙ্গি সেতুর পুনর্নির্মাণ (নতুন সেতুটির স্প্যান ১ x১৮.৩ মিটার কম্পোজিট গার্ডার, ১ x৪৫.৭ মিটার ওপেন ওয়েব গার্ডার, ২ x৭৬.২ মিটার ওপেন ওয়েব গার্ডার এবং ১ x৩০.৫ মিটার ওপেন ওয়েব গার্ডার সহ) করার জন্য কিছু জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন যার জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় জমি রেলকে হস্তান্তর সম্পূর্ণ হলেই, কৃষ্ণনগর-লালগোলা সেকশনে ট্রেনের নিরবচ্ছিন্ন চলাচলের জন্য নতুন সেতুর নির্মাণ কাজ দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে জানা যাচ্ছে। এদিকে এই কাজটি যদি একবার সম্পন্ন হয়ে যায় তাহলে এর দরুণ উপকৃত হবেন যাত্রীরা।

বিগত ৭ বছর ধরে সাংবাদিকতার পেশার সঙ্গে যুক্ত। ডিজিটাল মিডিয়ায় সাবলীল। লেখার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার নেশা।

সম্পর্কিত খবর