হকারি করেন, লেখেন ছড়াও! শিয়ালদা-বনগাঁ লাইনের ‘হকার কবির’ কাহিনী কাঁদিয়ে ছাড়বে

ট্রেনে (Train) যাত্রা করতে কার না ভালো লাগে। আপনারও ভালো লাগে নিশ্চয়ই। লোকাল ট্রেন (Local Train) হোক বা দূরপাল্লার ট্রেন, ক্রমণের আনন্দ যেন দ্বিগুণ করে সেই যাত্রা। এদিকে ট্রেনে ভ্রমণ করার সময়ে নানা দৃশ্য দেখা থেকে শুরু করে বিভিন্ন অভিজ্ঞতা হয় রেল যাত্রীদের। দূরপাল্লার হোক বা লোকাল ট্রেন, একটা জিনিস কিন্তু কমন। আর সেটা হল হকার (Hawker’s)। হকার ছাড়া ট্রেনের যাত্রা যেন সকলের কাছে অসম্পূর্ণ লাগে। নানারকম খাবার থেকে শুরু করে জিনিসপত্র…. সবকিছু থাকে এই হকারদের কাছে। কিন্তু আজ এই প্রতিবেদনে এমন একজন হকারকে নিয়ে আলোচনা হবে যার নামের সঙ্গে ‘কবি’র তকমা জুটেছে। এখন তিনি সকলের কাছে ‘হকার কবি’ নামেই খ্যাত।

এই ‘হকার কবি’ জিনিসপত্র বিক্রি তো করেন, সেইসঙ্গে তিনি কবিতাও বলেন গড়গড় করে। যা শুনে একপ্রকার থ হয়ে যান ট্রেনে ভ্রমণ করা যাত্রীরা। হ্যাঁ একদম ঠিক শুনেছেন আপনি। আপনি যদি কখনো শিয়ালদহ-বনগাঁ (Sealdah Bongaon) শাখার ট্রেনে ওঠেন তাহলে এই মানুষটির দেখা পাবেন। তিনি কিন্তু একটা কাজেই থেমে থাকেন না।

   

যারা এই রুটে নিত্যযাত্রী তাঁরা জানবেন, দেগঙ্গার আমুলিয়া পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা শ্যামল দাঁ কখনো ফল তো কখনো বাচ্চাদের পোশাক বিক্রি করেন। পেটের দায়ে হকারিগিরি করলেও তাঁর নেশা কিন্তু কবিতা লেখা। এমনকি চলতি বছরের বইমেলাতে তাঁর লেখা ২৪ টি কবিতার সংকলন ‘খালের খেয়া’ বেশ উন্মাদনার সৃষ্টি করেছিল। শ্যামল বাবুর ইচ্ছা আগামী বছর ১০০ টি কবিতা নিয়ে বই প্রকাশ করার। হকারির মাঝে একটু ফাঁক পেলেই বসে পড়েন কলম কাগজ নিয়ে কবিতা লিখতে।

তবে এই মানুষটির গল্প শুনলে চোখে জল আসতে কিন্তু বাধ্য আপনারও। জানা যায়, ছোট থেকে অত্যন্ত দারিদ্রতার সাথে লড়াই করে বড় হতে হয়েছে শ্যামলবাবুকে। অষ্টম শ্রেণীতে পড়ার সময় অর্থের অভাবে পুজোর সময় জোটেনি নতুন জামা। সেই দুঃখকে সঙ্গে করে শ্যামল বাবু লেখেন জীবনের প্রথম কবিতা, ‘দূখির পুজো’।

এছাড়া আরো জানা যায়, টাকার অভাবে মাধ্যমিকের পর আর পড়াশোনা করতে পারেননি। কখনো দোকানে কাজ করে, আবার কখনো হকারি করেই চলেছে সংসার। তবে দারিদ্রতার মাঝেও নিজের কবিতা লেখার প্রতিভাকে মরতে দেননি কিন্তু তিনি। হকারি করার মাঝে মাঝেই ছন্দ মিলিয়ে বলে ওঠেন নিজের লেখা কবিতার লাইন। মজাও পান সকলে শুনেই। এখন তাঁর পরিচয় ‘হকার কবি।’
শ্যামল বাবুকে ‘হকার কবি’ বলেই ডেকে থাকেন এখন সকলে।

বিগত ৭ বছর ধরে সাংবাদিকতার পেশার সঙ্গে যুক্ত। ডিজিটাল মিডিয়ায় সাবলীল। লেখার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার নেশা।

সম্পর্কিত খবর