রেশন কার্ড নিয়ে বড় রায় হাইকোর্টের!

আজকের সময়ে দাঁড়িয়েও দেশে এমন অনেক পরিবার রয়েছে যারা অত্যন্ত দারিদ্রসীমার নীচে বাস করেন। যার জন্য সকলের কথা ভাবনাচিন্তা করে সরকার রেশন বিতরণ (Rationing) করে। কিন্তু ওই গরিব পরিবারগুলির রেশন তুলতে গেলে জরুরি হয় রেশন কার্ডের (Ration Card), আর যেটি দেয় খোদ সরকার। অনেক সময় কেন্দ্রীয় সরকার এ বিষয়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে।

এবার এই রেশন কার্ড নিয়ে বড় রায় দিল হাইকোর্ট (High Court)। হাইকোর্টের বক্তব্য, গণবণ্টন ব্যবস্থার আওতায় অত্যাবশ্যকীয় পণ্য গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে রেশন কার্ড ইস্যু করা হয়। এটি ঠিকানা বা বাসস্থানের প্রমাণ হিসাবে বিবেচনা করা যায় না। দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি চন্দ্র ধারী সিং কাঠপুতলি কলোনির প্রাক্তন বাসিন্দাদের পুনর্বাসন প্রকল্পের অধীনে বিকল্প বাসস্থানের আবেদনের শুনানি করার সময় বলেছিলেন যে এই প্রকল্পের আওতায় সুবিধা দাবি করার জন্য রেশন কার্ডের প্রয়োজনীয়তা স্বেচ্ছাচারী এবং বেআইনি।

   

আদালত নির্দেশে বলেছে, রেশন কার্ডের সংজ্ঞা অনুসারে এটি ইস্যু করার উদ্দেশ্য হ’ল ন্যায্য মূল্যের দোকানগুলির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা। এটি কোনও রেশন কার্ডধারীর বাসস্থান পরিচয় প্রমাণ হওয়ার সমতুল্য নয়। আদালত বলেছে যে রেশন কার্ডের উদ্দেশ্য হ’ল এই দেশের নাগরিকদের কাছে ন্যায্য মূল্যে খাদ্যশস্য সরবরাহ করা এবং গণবণ্টন ব্যবস্থার মাধ্যমে খাদ্য সামগ্রী বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ তা নিশ্চিত করা। কাঠপুতলি কলোনিতে বসবাসকারী বিভিন্ন বস্তিবাসীর নিজ নিজ ঝুপরির পরিবর্তে বিকল্প আবাসন ইউনিট চেয়ে দায়ের করা আবেদনের শুনানি চলাকালীন আদালত এই রায় দেয়।

কাঠপুতলি কলোনির প্রাক্তন বাসিন্দাদের দায়ের করা আবেদনের শুনানিতে দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি চন্দ্র ধারী সিং পুনর্বাসন পরবর্তী পুনর্বাসন প্রকল্পের অধীনে বিকল্প বাড়ির দাবিতে পিডিএস কাগজপত্রের ব্যবহার স্বেচ্ছাচারী এবং অবৈধ বলে অভিহিত করেছেন। বিচারপতির এহেন মন্তব্যকে নজিরবিহীন বলছেন অনেকে। আদালত তার আদেশে বলেছে, রেশন কার্ড দেওয়ার উদ্দেশ্য হল প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য সঠিক দামে বিতরণ করা। সুতরাং এটি কোনও রেশন কার্ডধারীর বসবাসের পরিচয় প্রমাণ হতে পারে না।

delhi hc

রেশন কার্ডের পরিধি খাদ্য সামগ্রী বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ বলে উল্লেখ করে আদালত বলেছে যে এটি ঠিকানার প্রমাণের নির্ভরযোগ্য উত্স নয়। আবেদনকারীরা আদালতকে বলেছিলেন যে কর্তৃপক্ষ ২০১৫ সালে আকস্মিকভাবে যোগ্যতার মানদণ্ড পরিবর্তন করেছিল। সরকার ভুলভাবে বস্তির দোতলার বাসিন্দাদের জন্য একটি পৃথক রেশন কার্ডের প্রয়োজনীয়তা বাধ্যতামূলক করেছিল।

 

বিগত ৭ বছর ধরে সাংবাদিকতার পেশার সঙ্গে যুক্ত। ডিজিটাল মিডিয়ায় সাবলীল। লেখার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার নেশা।

সম্পর্কিত খবর