প্রজাদের দেওয়া হয় সাজা, চলে রাজতন্ত্র! বাংলার এই গ্রামে আছে একদিনের রাজা

বাংলায় রাজতন্ত্রের অবসান ঘটেছে কয়েক দশক আগে। কিন্তু আপনি কি জানেন যে বাংলায় এমন একটি জায়গা আছে যেখানে একদিনের জন্য রাজতন্ত্র চলে? এখানে একদিনের জন্য রাজা অবধি আসেন। রাজাকে দেখে সকলেই প্রণাম ঠোকেন। এই দৃশ্য দেখলে আপনারও মনে হবে যেন কয়েক যুগ পিছিয়ে গিয়েছেন আপনি। কী শুনে চমকে গেলেন তো? তবে এটাই সত্যি।

আরও বিস্তারিত জানতে আজকের এই প্রতিবেদনটি পড়ে ফেলুন। এই গ্রামের দৃশ্য ও নিয়ম দেখলে আপনার মনে হবে ঠিক যেন বলিউড সিনেমা, অনিল কাপুর অভিনীত ‘নায়ক’ সিনেমা দেখছেন। সেখানে যেমন একদিনে জন্য অনিল কাপুরকে একদিনের জন্য মুখ্যমন্ত্রী করা হয়েছিল, বাংলার এক গ্রামে একদিনের জন্য রাজা আসেন। বিগত ১০০ বছর ধরে এক নিয়ম লাগু হয়ে আসছে পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রাম থানার বহরান গ্রামে। ১০ বছর অন্তর গ্রামে জয়দূর্গা পুজোর দিন একদিনের জন্য এই গ্রামে ফিরে আসে রাজতন্ত্র। ব্রাহ্মণ বাড়ীর এক সদস্যকে রাজা সজিয়ে ঘোড়ার গাড়িতে চাপিয়ে সৈন্যসামন্ত সঙ্গে করে নিয়ে রাজত্ব তথা গ্রাম পরিদর্শনে বের করা হয়। থাকেন প্রজারাও, অর্থাৎ সাধারণ গ্রামবাসী। এমনকি কেউ যদি দোষ করে থাকেন তাহলে তাঁকে সাজাও দেওয়া হয়।

   

না না চমকাবেন না, এই সাজা সেই সাজা নয়। রাজ রাজাদের রাজত্বকালে সাজা মানে ছিল হয় সকলের সামনে চাবুক দিয়ে মারা নয়তো মৃত্যুদণ্ড। কিন্তু এখন সেসব পাট নেই। এখন যদি কেউ দোষ করে থাকেন তাহলে সেই অনুযায়ী জরিমানা করা হয়।

এখন আপনিও নিশ্চয়ই ভাবছেন যে একদিনে জন্য রাজা কে হন? তাহলে এ বিষয়ে আপনাদের জানিয়ে রাখি, অম্বিকা প্রসাদ চট্টরাজকে বিগত বহু বছর ধরে রাজা করা হয়। তিনি জানান, সেই ১৫ বছর বয়স থেকে ১০ বছর অন্তর একদিনের জন্য নকল রাজা হয়ে আসছেন তিনি। এখন তাঁর বয়স আশি পেরিয়ে গিয়েছে। একদিন রাজা হতে পেরে তিনি খুবই খুশি।

এদিকে গ্রামের প্রজারাও তাঁকে রাজা হিসাবে সম্মান দেয়। রয়েছে কিছু নিয়ম, যেমন কেউ ঘুম থেকে উঠতে দেরি করলেও তাঁকে  দিতে হয় জরিমানা। রাজার সামনে ধূমপান করলে তার তো রেহাই নেই। মোটা টাকার জরিমানা দিতে হয় তাঁকে। রাজার রাজস্বে যা যা জমা হয় তার সবটাই পুজোর কাজে লাগে। প্রতি দশ বছর অন্তর এই জিনিসটি হয়।

বিগত ৭ বছর ধরে সাংবাদিকতার পেশার সঙ্গে যুক্ত। ডিজিটাল মিডিয়ায় সাবলীল। লেখার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার নেশা।

সম্পর্কিত খবর