ফের ভয়াবহ জঙ্গি হানায় কেঁপে উঠল পাকিস্তান! জ্বলছে দেশের দ্রিতিয় বৃহত্তম নৌসেনা ঘাঁটি

ফের একবার ভয়ানক হামলায় কেঁপে উঠল পাকিস্তান। এমনিতেই একাধিক সমস্যায় জর্জরিত রয়েছে ভারতের এই প্রতিবেশী দেশ। এদেশে যেন সমস্যাই মিটতেই চাইছে না। এমনিতে তো দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা একপ্রকার তলানিতে গিয়ে ঠেকেছেম অন্যদিকে সরকারে কোনোরকম হেলদোল না থাকায় দেশবাসীর অবস্থা এক কথায় করুণ হয়ে গেছে। তবে এরই মাঝে দেশে ভয়ানক হামলার ঘটনা ঘটে গেল।

প্রাণের ভয়ে এদিক সেদিক দিগ্বিদিকশূন্য হয়ে ছুটে চলেছেন মানুষ। জানা গিয়েছে, এবার জঙ্গিরা সেখানকার দ্বিতীয় বৃহত্তম নৌ ঘাঁটিতে মারণ হামলা চালিয়েছে। মুহুর্মুহু গুলি ও বোমা বিস্ফোরণে কেঁপে উঠছে পাকিস্তান। বেলুচিস্তানের তুরবাতে অবস্থিত পিএনএস সিদ্দিকি নেভাল এয়ার স্টেশনে এ হামলা চালানো হয়। নিষিদ্ধ ঘোষিত বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মির (বিএলএ) মজিদ ব্রিগেড তুরবাতে নৌঘাঁটিতে হামলার দায় স্বীকার করে নিয়েছে ইতিমধ্যে।

   

একাধিক রিপোর্ট অনুযায়ী জানা যাচ্ছে, বিএলএ দাবি করেছে যে তাদের যোদ্ধারা বিমানঘাঁটিতে প্রবেশ করেছে। মজিদ ব্রিগেড বেলুচিস্তান প্রদেশে মূলত চিনা বিনিয়োগের বিরোধিতা করে এবং চিন ও পাকিস্তানকে এই অঞ্চলের সম্পদ শোষণের জন্য অভিযুক্ত করেছে। এই বিমানঘাঁটিতে চিনের ড্রোনগুলি রয়েছে। আর এগুলি ধ্বংস করাই বিএলএ-র অন্যতম লক্ষ্য বলে জানা যাচ্ছে।

তুরবাতের সর্বশেষ হামলাটি বিএলএ মাজিদ ব্রিগেডের সপ্তাহের দ্বিতীয় এবং এ বছর তৃতীয় হামলা। এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি তারা গোয়াদর লক্ষ্য করে হামলা চালায়, যেখানে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা রয়েছে। এরপর ২০ মার্চ তুরবতের দ্বিতীয় বৃহত্তম নৌঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়। এই বিষয়ে ইতিমধ্যে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ সম্পর্ক (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আট জঙ্গির একটি দল পোর্ট অথরিটি কলোনিতে প্রবেশের চেষ্টা করে, কিন্তু নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা জঙ্গিদের রুখে দেয়।

গোয়াদর বন্দরটি চিন দেশের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের (সিপিইসি) একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং অবস্থান। চিন এখানে বছরের পর বছর ধরে কয়েকশো কোটি ডলারের সড়ক ও জ্বালানি প্রকল্প নির্মাণ করছে। এটি বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভেরও (বিআরআই) অংশ তবে বেলুচিস্তানের জনগণ এটিকে চিন সম্পদ দখল হিসাবে দেখছে। বালুচের অভিযোগ, গোয়াদারে চলমান চীনা প্রকল্প থেকে পাকিস্তান নয়, চিন উপকৃত হবে। একারণে সাধারণ মানুষকে চরম উপেক্ষা করা হচ্ছে।

বিগত ৭ বছর ধরে সাংবাদিকতার পেশার সঙ্গে যুক্ত। ডিজিটাল মিডিয়ায় সাবলীল। লেখার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার নেশা।

সম্পর্কিত খবর